বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

সপ্তম শ্রেণির বাংলা

মোচ্ছা. রুবিনা খাতুন, সহকারী শিক্ষক, দখিনা রূপকারী উচ্চ বিদ্যালয়, বাগাইছড়ি, রাঙামাটি
  ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০০

৫ম অধ্যায়

১ম পরিচ্ছেদ

প্রায়োগিক লেখার ধারণা : বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা রচনা বা বাস্তব জীবনে সরাসরি প্রয়োজনে আসে এরূপ লেখনীকে প্রায়োগিক লেখা বলা হয়। যেমন: রোজনামচা বা চিঠিপত্র। প্রায়োগিক লেখায় সাধারণত লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মতামত বা ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। তবে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে আয়ত্ত বা অনুসরণ করে এর বিষয়বস্তু তৈরি হয় না বরং এগুলোতে রচয়িতার ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি বা পর্যবেক্ষণ প্রাধান্য পায়। তাই এ ধরনের লেখাকে প্রায়োগিক লেখা বলা হয়। এক অর্থে বলতে গেলে প্রায়োগিক লেখা হলো সরাসরি বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতার নিরিখে লেখকের ব্যক্তিগত উপলব্ধির বয়ান।

প্রায়োগিক লেখার বৈশিষ্ট্য:প্রায়োগিক লেখায় যথেষ্ট সৃজনশীলতার পরিচয় থাকলেও এসব লেখার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। সেসব নিয়ম বা বৈশিষ্ট্য মেনেই প্রায়োগিক লেখার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। নিচে এসব বৈশিষ্ট্য উলেস্নখ করা হলো-

ঙ্ প্রায়োগিক লেখা বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঙ্ এ ধরনের লেখায় সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বা পদ্ধতি থাকে।

ঙ্ এ ধরনের লেখা ব্যক্তিগত, সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনের নিরিখে হতে পারে।

ঙ্ প্রায়োগিক লেখা সাধারণত স্বতন্ত্র ও সৃজনশীল হয়ে থাকে।

ঙ্ এ ধরনের লেখার ক্ষেত্রে স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় রাখতে হয়।

ঙ্ এ ধরনের লেখায় প্রয়োজনে তথ্য-উপাত্তও যুক্ত হতে পারে।

ঙ্ প্রায়োগিক লেখায় স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি লিখন-দক্ষতাও প্রয়োজন।

প্রায়োগিক লেখা রচনার উপায়

প্রায়োগিক লেখা রচনার জন্য সৃজনশীল মানসিকতা অপরিহার্য। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে নিজের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, মতামত, ইচ্ছা ইত্যাদি ফুটিয়ে তুলতে হয়। এ ধরনের লেখায় যেহেতু লেখকের ব্যক্তিগত বিষয়ের সন্নিবেশ ঘটে, তাই লেখককে প্রথমেই ভাবতে হবে কাকে উদ্দেশ করে এ লেখা রচনা করা হচ্ছে। তিনি বয়সে লেখকের ছোট না বড়, সম্মানীয় নাকি বন্ধুসম- এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে প্রায়োগিক লেখা রচনা করতে হয়। যদি রোজনামচা হয়, সেটিকে কীভাবে আকর্ষণীয় করে ফুটিয়ে তোলা যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

চিঠি হোক বা রোজনামচা হোক শব্দ চয়নে, বাক্য প্রয়োগে সচেতন হতে হবে। এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে পাঠক পরিতৃপ্তি পান। প্রতিটি বাক্য হবে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে। এছাড়াও পরিস্থিতির সূক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ প্রায়োগিক লেখাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই সেদিকে লক্ষ রেখে এমন লেখা রচনা করা বাঞ্ছনীয়। ডায়েরি, রোজনামচা, দিনলিপি, দিনপঞ্জিকা এগুলো যেহেতু প্রায়োগিক লেখা, তাই এসব বিষয়ের মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।

কোন ধরনের লেখাকে আমরা প্রায়োগিক লেখা বলব

প্রায়োগিক লেখা মূলত এক ধরনের সৃজনশীল লেখা। তবে সৃজনশীল লেখা হলেই একে প্রায়োগিক লেখা বলা যাবে না। কেননা, প্রায়োগিক লেখা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনেরই অংশ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে প্রায়োগিক লেখার প্রয়োজন হয়। যেমন- প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কোনো চাহিদা, প্রত্যাশা বা মতামত জ্ঞাপনের জন্য আমরা আবেদনপত্র লিখি।

আবার ব্যক্তিগত আবেগ, অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করার জন্য আমরা রোজনামচা বা-দিনলিপি লিখি। তবে এসব লেখাকে আরও আকর্ষণীয় ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে আমরা এর বক্তব্য, উপস্থাপনশৈলীসহ নানা বিষয়ে গুরুত্ব দিই। সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে থাকি। অর্থাৎ, বাস্তব জীবনে ব্যবহৃত এমন লেখা, যাতে সৃজনশীলতার পরিচয় রয়েছে, সেসব লেখাকেই প্রায়োগিক লেখা বলা যেতে পারে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন: বাস্তবতার অনুগামী থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়ের লিখিত উপস্থাপনকে কী বলা হয়?

উত্তর: প্রায়োগিক লেখা।

প্রশ্ন: ডায়েরি, দিনলিপি, দিনপঞ্জিকা, রোজনামচা কীসের উদাহরণ?

উত্তর: প্রায়োগিক লেখা।

প্রশ্ন: প্রায়োগিক লেখায় কীসের প্রতিফলন ঘটে?

উত্তর: লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মতামত বা ইচ্ছার।

প্রশ্ন: কোন ধরনের লেখা আমাদের বাস্তব নিয়মতান্ত্রিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত?

উত্তর: প্রায়োগিক লেখা।

প্রশ্ন: কোন ধরনের লেখায় স্থান, কাল, পাত্র বিবেচনায় রাখতে হয়?

উত্তর: প্রায়োগিক লেখায়।

প্রশ্ন: প্রায়োগিক লেখায় কী প্রাধান্য পায়?

উত্তর: ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি বা পর্যবেক্ষণ।

রোজনামচা

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নানারকম ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার কোনো কোনোটি আমরা লিখে রাখি। প্রতিদিনের ঘটা এসব ঘটনা লিখে রাখাকে 'দিনলিপি' বলে। দিনলিপি বা রোজনামচায় কোনো ব্যক্তির প্রাত্যহিক জীবনে ঘটে যাওয়া বিশেষ কিছু ঘটনা লিখিত থাকে। ব্যক্তি সেখানে নিজের সঙ্গে দেশ-কাল, সমাজ-পরিবেশ, আচার-সংস্কৃতির তুলনা করার সুযোগ পায়।

দিনলিপি একটি সৃজনশীল বিবরণী। এককথায় বলতে গেলে দিনলিপি হচ্ছে জীবনের আয়না। স্মৃতিকাতর মানুষ দিনলিপির পাতায় চোখ রেখে অতীতে অবগাহন করে। প্রকৃতপক্ষে, এটি একজন শিক্ষিত ও রুচিশীল মানুষের ভালো অভ্যাস। ব্যক্তিজীবনে দিনলিপির প্রয়োজন অনেক। এর মাধ্যমে মানুষ তার জীবনের নানা ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষিপ্তাকারে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। এর দ্বারা অতীতের তথ্যকে ভবিষ্যতের যেকোনো কাজে ব্যবহার করা যায়। দিনলিপি ব্যক্তিজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা কখনো কখনো প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারে।

হ পরবর্তী অংশ আগামী সংখ্যায়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে