বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

বুয়েট ছাত্রী লামিসাকে হারিয়ে নির্বাক বাবা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  ০২ মার্চ ২০২৪, ০০:০০
আপডেট  : ০২ মার্চ ২০২৪, ০০:৪২
লামিসা ইসলাম

শুক্রবার দুপুর ১২টা। ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী মহলস্নার একতলা বাড়ি স্বর্ণলতার সামনে টানানো হয়েছে লাল-নীল শামিয়ানা। এর নিচে ফ্রিজিং ভ্যানে রাখা একটি লাশ। আশপাশে অনেকটা ভিড়। পস্নাস্টিকের একটি চেয়ারে বসে ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নাসিরুল ইসলাম। তিনি নিশ্চুপ। তাকে ঘিরে আরও অনেকেই বসে ছিলেন। তারাও নিশ্চুপ।

রাজধানীর বেইলি রোডে একটি ভবনে অগ্নিকান্ডে যে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন, তাদের একজন নাসিরুল ইসলামের বড় মেয়ে লামিসা ইসলাম (২৩)। তাদের ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীর বাসায় বইছে শোকের মাতম। তিনি বুয়েটের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষে

অধ্যায়নরত ছিলেন। ভিকারুননিসা নূন থেকে এসএসসি ও হলিক্রস থেকে এইচএসসি পাস করেন লামিসা। দুই বোনের মধ্যে লামিসা বড়। ছোট বোন রাইসা এ বছর ভিকারুননিসা নূন কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

লামিসার বাবা নাসিরুল ইসলাম শামীম। তিনি এডিশনাল ডিআইজি হিসেবে হেডকোয়ার্টার আরএন্ডসিপিতে কর্মরত রয়েছেন। লামিসার মাতা আফরিনা মাহমুদ মিতু ২০১৮ সালে মারা যান। ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন নাসিরুল ইসলাম।

এদিকে শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে লামিসার মরদেহ শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলীর বাড়িতে আনা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বাদ জুমা শহরের চকবাজার জামে মসজিদে জানাজা শেষে আলীপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

নামাজে জানাজায় অংশ নেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য একে আজাদ, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলিমুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক আরিফসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বইমেলা থেকে বান্ধবীদের সঙ্গে কাচ্চি খেতে গিয়েছিল লামিসা। অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হলে লামিসা তার বাবাকে ফোনে জানিয়েছিল, এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ ছিল। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত লামিসার চাচা রফিকুল ইসলাম সুমন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বইমেলা ঘুরে বান্ধবীদের সঙ্গে বিরিয়ানি খেতে যায় লামিসা। সেখানে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হলে লামিসা তার বাবাকে ফোন করে বলে 'বাবা আমি আটকা পড়েছি, আমাকে বাঁচাও', এরপর আর কোনো কথা হয়নি লামিসার সঙ্গে। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও লামিসার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, ছোট বেলা থেকে খুবই শান্ত প্রকৃতির মেয়ে লামিসা। ওর মা মারা গেছে ৬ বছর আগে। বড় বোন হিসেবে সবার খেয়াল রাখতো লামিসা। ওর এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে