লেবাসধারী মুনাফিকরাই ইসলামের বড় শত্রম্ন

লেবাসধারী মুনাফিকরাই ইসলামের বড় শত্রম্ন

যুগে যুগে লেবাসধারী মুনাফিকরা মুসলমানদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করে নিজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে আসছে। তারা নানাভাবে ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই স্বয়ং আলস্নাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে মুনাফিকদের ব্যাপারে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের ঘৃণ্যতম কৌশল এবং আচার-আচরণ সম্পর্কেও কোরআনের একাধিক আয়াতে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। অথচ মুনাফিকরাই এখনো নানাভাবে মুমিন-মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে শান্তির ধর্ম ইসলামকে কলুষিত করছে।

আলস্নাহ তায়ালা মুনাফিকদের জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা দিয়ে ইরশাদ করেন, 'নিশ্চয়ই মুনাফিকদের দোজখের সর্বনিম্ন স্তরে নিক্ষেপ করা হবে।' (সুরা নিসা : আয়াত ১৪৫)

আলস্নাহ তায়ালা এমন চরিত্রের লোকদের চেহারা উন্মোচন করে দিয়ে নবী করিম সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নামকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন, 'আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা বলে, আমরা ইমান এনেছি আলস্নাহর প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি। তবে প্রকৃত পক্ষে তারা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আলস্নাহকে এবং মুমিনদের ওরা প্রতারিত করতে চায়, অথচ ওরা নিজেরাই যে নিজেদের প্রতারিত করে তা ওরা বুঝে উঠতে পারে না।' (সুরা বাকারা : ৮-৯)

পবিত্র কোরআনে কারিমে মুনাফিকুন (মুনাফিকবৃন্দ) নামে একটি সুরা

রয়েছে। ১১ আয়াতবিশিষ্ট ওই সুরাতে মুনাফিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। কোরআনে কারিমে আলস্নাহ তায়ালা নবী করিম সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নামকে সম্বোধন করে আরও ইরশাদ করেন, মুনাফিকরা আপনার নিকট এসে বলে- আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আলস্নাহর রাসুল। আলস্নাহ তো জানেনই যে, আপনি নিশ্চয়ই তার রাসুল এবং আলস্নাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। ওরা ওদের শপথগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং ওরা আলস্নাহর পথ হতে মানুষকে নিবৃত্ত করে।' (সুরা মুনাফিকুন : ১-২)

এ সুরায় মুনাফিকদের আরও কিছু চিহ্ন তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মুনাফিকদের বেশভূষা, আচার-আচরণ মনোমুগ্ধকর হয়; তাদের কথাবার্তাও আকর্ষণীয় হয়, তাদের বাচনভঙ্গি লোককে আকৃষ্ট করে, তাদের চেহারা-সুরত দেখে বোঝা যায় না যে, তাদের বাইরের অবস্থা অন্তরের অবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা বাহ্যিক দিকটা সুন্দর ও মনোহর করে রাখে আর তাদের অন্তর মিথ্যা, প্রতারণা, বিদ্বেষ ও শয়তানি অভিসন্ধির কলুষতায় পরিপূর্ণ।

ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইসলামের এবং মুসলিমদের ক্ষতিসাধনে যারা অতিসন্তর্পণে কাজ করে এসেছে তারা প্রধানত মুনাফিক। তারা মুখে আলস্নাহ-রাসুলের কথা বলে, বেশভূষাতেও খাঁটি মুসলিম বলে মনে হয়; কিন্তু তারা শয়তানি চক্রের দোসর হিসেবে তৎপরতা চালায়, তারা মানবিক মূল্যবোধকে অপমানিত করে। তাদের কথা এক রকম আর কাজ অন্য রকম।

হজরত রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নামকে মক্কার জীবনে কাফের-মুশরেকদের মোকাবিলা করতে হয়েছে, কিন্তু ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করে আসার পর তাকে ইহুদি এবং সেখানকার কিছু লোক যারা বাইরে ইসলাম গ্রহণকারী হলেও গোপনে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ছিল তাদের মোকাবিলা করতে হয়। লোক দেখানো মুসলমান হওয়া এমন লোকেরাই মুনাফিক হিসেবে পরিচিত হয়। এরা ইহুদি এবং মক্কার কাফের-মুশরেকদের সঙ্গে আঁতাত করে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ে।

তাদের সম্পর্কে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, 'তাদের যখন বলা হয়, পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না, তারা বলে আমরাই তো শান্তি স্থাপনকারী। সাবধান! এরাই তো অশান্তি সৃষ্টিকারী, কিন্তু এরা বুঝতে পারে না।' (সুরা বাকারা : ১১-১২) যাদের কথায় এবং কাজে বৈপরীত্য থাকে তাদের সম্পর্কে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'আর তারা যা বলে তা করে না।' (সুরা শোয়ারা : ২২৬)

যারা মুনাফিকি করে তাদের এমন অমার্জনীয় অপরাধের শাস্তি দুনিয়াতেই শুরু হয়ে যায়। জীবনের পদে পদে পরিণামে তাদের অপমানিত হতে হয়, লাঞ্ছিত হতে হয়। অসংখ্য হাদিসের ভাষায় মুনাফিকদের সবচেয়ে মন্দ মানুষ বলা হয়েছে। এরা সব মানুষের কাছে ঘৃণার পাত্র যেমন হয়, তেমনি আলস্নাহ তায়ালাও মুনাফিকদের জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, 'নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আলস্নাহর নিকট মন্দ লোক হিসেবে গণ্য হবে সেই মানুষ, যে দুমুখো।' (তিরমিজি)

মুনাফিকের পরিচয় সম্পর্কে আলস্নাহ বলেন, 'তারা যখন ইমানদার লোকদের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে আমরা ইমান এনেছি। কিন্তু যখন নির্জনে তারা তাদের শয়তান সহযোগীদের সঙ্গে মিলিত হয় তখন তারা বলে, আসলে আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি, আর আমরা তাদের সঙ্গে ঠাট্টাই করি মাত্র।' (সুরা বাকারাহ : আয়াত ১৪)

আলস্নাহ ওয়াদা করেছেন, মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীদের এবং কাফেরদের জন্য রয়েছে দোজখের আগুন। তাতে তারা চিরদিন থাকবে। সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আলস্নাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আজাব। (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৬৮)

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে