যেখানে আছেন, সেখানেই ঈদ উদ্‌যাপন করুন

পূর্বাচলে পস্নট বরাদ্দ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
যেখানে আছেন, সেখানেই ঈদ উদ্‌যাপন করুন

মরলে তো সবাইকে যেতে হবে সেই কবরে। মাত্র সাড়ে তিন হাত জায়গায়- মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যাদের এত বিশাল বিশাল অট্টালিকা, বাড়িঘর ফ্ল্যাট- সবই আছে, তাদের আরও লাগবে কেন? এই ধনসম্পদ কেউ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে না। এই কথাটা মানুষ কেন ভুলে যায়, জানি না।

তিনি বলেন, 'আমরা শহর গড়ে তুলতে চাই। আমাদের দেশে যারা বিত্তশালী তারা পস্নট কেনেন, ভালো ভালো দৃষ্টিনন্দন বাড়িঘর বানান। যখন পূর্বাচল শুরু হলো, তখন আমি দেখেছি গুলশান, বারিধারায় বিশাল বিশাল অট্টালিকাও যাদের, তাদেরও পূর্বাচলে একটা পস্নট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না। এ রকমও কিছু কিছু মানুষের মানসিকতা আমি দেখেছি।'

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অবশিষ্ট মূল অধিবাসী ও সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৪৪০ জনের মধ্যে পস্নট বরাদ্দ প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বরাদ্দপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পক্ষ থেকে পস্নটপ্রাপ্ত তিনজনের হাতে বরাদ্দের কাগজ তুলে দেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জাতির পিতার

\হজন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে পূর্বাচলে জাতির পিতার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের একটা প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব এলেও তাতে আমি সায় দেইনি। সেই ফাইলে আমি লিখে দিয়েছিলাম, এখানকার যারা আদিবাসী তারা পস্নট পাবে। তারপর আমি এ প্রকল্পের অনুমোদন দেব। তার আগে কোনো প্রকল্পের অনুমোদন দেব না এবং কীভাবে পস্নট বের করবে সেটা যেন মন্ত্রণালয় বা রাজউক যেন খুঁজে বের করে- সেই নির্দেশনাটাই আমি দিয়েছি।'

প্রধানমন্ত্রী এ সময় অত্যন্ত মানবিক ভাষায় জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য মহামারির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ছুটোছুটি না করে যে যেখানে আছেন, সেখানে থেকেই উৎসব উদযাপন করুন। তিনি বলেন, 'আমি জানি, ঈদের সময় মানুষ পাগল হয়ে গ্রামে ?ছুটছে। কিন্তু এই যে আপনারা এক সঙ্গে যাচ্ছেন, এই চলার পথে ফেরিতে হোক, গাড়িতে হোক, যেখানে হোক- কার যে করোনাভাইরাস আছে আপনি জানেন না। কিন্তু আপনি সেটা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আপনার পরিবারের কাছে। মা, বাবা, দাদা, দাদি, ভাইবোন- যেই থাকুক, আপনি কিন্তু তাকেও সংক্রমিত করবেন। তার জীবনটাও মৃতু্যর ঝুঁকিতে ফেলে দেবেন।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা ঈদে কোথাও না গিয়ে নিজের ঘরে থাকতে কী ক্ষতিটা হয়? কাজেই আপনারা ছুটোছুটি না করে যে যেখানে আছেন, সে সেখানে থাকেন। সেখানে নিজের মতো করে ঈদটা উদযাপন করেন। আপনারা একটু ধৈর্য ধরেন, নিজের ভালো চিন্তা করেন। সঙ্গে সঙ্গে যার যার পরিবারের ভালোর চিন্তা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের প্রতিবেশী দেশে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে। এবং এই প্রতিবেশী দেশে যখন হয়, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশে আসারও একটা সম্ভাবনা থাকে। সেজন্য আগে থেকেই আমাদের নিজেদের সুরক্ষিত থাকতে হবে। নিজেদের সেভাবে চলতে হবে- যেন সবাই করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে পারি।'

সবাইকে স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'করোনাভাইরাসের সময়ে আপনারা একটু মাস্ক পরে থাকবেন। সাবধানে থাকবেন। কারণ আবার নতুন আরেকটা ভাইরাস (করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট) এসেছে, এটা আরও বেশি ক্ষতিকারক। যাকে ধরে, সঙ্গে সঙ্গে তার মৃতু্য হয়। সেই জন্য আপনি নিজে সুরক্ষিত থাকেন, অপরকে সুরক্ষা দেন।'

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্থানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উলস্নাহ খন্দকার, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উলস্নাহ নুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় মোট ছয় হাজার ২৭৭ একর জমিতে পূর্বাচল নতুন শহর গড়ে তুলতে ১৯৯৬ সালে প্রকল্প নেওয়া হলেও জমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়নের কাজে শুরু হতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত লেগে যায়। ২৫ বছর আগে শুরু হওয়া সরকারের এই সর্ববৃহৎ আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৭৮২ কোটির টাকারও বেশি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকা অবস্থায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয় এবং মূল অধিবাসীদের মধ্যে যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তাদেরকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় পস্নট বরাদ্দের প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে