সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

দেয়াল ধসে শিশুর মৃতু্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

নতুনধারা
  ০২ এপ্রিল ২০২৩, ০০:০০

যতই দিন যাচ্ছে সমাজে শিশুরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। কেবল নির্যাতন নয়, শিশুহত্যার সংখ্যাও বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। এ ছাড়াও পানিতে ডুবে, দেয়াল চাপাসহ নানাভাবে শিশুর মৃতু্য হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, গাজীপুরে নির্মাণাধীন ভবনের তিন তলার দেয়াল ধসে পাশের টিনশেড বাড়ির উপর পড়ে মো. মুশফিক (৪) নামে এক শিশুর মৃতু্য হয়েছে। এ সময় ওই শিশুর মাসহ গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ঢাকার সাভারে দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। বয়সে এক বছরের ছোট-বড়। দুজনের বাসা পাশাপাশি। খেলার সঙ্গী তারা। কটূক্তি করায় একদিন খেলার একপর্যায়ে মো. শাওনকে (১০) গলা টিপে হত্যা করে তারই বন্ধু ১১ বছর বয়সি আরেক শিশু। এরপর সে লাশটি বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয়। ওই ভয়ানক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে। এখানেই শেষ নয়, সাতক্ষীরা সদর থানার হাওয়ালখালী গ্রামের সোহাগ হোসেন ও ফতেমা দম্পতি অত্যন্ত দরিদ্র। তাদের ১৫ দিনের ছেলেসন্তান ঘুমিয়ে থাকা মায়ের পাশ থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে চুরি হয়ে গেছে বলে প্রচার করা হয়। ঘটনার পরপরই তদন্ত কাজ শুরু করে পুলিশ। কয়েক দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। শিশুটির বাবা-মায়ের স্বীকারোক্তি মতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর তাদের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত শিশুটির বাবার চাপে মা শিশুটিকে হত্যা করে টয়লেটের ট্যাংকে ফেলে দেন। হত্যার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, শিশুটি জন্মের পর থেকে অসুস্থ। হার্ট ও কিডনিতে সমস্যা। শিশুটিকে বড় করতে গেলে নিজেরা অসুবিধায় পড়বেন ভেবে পরিকল্পিতভাবে দুজন মিলে তাকে হত্যা করে। এ সব ঘটনা পাশাপাশি দাঁড় করালে কী দাড়ায়?

বলার অপেক্ষা রাখে না, এ ধরনের বর্বরোচিত নিষ্ঠুর ঘটনা এর আগেও বেশ কয়েকটি ঘটেছে। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এ ধরনের জঘন্য প্রবণতা রোধ করতে না পারলে একদিকে যেমন সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে অন্যদিকে শিশুরাও থাকবে নিরাপত্তাহীন। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনবে। সুতরাং সময় থাকতেই সাবধান হওয়া সমীচীন।

এটা সত্য, সমাজের একশ্রেণির বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে। এমনকি শিশুর জীবনও চলে যাচ্ছে। সমাজে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঠুনকো কারণে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। আপনজনের হাতেও শিশুর জীবন চলে যাচ্ছে। কেবল তাই নয়- আমাদের কোমলমতি শিশুরা অবলীলায় নির্যাতন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। অথচ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজ তথা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কান্ডারি। শিশুর সুস্থ বিকাশ কীভাবে হবে, কীভাবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে- এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের নতুনভাবে ভাবা উচিত।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে