করোনায় আরও ৪১ জনের মৃতু্য, শনাক্ত ১৮২২

করোনায় আরও ৪১ জনের মৃতু্য, শনাক্ত ১৮২২

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪১ জনের মৃতু্য হয়েছে। নিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ৭৯৬ জনে দাঁড়াল। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এর চেয়ে কমৃতু্যর তথ্য এসেছিল। সেদিন ৩৫ জনের মৃতু্যর তথ্য জানিয়েছিল। এরপর গত ৩৭ দিনে তা এর নিচে নামেনি। এদিকে একই সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮২২ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাভাইরাস বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশ থেকে ২১ হাজার ৮২২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি ও বেসরকারি ৪২৮টি ল্যাবরেটরিতে ২১ হাজার ৫৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সময় নতুন করে ৬১ হাজার ৮২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দেশে পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৫ লাখ ৮২ হাজার ২৬৩টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪১ লাখ ৬ হাজার ৭২৫টি, আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮টি।

এদিকে গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন। নিয়ে দেশে করোনা থেকে মোট সুস্থ হলেন মোট ৭ লাখ দুই হাজার ১৬৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ২৯ শতাংশ, এবং মৃতু্যর হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ২২ জন পুরুষ আর নারী ১৯ জন। তাদের ২৬ জন সরকারি হাসপাতালে, ১৪ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বাসায় মারা গেছেন একজন। তাদের মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ২০ জন ঢাকা বিভাগের, ১৪ জন চট্টগ্রাবিভাগের, দুজন রাজশাহী বিভাগের, ১ জন খুলনা বিভাগের, ২ জন বরিশাল বিভাগের এবং ২ জন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

পর্যন্ত মৃত ১১ হাজার ৭৯৬ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৬৬ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ২৩০ জন নারী। গত বছর ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথসংক্রমণ ধরা পড়ে। গত ২৭ এপ্রিল তা সাড়ে ৭ লাখ পেরিয়ে যায়। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথরোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথমৃতু্যর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বছর ১ তো সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃতু্যর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে সময় টানা চার দিন মৃতু্যর সংখ্যা ছিল একশর ওপর। বিশ্বে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৫ কোটি ৫২ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতু্য হয়েছে ৩২ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি মানুষের। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তস্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় ৩৭তঅবস্থানে রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের গত ২৯ মার্চ বেশকিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এরপর ২৫ এপ্রিল সর্বাত্মক লকডাউন দিয়ে কয়েক দফায় দফায় তা বাড়িয়ে ১৬ পের্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। দূরপস্নালা গণপরিবহণ বন্ধ ছাড়া জেলা শহরের মধ্যে সব খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে করোনা মোকাবিলায় ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে করাকড়ি রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে