বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

সোনাইমুড়িতে কালোবাজারে সার বিক্রি, হতাশ কৃষক

সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
  ০৪ মার্চ ২০২৩, ০০:০০

নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে কালোবাজারে সার বিক্রিতে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। সাব ডিলাররা অতিরিক্ত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অফিস ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ তদারকি না করায় এসব অনিয়ম হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

সোনাইমুড়ির উপজেলার বারগা ইউনিয়নের খুচরা সার ডিলার শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে বিগত ১ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

সূত্রে জানা যায়, সরকার ইউরিয়া সারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রতি কেজি ২২ টাকা। তবে সেই সার কৃষক পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ টাকা। অন্যদিকে ১৫ টাকা কেজির এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৬ টাকায়।

এ উপজেলায় প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ১০ জন বিসিআইসি সার ডিলার থাকার নিয়ম রয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ৯ জন করে খুচরা সার ডিলার থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে চাহিদার বিপরীতে সব রকমের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সব ধরনের সারের মজুতই গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বেশি। যেমন ইউরিয়া মজুত আছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন, যা গত বছরের এই সময়ের চেয়ে ২৮ হাজার টন বেশি।

কৃষকদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সারের দাম বেশি নেওয়া হলেও ডিলাররা কোনো রসিদ দিচ্ছেন না। কেউ কেউ রসিদ দিলেও তাতে সরকার নির্ধারিত দাম দেখাচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে সার বিক্রি করবেন না জানিয়ে দিচ্ছেন বা ক্রেতার কাছে বিক্রি করা সার কেড়ে নিয়ে রেখে দিচ্ছেন। ডিলারদের কাছে এভাবে জিম্মি হয়ে তারা অসহায় বোধ করছেন। তবে এ বিষয়ে ডিলারদের দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ার কারণে বাজারে সারের কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছেন তারা।

কৃষকরা বলছেন, সার কিনতে গেলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সংকটের কথা বলেন। তবে দাম বেশি দিলেই সার বের করে দিচ্ছেন। এছাড়া কিছু কিছু ডিলার দোকানে মূল্য তালিকা ঝুলানোর বিধান থাকলেও তা নেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রতি বস্তা (৫০ কেজির বস্তা) টিএসপি সারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ১০০ টাকা (২২ টাকা প্রতি কেজি), এমওপি প্রতি বস্তা ৭৫০ টাকা (১৫ টাকা কেজি), ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও ইউরিয়া প্রতি বস্তা ৮০০ টাকা (১৬ টাকা কেজি) নির্ধারণ করে দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানান, এ উপজেলায় সার সংকট নেই। তবে ডিলার নয় এমন ব্যক্তি অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ পেয়েছেন। ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

বারগাঁও ইউনিয়নের সার ডিলার শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, বড়ুয়া ও জহির নামে দুই ব্যক্তি অন্যস্থান থেকে সার কিনে এনে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে