বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিক্ষক হোক শিক্ষার্থীবান্ধব

নতুনধারা
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
শিক্ষক জাতি গড়ার কারিগর। বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম- তাদের একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্য নিয়ে আসা ও সম্পদে রূপান্তরিত করতে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারণ শিক্ষকদের হাত ধরেই একজন শিক্ষার্থী আগামীর সুনাগরিক এবং সম্পদে পরিণত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে একজন শিক্ষার্থী। কারণ পিতা-মাতার পর সন্তানের শিক্ষা অর্জনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো শিক্ষকরাই। পিতা-মাতার দায়িত্ব থাকে সন্তানদের বড় করা। আর তাদের ভালো মানুষ এবং দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে একজন শিক্ষক। দেশকে বিভিন্নভাবে বিশ্বের দরবারে যে বা যারা রিপ্রেজেন্ট করে যাচ্ছে, তাদের পিছনে কোনো না কোনো শিক্ষকের অবদান রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক কেমন হওয়া প্রয়োজন? অতীত ও বর্তমান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে শিক্ষকদের মধ্যে একটা বড় তফাৎ পরিলক্ষিত হয়। বর্তমান শিক্ষকদের মধ্যে আগের সেই চাঞ্চল্য খুঁজে পাওয়া যায় না। অতীতে যারা একটি জাতি গড়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করতেন, এখন সেই উদ্দীপনা বেশির ভাগ শিক্ষকদের মধ্যে এক প্রকার নেই বললেই চলে। প্রাইমারি লেভেলের শিক্ষকদের বর্তমান সময়ে করুণ অবস্থা। তারা মাস শেষে বেতন গুনতে পারলেই চলে। অথচ একজন শিক্ষার্থীর ভিত্তি মজবুত থেকে শুরু করে জীবনের যা শৃঙ্খলা শেখার কথা তার প্রথম ধাপ হলো প্রাইমারি শিক্ষা। কিন্ডারগার্টেন স্কুলে কিছুটা এসব শিক্ষা দেওয়া হলেও, বেহাল দশা সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোর। এমন অনেক নিউজও পত্রিকার পাতা খুললে দেখা মেলে, যে কিনা একজন সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। অথচ বছরজুড়ে স্কুলে তার নেই কোনো উপস্থিতি। সরকার প্রদত্ত যাবতীয় সুবিধা সে মাসের পর মাস ভোগ করে যাচ্ছে। এই যদি হয় একজন প্রাইমারি শিক্ষিকার অবস্থা। তাহলে একজন শিক্ষার্থী প্রাইমারি লেভেল থেকে কীভাবে নিজের ভালোটুকু অর্জন করতে সক্ষম হবে! যেখানে শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য অধিকার অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী জ্ঞানের পরিধি বাড়ানো এবং নিজেকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তৈরি করে। তবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একজন শিক্ষার্থীকে সেভাবে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারছে না। যার মূল কারণ- শিক্ষকদের অনিয়ম, অবহেলা লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি ও গবেষণা রিলেটেড পড়া বাদ দিয়ে গদবাঁধা পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা। একজন শিক্ষার্থী চায় শিক্ষক হোক শিক্ষার্থীবান্ধব। শিক্ষক ছাত্রের অবস্থা বুঝুক। এমনও হয়, শিক্ষক ক্লাসে গদবাঁধা জ্ঞানদান করেই যাচ্ছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, শিক্ষার্থীরা সেই সব বুঝতেছে কিনা, সেদিকে শিক্ষক কোনো ধরনের ভ্রম্নক্ষেপই করেন না। ক্লাসে যা পড়ানো হয়, সেই পড়া যদি শিক্ষার্থীর মনে বিরক্তিকর পরস্থিতি সৃষ্টি করে, তাহলে শিক্ষকের গদবাঁধা জ্ঞানদান শিক্ষার্থীর কাছে এক প্রকার বৃথা ছাড়া কিছুই নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বেশির ভাগ শিক্ষকদের দেখা যায়, ওনাদের সঙ্গে কথা বলতে অথবা যে কোনো পরামর্শ নিতে শিক্ষার্থীর মনে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষকদের মনোনিবেশ করতে হবে একজন শিক্ষার্থী কি চায়? কীভাবে পড়ালে তারা সহজে বুঝবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বন্ধন তৈরি করতে হবে। যেটির মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ছাড়া শিক্ষকদের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় যে কোনো কিছু শিখতে এবং পরামর্শ নিতে পারবে। এতে তৈরি হবে ছাত্র-শিক্ষকের একটি সুন্দর সম্পর্ক। যা শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। মাইন উদ্দীন হাসান শিক্ষার্থী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে