বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও প্রাথমিক শিক্ষার পরিপ্রেক্ষিত

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করা।
সাদিয়া জেরিন
  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায়। সবার জন্য উন্নত এবং টেকসই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হলো জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০। এসডিজিতে মোট ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা এবং ৪৭টি সূচক রয়েছে- যার ৪নং লক্ষ্যমাত্রায় মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টি উলেস্নখ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাপূর্ণ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করাই মূলত লক্ষ্যমাত্রা ৪-এর উদ্দেশ্য। আরও নির্দিষ্ট করে বললে লক্ষ্যমাত্রা ৪-এর টার্গেট ৪.১-এ উলেস্নখ আছে: ইু ২০৩০, বহংঁৎব :যধঃ ধষষ মরৎষ ধহফ নড়ু পড়সঢ়ষবঃব ভৎবব বয়ঁরঃধনষব ধহফ য়ঁধষরঃু ঢ়ৎরসধৎু ধহফ ংবপড়হফধৎু বফঁপধঃরড়হ ষবধফরহম :ড় ৎবষবাধহঃ ধহফ বভভবপঃরাব ষবধৎহরহম ড়ঁঃ পড়সবং অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে সব ছেলে ও মেয়ে যাতে প্রাসঙ্গিক, কার্যকর ও ফলপ্রসূ অবৈতনিক, সমতাভিত্তিক ও গুণগত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে তা নিশ্চিত করা। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষিত জাতি গঠন অপরিহার্য। গত এক দশকে প্রাথমিক শিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে। শিক্ষাকে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষায় রূপান্তরিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে নানাবিধ উদ্যোগ। প্রাথমিক শিক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে এবং শিশুদের মানসম্মত বিকাশ ও পরিচর্যার নিশ্চয়তা দিতে চালু করা হয়েছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে গমন বয়সি শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে শ্রেণিকক্ষকে ক্রীড়াসামগ্রী, শিক্ষা উপকরণ সহযোগে চিত্তাকর্ষক করা হয়েছে। উলেস্নখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তির হার শতভাগ উন্নীত করা গিয়েছে। অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করতে স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল জোরালো ভূমিকা রেখেছে। অভিভাবকের শ্রেণি, পেশা নির্বিশেষে সব ছাত্রছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি কার্যক্রম, বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ছাত্র ছাত্রীদের জন্য প্রণীত হয়েছে স্ব স্ব মাতৃভাষার বই- যা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। যেহেতু প্রাথমিক বিদ্যালয় সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা স্তর, সেহেতু প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠদানে যুগোপযোগী পাঠদান জরুরি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বাস্তবায়ন করে ছাত্রছাত্রীদের শিখন কার্যক্রম সহজতর ও আধুনিক করা হয়েছে। শ্রেণি কক্ষে ছাত্র-শিক্ষকের পারস্পরিক যোগাযোগ, প্রশ্নোত্তর, সৃজনশীল পদ্ধতি প্রাথমিক স্তরে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। যে কোনো শিক্ষার মূল লক্ষ্য বৃহৎ পরিসরে উন্নয়ন নিশ্চিত করা। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীর সমান অংশগ্রহণ, ঝরে পড়া রোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেষ্ট থেকে, সামাজিক সহিংসতা দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে আমরা আমাদের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করে চলেছি। এক্ষেত্রে উলেস্নখ করা যেতে পারে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, সুপেয় পানি নিশ্চিত করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নানামুখী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সামাজিক উন্নয়ন মাপকাঠিতে জোরালো ভূমিকা রাখছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ভবন, শ্রেণিকক্ষ, দৃষ্টিনন্দন মাঠ, ফুলের বাগান- যা শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে জোরালো ভূমিকা রেখে চলেছে। ছাত্র, শিক্ষকের যথাযথ অনুপাত নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ আনয়নে গুণগত প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করা। ১৯৭২ সালে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের ১৭নং অনুচ্ছেদে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে লিপিবদ্ধ করা আছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ৩৬ হাজার ১৬৫ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে গত এক দশকে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় উলিস্নখিত মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে উদ্ভাবনী চর্চা বৃদ্ধি, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধসহ নানামুখী উদ্যোগ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণমূলক সামাজিক প্রেক্ষাপট, জেন্ডার সমতা, সমাজের অনগ্রসর, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহই সংকেত দিচ্ছে সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা অর্জন অসম্ভব কোনো বিষয় নয়। ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, সচেতন মহল, সুশীলসমাজ সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মানসম্মত শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে। সাদিয়া জেরিন: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে