রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯

নবম-দশম শ্রেণির রসায়ন

হাবিবুর রহমান বাপ্পা সহকারী শিক্ষক, শহীদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট য়
  ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর ৩ .অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার তাৎপর্য লেখো। উত্তর : অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার তাৎপর্য নিম্নরূপ- ১. কোনো পদার্থের গ্রাম আণবিক ভর থেকে ওই পদার্থের একটি অণুর ভর নির্ণয় করতে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা ব্যবহৃত হয়। ২. কোনো মৌলের গ্রাম পারমাণবিক ভর থেকে একটি পরমাণুর ভর নির্ণয় করতে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা ব্যবহৃত হয়। ৪ . অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা অনুযায়ী আণবিক ভরের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করো। উত্তর : কোনো মৌল বা যৌগের সংখ্যক অণুর ভর গ্রামে যত হয়, ভরের সেই সংখ্যাকে ওই মৌল বা যৌগের আণবিক ভর বলে। যেমন : সংখ্যক অক্সিজেন অণু থাকে = ৩২ গ্রাম অক্সিজেনে। অক্সিজেনের আণবিক ভর = ৩২। ৫ . ঘঞচ-তে ৫.৬ লিটার অ্যামোনিয়ার মধ্যে কয়টি ঘ পরমাণু ও কয়টি ঐ পরমাণু আছে? উত্তর : ঘঞচ-তে ২২.৪ লিটার অ্যামোনিয়ার মধ্যে অণুর সংখ্যা =৬. ০২দ্ধ১০২৩টি \হঘঞচ তে ৫.৬ খ" " " " " =(৬. ০২দ্ধ১০২৩ দ্ধ ৫.৬) / ২২.৪ =১.৫০৫দ্ধ১০২৩টি \হআবার, ১টি ঘঐ৩ অণুর মধ্যে তিনটি ঐ পরমাণু আছে। \হঐ পরমাণুর সংখ্যা =(১.৫০৫দ্ধ১০২৩ দ্ধ ৩)টি \হ= ৪.৫১দ্ধ১০২৩টি \হআবার, ১টি ঘঐ৩ অণুতে ১টি ঘ পরমাণু আছে। ঘ পরমাণুর সংখ্যা =১.৫০৫দ্ধ১০২৩টি। ৬ . ২.৭ম তরল অ্যামোনিয়াকে বাষ্পীভূত হতে দিলে তা আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে ৩.৫৫৭ ষরঃৎব আয়তন দখল করে। অ্যামোনিয়ার আণবিক ভর বের করো। উত্তর : ৩.৫৫৭ ষরঃৎব অ্যামোনিয়া গ্যাসের ভর = ২.৭ম ১ ষরঃৎব " " " =২.৭ /৩.৫৫৭ ম ২২.৪ খ" " " = ২.৭ দ্ধ২২.৪ /৩.৫৫৭ ম = ১৭ম যেহেতু আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে ১ সড়ষব গ্যাসের আয়তন = ২২.৪ ষরঃৎব; তাই এ ক্ষেত্রে ১ সড়ষব অ্যামোনিয়া = ১৭ম। অর্থাৎ, অ্যামোনিয়ার আণবিক ভর = ১৭। ৭. আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে ৫০ম ঈঙ২ গ্যাসের আয়তন কত? উত্তর : ঈঙ২ গ্যাসের আণবিক ভর = ঈ-এর পারমাণবিক ভর দ্ধ ১ + ঙ-এর পারমাণবিক ভর দ্ধ ২ = ১২ দ্ধ ১ + ১৬ দ্ধ ২= ৪৪ ঈঙ২ গ্যাসের ১সড়ষব = ৪৪ম আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে ৪৪ম ঈঙ২ এর আয়তন = ২২.৪ ষরঃৎব আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে ৫০ম ঈঙ২-এর আয়তন =৫০দ্ধ২২.৪/ ৪৪ ষরঃৎব \হ= ২৫.৪৫ ষরঃৎব ৮. একটি পানির অণুর ভর কত? উত্তর : পানির আণবিক ভর = ১৮। আমরা জানি, সকল পদার্থের ১সড়ষব-এ অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার (ঘঅ) সমান সংখ্যক অর্থাৎ ৬. ০২দ্ধ১০২৩টি অণু থাকে। সুতরাং, ১ সড়ষব পানি = ১৮ম পানি। ৬. ০২দ্ধ১০২৩টি পানির অণুর ভর = ১৮ম ১ " " " " = ১৮স্ট(৬. ০২দ্ধ১০২৩ )ম = ২.৯৯দ্ধ১০-২৩ ম। ৯ . এক গ্রাম পানিতে কতটি অণু আছে? উত্তর : পানির ১ সড়ষব = ১৮ম পানি আমরা জানি, যে কোনো বস্তুর ১ সড়ষব পরিমাণে ৬. ০২দ্ধ১০২৩ সংখ্যক অণু বিদ্যমান অর্থাৎ, ১৮ম পানিতে আছে =৬. ০২দ্ধ১০২৩টি অণু ১ম " " =(৬. ০২দ্ধ১০ ২৩ )স্ট১৮ = ৩.৩৪৬দ্ধ১০-২২টি অণু ১০. ১ম হীরকে কয়টি কার্বন পরমাণু বিদ্যমান? উত্তর : হীরক কার্বনের একটি রূপভেদ। কার্বনের পারমাণবিক ভর = ১২ সুতরাং ১ সড়ষব হীরক বা কার্বন = ১২ম কার্বন। ১২ম হীরকে আছে =৬. ০২দ্ধ১০-২৩টি কার্বন পরমাণু ১ " " = (৬. ০২দ্ধ১০-২৩ )ী১২ " " " =৫.০২দ্ধ১০২৪টি কার্বন পরমাণু। ১১. [ঋব২(ঝঙ৪)৩ ] অণুতে মোট পরমাণুর সংখ্যা কত? উত্তর : [ঋব২(ঝঙ৪)৩ ] অণুটি ঋব ও ঝঙ৪ দ্বারা গঠিত। ঋব দ্বারা বোঝা যায় ২টি ঋব পরমাণু। ঝঙ৪ দ্বারা বোঝা যায় ১টি ঝ এবং ৪টি ঙ পরমাণু। সুতরাং, (ঝঙ৪)৩ দ্বারা বোঝা যায়, (১ + ৪) দ্ধ ৩ অর্থাৎ ১৫টি পরমাণু। অতএব, [ঋব২(ঝঙ৪)৩ ]-তে মোট পরমাণুর সংখ্যা = ২+ ১৫ = ১৭টি। ১২. গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন হিসাব করার সময় চাপ ও তাপমাত্রা উলেস্নখ করতে হয় কেন? উত্তর : গ্যাসের আয়তন চাপ ও তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল বলে গ্যাসীয় পদার্থের চাপ ও তাপমাত্রা উলেস্নখ করতে হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাস করলে পদার্থের আয়তনও বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। অন্যদিকে, চাপ বৃদ্ধি করলে গ্যাসের আয়তন হ্রাস পায়। অর্থাৎ তাপমাত্রা ও চাপ পরিবর্তনে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন পরিবর্তিত হয়। তাই গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন হিসাব করার সময় চাপ ও তাপমাত্রা উলেস্নখ করতে হয়। ১৩. স্থূল সংকেত থেকে আণবিক সংকেত নির্ণয় করতে হলে আণবিক ভর প্রয়োজন হয় কেন? উত্তর : যৌগের মোট আণবিক ভর তার স্থূল সংকেতের আণবিক ভরের সরল গুণিতক বলে স্থূল সংকেত থেকে আণবিক সংকেত নির্ণয় করতে হলে আণবিক ভর প্রয়োজন হয়। স্থূল সংকেত দ্বারা যৌগের অণুতে বিদ্যমান পরমাণুসমূহের অনুপাত প্রকাশ পায়। পরমাণুসমূহের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায় আণবিক সংকেত থেকে। অর্থাৎ স্থূল সংকেত ঈঐ হলে আণবিক সংকেত (ঈঐ)হ। তাই যৌগের আণবিক ভর জানা থাকলেই কেবল হ-এর মান নির্ণয় করে আণবিক সংকেত নির্ণয় করা যায়। এ কারণেই স্থূল সংকেত থেকে আণবিক সংকেত নির্ণয়ে আণবিক ভর প্রয়োজন হয়। ১৪. লিমিটিং বিক্রিয়কের সাহায্যে বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদের পরিমাণ হিসাব করা হয় কীভাবে? উত্তর : বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদের পরিমাণ হিসাব করার সময় লিমিটিং বিক্রিয়কের পরিমাণ থেকে হিসাব করা হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একাধিক বিক্রিয়ক থাকলে, বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক মেপে সরবরাহ করার সময় সব বিক্রিয়ককে প্রয়োজন অনুসারে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। কিছু বিক্রিয়ক আগেই শেষ হয়ে যায়, কিছু অবশিষ্ট থেকে যায়। আমরা জানি, বিক্রিয়ার সময় একাধিক বিক্রিয়কের মধ্যে যে বিক্রিয়ক অবশিষ্ট থাকে না তাকে লিমিটিং বিক্রিয়ক বলে। অতএব, বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদের পরিমাণ হিসাব করার সময় লিমিটিং বিক্রিয়কের পরিমাণ থেকে হিসাব করা হয়। ১৫ . আণবিক সংকেতের তাৎপর্য লেখো। উত্তর : কোনো যৌগের আণবিক সংকেত থেকে একটি মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু অন্য মৌলের কতটি পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয় তা জানা যায়। কার্বনের একটি পরমাণু অক্সিজেনের দু'টি পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ঈঙ২ অণু গঠিত হয়। এক মোল কার্বন পরমাণু দুই মোল অক্সিজেন পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক মোল ঈঙ২ অণু গঠন করে। কোনো পদার্থে যুক্ত মৌলের ভর থেকে মোলসংখ্যা হিসাব করে আণবিক সংকেত নির্ণয় করা যায়। ১৬. কার্বনের দহন প্রক্রিয়াটি কীভাবে ঘটে? উত্তর : কার্বনকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে দহন করলে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপাদ। বিক্রিয়ক কার্বন কঠিন, অক্সিজেন গ্যাসীয় এবং উৎপাদ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসীয় পদার্থ। ১৭. যৌগে মৌলের শতকরা সংযুতি কীভাবে নির্ণয় করা হয়? উত্তর : নির্দিষ্ট যৌগে মৌলের শতকরা সংযুতি নির্দিষ্ট হয়। মৌলের বা কোনো নির্দিষ্ট অংশের শতকরা সংযুতি নির্ণয়ের জন্য যৌগের আণবিক সংকেত লিখে আপেক্ষিক আণবিক ভর নির্ণয় করতে হবে। অতঃপর পৃথকভাবে প্রতিটি মৌলের ভর এবং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অংশের ভর নির্ণয় করে যৌগে মৌলের শতকরা সংযুতি নির্ণয় করা যায়। \হঅধিক প্রস্তুতির জন্য কয়েকটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ১: ল্যাবরেটরিতে উপযুক্ত পরিবেশে ১০ম ম্যাগনেসিয়ামকে ৫ম অক্সিজেনের সঙ্গে মিশিয়ে উত্তপ্ত করল। এতে প্রত্যাশিত উৎপাদ ১৫ম পাওয়া গেল না। ক. শতকরা সংযুতি কী? খ. মোলার দ্রবণ একটি প্রমাণ দ্রবণ ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের ব্যবহৃত অক্সিজেনের অণু সংখ্যা নির্ণয় করো। ঘ. উদ্দীপকের বিক্রিয়ায় প্রত্যাশিত উৎপাদ তৈরি না হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো। হ পরবর্তী অংশ আগামী সংখ্যায়
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে