ভোলাহাটে আম নিয়ে জটিলতায় ব্যবসায়ীরা

ভোলাহাটে আম নিয়ে জটিলতায় ব্যবসায়ীরা

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলা। প্রচুর মুকুল এলেও সে হারে আম আসেনি। গুটি আসার সময় পর্যন্ত একাধিক হাতবদল হয় আমবাগান। কিন্তু এ বছর নানা জটিলতার কারণে আম ব্যবসায়ীরা বাগান কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

আম ব্যবসায়ী ও আম ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চুটু জানান, গত বছর থেকে দেশে করোনা পরিস্থিতি খুব খারাপ হওয়ায় আম বাজারজাত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায় ভোলাহাটের সুস্বাদু আম। কিন্তু লকডাউন হওয়ায় আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম বাজারজাত করা ব্যয়বহুল ও পরিবহণ করা কষ্ট হয়ে যায়। ফলে ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গত মৌসুমে দাম না পাওয়ায় অনেক আম ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েন। আসল পুঁজি না পেয়ে বিভিন্ন পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন। এবারো করোনার ভয়াবহতা আম ব্যবসায়ীদের ভাবিয়ে তুলেছে। তাই গুটি হলেও আমবাগান কিনতে ব্যবসায়ীরা পিছিয়ে গেছেন। সরকার কাছে আমসহ বিভিন্ন কাঁচা ফল বাজারজাত করতে সহাযোগিতার দাবি করেছেন তিনি।

ভোলাহাট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ২৪ হাজার ৭৫ বিঘা জমিতে আম গাছ রয়েছে। এ বছর আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন যা গত বছরের থেকে বেশি। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে যে হারে আমগাছে মুকুল এসেছিল সে হারে গুটি আসেনি। সম্প্রতি উপজেলায় ঘনকুয়াশা এবং বৃষ্টি হওয়ায় মুকুলেই শেষ হয়েছে কয়েক লাখ টাকার আম।

আম ব্যবসায়ী সেলিম রেজা, ফারুক, রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, এ বছর আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনেক গুণ কমে যাবে। তারা বলেন, লকডাউন আর পোকার আক্রমণে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে।

উপজেলার একমাত্র আম বিক্রয় কেন্দ্র আম ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চুটু লকডাউন হলেও আমসহ বিভিন্ন কাঁচামালের বাজারজাতের ব্যাপারে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর ৯০ শতাংশ গাছে আমের মুকুল এলেও আবহাওয়াজনিত কারণে আমগাছে গুটি কম এসেছে। তারপরও ফলন ভালো হবে বলে জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে