বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

গণসমাবেশের ভেনু্য রহমতগঞ্জ মাঠ!

সাখাওয়াত হোসেন
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
পাল্টাপাল্টি হুমকি, নানা জল্পনা-কল্পনা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ ক্লাবের মাঠে বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের আভাস পাওয়া গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও দলটির নেতারা স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে বৈঠকে উপস্থিত থাকা ডিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। গণসমাবেশে কোনো ধরনের অরাজকতার সৃষ্টি করা হবে না বলে এ বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ কোনো ধরনের অ্যাকশনে যাবে বলে জানিয়েছে। তবে কোনো কারণে বিএনপি বাড়াবাড়ি করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। রহমতগঞ্জ মাঠকে ভেনু্য ধরে বুধবার (আজ) থেকে পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা বলায় তৈরি করা হবে। ওই মাঠে সমাবেশ করলে জনভোগান্তি কম হবে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মত দিয়েছে। আজ বুধবার রহমতগঞ্জ মাঠে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি আসতে পারে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র আভাস দিয়েছে। জানা গেছে, গত রোববার বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরে বার্ষিক পুলিশ সপ্তাহ নিয়ে বৈঠকে বসেন ঊর্ধ্বতনরা। সেখানে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় তাদের সমাবেশ করতে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেটা বিএনপির পল্টনের পার্টি অফিসের বাইরে কোনো স্থান খুঁজে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাকে \হনির্দেশ দেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এরপর বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে আরামবাগ মাঠটি সমাবেশের বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে আরামবাগ মাঠের আশপাশে সরকারি-বেসরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্কুল-কলেজ রয়েছে বলে নতুন কোনো মাঠের প্রস্তাব দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিকল্প মাঠের সন্ধানে নামে বিএনপি। এরপর গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে গতকাল সকালে রহমতগঞ্জ মাঠে সমাবেশ করলে সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে জানানো হয়। এরপর বিএনপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার পুনরায় বৈঠকে বসেন পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে রহমতগঞ্জ মাঠে অনুমতি দেওয়া সম্ভব বলে জানানো হয় এবং সেটা মেনে নিতে বিএনপিকে অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি ওই মাঠ তুলনামূলক অনেক বড় এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে বিএনপির প্রতিনিধিদের জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই ওই মাঠে সমাবেশ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করা হবে না বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে ধরপাকড় বন্ধ করার জন্যও পুলিশকে অনুরোধ করা হয়। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র যাদের নামে এরেস্ট ওয়ারেন্ট রয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের জঙ্গি, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের ডিসি ফারুক হোসেন জানান, ১০ ডিসেম্বর বিএনপিকে কোনোভাবেই রাস্তায় সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদের কোনো না কোনো মাঠে সমাবেশ করতে হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাদের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখানে তারা সমাবেশ করবে না বলে জানিয়েছে। এখন নতুন কোনো স্থানের বিষয়ে দ্রম্নতই পুলিশের বিকল্প সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এ বিষয়ে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, 'আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ দলীয় কার্যালয় নয়াপল্টন অথবা আরামবাগ আইডিয়াল স্কুলের সামনে করতে চায় বিএনপি। কারণ ১০ ডিসেম্বর শনিবার ছুটির দিন। ওই দিন ওখানে আমরা প্রোগ্রাম করতে পারি। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অনিরাপদ। সেখানে আমরা কোনো প্রোগ্রাম করব না। আমরা ডিএমপি কমিশনারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা আশাবাদী পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।' তিনি আরও বলেন, 'সমাবেশস্থল নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা চলছে। আলোচনায় রহমতগঞ্জ মাঠও রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চাহিদামতো বিকল্প ভেনু্য না হলে নয়াপল্টনেই অবস্থান নেবে বিএনপি। দায়িত্ব নিয়ে বলেছি, নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব বা করতে চাই। আশা করছি, সেই সহযোগিতা আমাদের করবেন। না হলে সেই দায়দায়িত্ব তাদের নিতে হবে।' বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি লিখিতভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চায়নি। তারপরও কেন সরকার বা পুলিশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে অফার করছে আমরা জানি না। এখন আমরা মতিঝিলের আমারবাগে করতে চেয়েছি। সেখানেও সরকার ও প্রশাসনের আপত্তি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করব না- এটা দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কোথাও না করতে দিলে আমরা নয়াপল্টন অফিসের সামনে সমাবেশ করব এখন পর্যন্ত এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।' বিএনপির পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, বিএনপির নয়াপল্টনে সমাবেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তা ও যানজটের বিষয় মাথায় রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৬ শর্তে অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারা পুলিশের এই সিদ্ধান্ত না মেনে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। পাশাপাশি তারা নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যান। এরপর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গোয়েন্দারের নতুন কোনো ভেনু্যর সন্ধান করতে বলা হয়। যেহেতু তারা পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক সমাবেশ করতে ইচ্ছুক এ কারণে সব দিক মিলায়ে রহমতগঞ্জ ক্লাব মাঠে সমাবেশের বিষয়ে গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির পক্ষ থেকেও সিদ্ধান্তটি মেনে নেওয়া হয়েছে। এরপর পুরান ঢাকার ৪ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করার কাজ শুরু করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সতর্ক রাখা হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে। সাদা পোশাকে মাঠে রয়েছের্ যাব-পুলিশের একাধিক সদস্য। ইতোমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই মাঠ পরিদর্শন করে নিরাপত্তার ছক তৈরি করা হয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে