মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1
৯ জেলায় মুক্ত দিবস পালিত

সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, ইসলামপুর ও নালিতাবাড়ী মুক্ত দিবস আজ

ম স্বদেশ ডেস্ক
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
আজ নোয়াখালী ও জামালপুরের ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ওই দুই এলাকার মানুষ স্বাধীনতা লাভ করে। মুক্তির উলস্নাসে মেতে ওঠে মানুষ। এদিকে ৬ ডিসেম্বর ছিল ঝিনাইদহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, নেত্রকোনার দুর্গাপুর, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও শেরপুরের শ্রীবরদী হানাদার মুক্ত দিবস। ওইসব এলাকায় স্থানীয়ভাবে নানা আয়োজনে মুক্ত দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষের্ যালি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা খাবার বিতরণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, চারদিকে শত শত স্বজন হারানো বিয়োগ যন্ত্রণার দীর্ঘশ্বাস। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সহকর্মী হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে মৃতু্যকে সাথী করে পাকিস্তানি হায়নাদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে শত্রম্নমুক্ত করেছিল সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা। পাকিস্তানি পতাকায় ছাত্র জনতার অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্রলুট ও ব্যাংক অপারেশন করে সংগৃহীত অর্থ নিয়ে ৭১-এর মার্চে মাতৃভূমিকে শত্রম্নমুক্ত করতে এ জেলার দামাল ছেলেরা যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিল তারই সফল সমাপ্তি ঘটে ৭ ডিসেম্বর ১৯৭১। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের জেলা সাতক্ষীরার মাটিতে স্বগৌরবে মুক্তিযোদ্ধারা সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্বরে প্রথম উত্তোলন করে বিজয় নিশান স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজের পতাকা। মুক্তির আনন্দ-উদ্বেল উচ্ছ্বাস নবজন্মের সেই মুহূর্তকে তারা বরণ করে নিয়েছিল হৃদয়ের সব ভালোবাসা দিয়ে। ৭১-এর এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে দখলদার পাকবাহিনী সাতক্ষীরা ছাড়তে বাধ্য হয়। সেদিন ৭ ডিসেম্বর শত্রম্নমুক্ত হয় সাতক্ষীরায়। বিজয়ের গৌরবে ৭১-এর এই দিনে যুদ্ধাহত মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যদিয়ে সেদিনের সাহসী সন্তানরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। পাক-হানাদার ও তাদের দোসররা মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছিল। ধ্বংস করতে চেয়েছিল বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে। শত্রম্নর বুলেটের এতসব আঘাত সহ্য করেও সাতক্ষীরার সন্তানরা অন্তত ৫০টি যুদ্ধের মোকাবিলা করেছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোনো সেক্টর গড়ে ওঠেনি তখনও পরবর্তীতে গড়ে ওঠা ৯ম আর ৮ম সেক্টরেরর সাতক্ষীরার ভোমরা ছিল প্রথম ক্যাম্প। এখানেই সূচনালগ্ন থেকে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে উঠেছিল তৎকালীন ইপি আরদের সহযোগিতায়। আর ওখানেই ২৯ এপ্রিল পাকবাহিনীর সঙ্গে তরুণ নবীন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়। দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা উভয়পক্ষের গুলি বিনিময় এ পাকবাহিনী হারিয়েছিল তাদের কয়েক জন সেনাকে। আর দুই দফার যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন তিন বীর যোদ্ধা। ৭ ডিসেম্বর মুহিদ খান দুলুর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী যোদ্ধাদল ধুলিহর ইউনিয়নের বেজেরডাঙ্গায় তখনও গেরিলা অপারেশনের পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে খবর এলো পাকবাহিনী সাতক্ষীরা ছাড়তে শুরু করেছে। ক্ষিপ্রবেগে এই দলটি চলে আসে সাতক্ষীরা শহরে। ক্যাম্প করলেন পিএন হাইস্কুলে। এফএফ (ফিডম ফাইটার) ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার ও হুদার নেতৃত্বে আর একটি দল ঢুকে পড়ে শহরে। তারা থানা, ডাকবাংলো, পিটিআইতে ঘাঁটি গড়ে। এদিকে বীরযোদ্ধা আব্দুলস্নাহর নেতৃত্বে আরও একটি দল এবং মুজিব বাহিনীর বীরযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু, আবু নাছিম ময়না, মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অবস্থান নেন সাতক্ষীরা শহরে। এই ত্রিমুখী আক্রমণের পালা আসতে না আসতেই খবর এলো পাকবাহিনী ও দোসররা ভয়ে পিছু হটছে। সবচেয়ে মারাত্মক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ৭ জুন প্রতু্যষে দেবহাটা থানার টাউন শ্রীপুরে। ক্যাপ্টেন শাহাজাহান মাস্টারের নেতৃত্বে একটি গেরিলা গ্রম্নপ অবস্থান নেয় ৬ জুন রাতে। শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। মুহুর্মুহু গুলির রেঞ্জে পড়ে বেশ কয়েকজন পাকসেনা লুটিয়ে পড়ে। অন্যদিকে শত্রম্নদের গুলিতে শহীদ হন কাজল, খোকন, নারায়ণ ও এক ইঞ্জিনিয়ার ছাত্রসহ ৭ বীর মুক্তিযোদ্ধা। ওদের রক্তে ভেসে যায় শুষ্ক মাটি। বীরত্বপূর্ণ এ যুদ্ধে ব্রাশ ফায়ারে বেশ কয়েকটি গুলি বিঁধে যায় এরশাদ খান হাবলুর দেহে। সেদিনের যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাতক্ষীরা সদর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদিক আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান বাবু, যুদ্ধকালে সাবেক নৌ-কমান্ডার সাতক্ষীরা (সদর)-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি জানান, মুক্তিযুদ্ধকালে শত্রম্নদের গুলিতে সাতক্ষীরার শহীদ বীর সন্তানদের মধ্যে অন্যতম হলেন- শহীদ আব্দুর রাজ্জাক, কাজল, খোকন, নাজমুল, হাফিজউদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আবু বকর, ইমদাদুল হক, জাকারিয়া, শাহাদাত হোসেন, আব্দুর রহমান, আমিনউদ্দিন গাজী, আবুল কালাম আজাদ, সুশীল কুমার, লোকমান হোসেন, আব্দুল ওহাব, দাউদ আলী, সামছুদ্দোহা খান, মুনসুর আলী, রুহুল আমীন, জবেদ আলী, শেখ হারুনার রশিদ প্রমুখ। এ সীমান্তে মোট ৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধা পাক-হায়নাদের গুলিতে নিহত হয়েছিল। সম্মুখযুদ্ধে পলাশপলের কামরুল ইসলাম খানের ভূমিকা ছিল খুবই বীরোচিত। নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, আজ ৭ ডিসেম্বর নালিতাবাড়ী মুক্ত দিবস। পাক-হানাদার বাহিনীর হাত থেকে এ দিন মুক্ত হয়েছে নালিতাবাড়ী। ১৯৭১ সালে ১১নং সেক্টরের অধীনে সাব সেক্টর কমান্ড তোরা (মেঘালয়)-এর নিয়ন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। ১৯৭১ সালে ২ ডিসেম্বর এ এলাকায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে এফ এফ, বি এল এফ, এম এফ, এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ সব যোদ্ধার অংশগ্রহণে আহম্মদ নগর, বারোমারী, তন্তর, তেলেখালী, কড়ইতলী ক্যাম্পগুলোর হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণে নেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ৫ ডিসেম্বর নালিতাবাড়ীতে স্বাধীনতা বিরোধী ক্যাম্প ঘেরাও করে ফেলেন যোদ্ধারা। ৬ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা আত্মসমর্পণ করে। মুক্ত হয় নালিতাবাড়ী। সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, আজ ৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস। এদিন জেলা শহর মাইজদী প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটি দখলের মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর মাটিকে মুক্ত করে বিজয় নিশান উড়িয়েছিল মুক্তিসেনারা।  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর প্রায় এক মাস ধরে নোয়াখালীকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন মুক্তিকামী মানুষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। কঠোর প্রতিরোধ মুখে পাকিস্তানি সেনারা ২৩ এপ্রিল নোয়াখালী জেলা শহরে ঢোকে। পাকিস্তানি সেনারা কয়েক দফায় সদরের সোনাপুর, শ্রীপুর, গুপ্তাংক, রামহরিতালুক, বেগমগঞ্জের কুরীপাড়া, গোপালপুর ও আমিশাপাড়ায় নির্বিচারে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। নোয়াখালীকে হানাদার মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতি যখন প্রায় চূড়ান্ত, ঠিক তখনই ৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে মাইজদী পিটিআই ও বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল হাইস্কুল ক্যাম্প ছেড়ে কুমিলস্না সেনানিবাসের উদ্দেশে পালিয়ে যেতে থাকে পাকিস্তানিরা। এ সময় বেগমগঞ্জ-লাকসাম সড়কের বগাদিয়া ব্রিজ অতিক্রম করতেই সুবেদার লুৎফুর রহমান ও শামসুল হকের নেতৃত্বাধীন মুক্তি বাহিনীর হামলায় অসংখ্য পাক সেনা ও মিলিশিয়া মারা যায়। মুক্ত দিবসের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুক্তযুদ্ধকালীন সি-জোন কমান্ডার এবং বর্তমান সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের জেলা কমান্ডার মোজ্জাম্মল হক মিলন বলেন, ৭ ডিসেম্বর ভোররাত থেকে মুক্তিযোদ্ধারা নোয়াখালীকে শত্রম্নমুক্ত করার চূড়ান্ত অপারেশন শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে চতুর্দিক থেকে আক্রমণ চালিয়ে রাজাকার ক্যাম্প মুক্ত করেন। সকাল ৯টায় জেলা শহর মাইজদি বাজার ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, নাহার মঞ্জিল, রৌশনবাণী সিনেমা হল, দত্তেরহাট ও সোনাপুর রশিদ কোল্ড স্টোরেজে রাজাকাররা আত্মসমর্পণ করে। এভাবে শত্রম্নমুক্ত হয় নোয়াখালী। বিজয়ের আনন্দে মেতে ওঠে মুক্তিকামী জনতা। শহরের কোর্ট বিল্ডিং এ ওড়ানো হয় জাতীয় পতাকা। ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর জামালপুর জেলার ইসলামপুরের মাটি পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়েছে। জানা যায়, ১৯৭১ সালের এদিন হাজার মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা আনন্দ উলস্নাসের মধ্য দিয়ে থানা চত্বরে জালাল কোম্পানির কমান্ডার প্রয়াত শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন স্বাধীনতার প্রথম বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ দিনটি ইসলামপুরবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসেন স্বাধীনসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, উপজেলার উত্তর দরিয়াবাদ ফকিরপাড়ার সন্তান জালাল কোম্পানি কমান্ডার বীর সন্তান শাহ্‌ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে জয়বাংলা মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মুজাহিদ সদস্য ও অন্যদের নিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে মহেন্দ্রগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাদের সমন্বয়ে স্থাপিত প্রাথমিক রিক্রুট মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন পেশার লোকজনদের নিয়ে জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়। সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে কোম্পানির যোদ্ধাদের নিয়ে ইসলামপুর সিরাজাবাদ এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে মাদারি ছন আখ ক্ষেত নামক স্থানে একটি ক্যাম্প স্থাপন করেন। সেখানে থ্রিউরিক্যাল ও প্রাক্টিক্যাল প্রশিক্ষণ প্রদানসহ গেরিলা যুদ্ধ চালানো হয়। মুক্তিযোদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে জালাল বাহিনী ইসলামপুরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ক্যাম্প দখলে প্রস্তুতির উদ্দেশে ৬ ডিসেম্বর দুপুরে পলবান্ধা ইউনিয়নের পশ্চিম বাহাদুরপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠসংলগ্ন ইসলামপুর সিরাজাবাদ সড়কে অবস্থান নেয়। ওইদিন দুপুর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত একটানা যুদ্ধ হয়। হানাদার বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাগুলিতে টিকতে না পেরে অস্ত্র গোলাবারুদ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ফেলে বিশেষ ট্রেনে জামালপুরের দিকে পালিয়ে যায়। অতঃপর ৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টাঢ মজির উদ্দিন আহমেদ, গণি সরদার, টুআইসি আলাউ উদ্দিন জোরদার, পস্নাটুন কমান্ডার শাহাদত হোসেন স্বাধীন ও হাজার মুক্তিকামী ছাত্রজনতা আনন্দ-উলস্নাসের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার প্রথম বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই সঙ্গে ইসলামপুরের মাটি শত্রম্নমুক্ত হয়। এদিকে স্টাফ রিপোর্টার, যশোর জানান, যশোরে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে যশোরমুক্ত দিবস উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় টাউন হল ময়দানে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে শহরের বকুলতলায় বঙ্গবন্ধু মু্যরালে বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোর জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি, উপপ্রধান মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মুযহারুল ইসলাম মন্টু, মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা প্রমুখ। ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে নানা আয়োজনে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে শহরের পুরনো ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটির্ যালি বের হয়। পরে পুরনো ডিসি কোর্ট মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা হয়। এতে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই, জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম, পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দলিল উদ্দীন, আব্দুস সামাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান ও সরকারি কেসি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডক্টর বিএম রেজাউল করিম বক্তব্য রাখেন। আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমিটির উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরের স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্যর্ যালি, জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে ছিলেন ইউএনও অংগ্যজাই মারমা, পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন সফিক আলেয়া, থানার ওসি আসাদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামশেদ শাহ, বাহার মালদার, যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মমিন বাবুল প্রমুখ। বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। ইউএনও জিনাত রেহানার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এসি (ল্যান্ড) রাজ কুমার বিশ্বাস, বীরগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কালিপদ রায়, জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলাম প্রমুখ। দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্গাপুর মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল ১১টায় উপজেলা চত্বরে পায়রা উড়িয়ে বর্ণাঢ্যর্ যালি পৌরশহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইউএনও রাজীব-উল-আহসানের সভাপতিত্বে আলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদার, এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সোহরাব হোসেন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আল আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ওসমান গণি তালুকদার, সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক প্রমুখ। চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে চুনারুঘাট থানা মুক্ত হয়। এ উপলক্ষে স্থানীয়ভাবে নানা আয়োজনে মুক্ত দিবস পালন করা হয়। রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের রাজারহাট হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকের্ যালি বের হয়। পরে ঠাটমারী বধ্যভূমিতে গিয়ে শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর আলোচনা সভা ও শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ইউএনও নূরে তাসনিম, থানার ওসি আব্দুলস্নাহিল জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি আবুনুর মো. আক্তারুজ্জামান, সম্পাদক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রজব আলী প্রমুখ। শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের শ্রীবরদী হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কমপেস্নক্স চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইফতেখার ইউনুস। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সালেহ মো. নুরুল ইসলাম হিরো। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি শাকের মুহম্মদ আব্দুলস্নাহ দানার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম, থানার ওসি বিপস্নব কুমার বিশ্বাস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আমিনুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ছালাহ উদ্দিন ছালেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুলস্নাহ ছালেহ, যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার ও সিংগাবরুনা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে