শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

করোনাভাইরাসে মৃতদের জন্য দেশেই তৈরি হচ্ছে 'বডিব্যাগ'

করোনাভাইরাসে মৃতদের জন্য দেশেই তৈরি হচ্ছে 'বডিব্যাগ'
পস্নাস্টিকের তৈরি বডিব্যাগ

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের দাফনের জন্য এখন দেশের বেশ কিছু তৈরি পোশাক কারখানা এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠান বডিব্যাগ তৈরি করছে।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের সৎকারের কাজে বডিব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।

যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সৎকারে বডিব্যাগ অত্যাবশ্যক নয়।

তবে, যেহেতু বডিব্যাগ তৈরিতে পস্নাস্টিক ব্যবহার করা হয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদে সেটি পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বডিব্যাগ কী?

সারা পৃথিবীতে মরদেহ পরিবহণের জন্য বিশেষত দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃতু্য হলে সৎকারের জন্য বডিব্যাগ ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর, এতে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে বা কোভিড ১৯-এর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির দাফনে বডিব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে, যে কারণে এখন অনেক বেশি শোনা যাচ্ছে এর কথা।

বিশেষত মহামারি শুরুর পর প্রথমদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা ছিল, মৃতদেহ থেকে যাতে ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য বিশেষভাবে তৈরি ব্যাগে মৃত ব্যক্তির কবর দিতে হবে।

বাংলাদেশে একেবারে প্রথমদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছু ব্যাগ সরবরাহ করে, পরে সরকারও কিছু ব্যাগ আমদানি করে।

শুরুতে মরদেহ বহনের যে ব্যাগগুলো ব্যবহার করা হতো, সেগুলো চীন থেকে আনা।

পরে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশেই এগুলো বানাতে শুরু করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সাইফুলস্নাহ আযম বলেছেন, এখন স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কাছ থেকেই কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের অর্থাৎ সিএমএসডির মাধ্যমে বডিব্যাগ কিনছে সরকার।

কারা তৈরি করছে?

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জুন পর্যন্ত মোট ১৭৩৮ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ৮৮৪ জন ব্যক্তির দাফন করেছে বেসরকারি সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মোট ৭০০ জনকে নিজেদের তৈরি বডিব্যাগে দাফন করেছে।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের দাফন কার্যক্রমের সমন্বয়ক সালেহ আহমেদ বলেন, শুরুর দিকে সরকারের সরবরাহ করা ব্যাগ ব্যবহার করতেন তারা।

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের একটি গবেষণা সেল আছে, তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী বডিব্যাগের মাপ এবং গুণগত মান অনুসরণ করে একটি মডেল তৈরি করে, যা ১

সরকারি সংস্থার কাছ থেকে আমরা পরে অনুমোদন পাই। এখন আমাদের নিজেদের তৈরি বডিব্যাগেই দাফনের কাজটি করছি আমরা। এখন পর্যন্ত ১৩৯৮টি বডিব্যাগ বানিয়েছি আমরা, আরও উৎপাদন চলছে।'

সাধারণত একটি বডিব্যাগের দৈর্ঘ্য সাত ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে তিন ফুট হয়।

তবে বাংলাদেশের মানুষের গড় উচ্চতার হিসাব করে নারী ও শিশুদের আকৃতি অনুযায়ীও বডিব্যাগ তৈরি করছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বাইরে তৈরি পোশাক খাতেও এখন বডিব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ১২টির মতো প্রতিষ্ঠান এ কাজে যুক্ত রয়েছে।

তবে ঠিক কতগুলো প্রতিষ্ঠান বডিব্যাগ তৈরি করছে, তার হিসাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই।

বডিব্যাগ সাধারণত ওয়াটারপ্রম্নফ মানে পানি নিরোধক হতে হয়।

এটি তৈরি করতে সাধারণত ভেতরে দুই পরতে পলি প্রোপাইলিন দিয়ে তৈরি কাপড় ব্যবহার করা হয়, যার মাথাগুলো এমনভাবে মুড়ে দেওয়া হয়, যাতে মৃতদেহ থেকে কোনো জলীয় পদার্থ বা তরল ব্যাগের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে না পরে।

পোশাক কারখানায় একে 'ল্যামিনেটিং' করা বলে। বহন করার জন্য এর চারপাশে চারটি থেকে আটটি হাতল থাকে। সামনের অংশে চেন লাগানো থাকে। ঢাকার শ্যামলীতে ডি স্মার্ট ইউনিফর্ম সলু্যশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান বডিব্যাগ তৈরি করে মূলত কিছু দাতব্য সংস্থাকে সরবরাহ করার জন্য, যারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন করে থাকে।

সরকারি নির্দেশনা কী?

মহামারি শুরুর পর প্রথমদিকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে সেই ব্যক্তির দাফন ও সৎকার নিয়ে নানা ধরনের স্টিগমা ও ভীতি কাজ করে জনমনে।

এ কারণে, মারা যাওয়ার দীর্ঘ সময় পরেও মৃতদেহ সরানো বা দাফন না হওয়ার নানা ঘটনা শোনা গেছে গত কয়েক মাসে।

মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে, এ কথা শোনা গিয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির দাফনে বিশেষ সতর্কতার কথা বলেছিল।

যে কারণে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির দাফনে আলাদা কবরস্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু জুন মাসের তিন তারিখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার তিন ঘণ্টা পর ওই মৃতদেহে আর ভাইরাসটির কোনো কার্যকারিতা থাকে না, ফলে মৃতদেহ থেকে এই ভাইরাস ছড়ানোর কোনো আশঙ্কা নেই।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, এ কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ মারা গেলে তাকে স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে, নিজ ধর্ম মেনে সৎকার কিংবা পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে দাফন করা যাবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সাইফুলস্নাহ আযম বলেছেন, শুরুতে মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে যত ভীতি ছিল, সেটা কিছুটা কমেছে।

তিনি বলেছেন, সরকারি নির্দেশনা হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মৃতদেহের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বডিব্যাগ না পাওয়া গেলে পলিথিনে মুড়ে দাফন করা যাবে।

এক্ষেত্রে মৃতদেহ দাফন বা শেষকৃত্যের জন্য নির্ধারিত কবরস্থান বা পারিবারিকভাবে নির্ধারিত স্থানে দাফন ও শেষকৃত্য করা যায়। বিবিসি বাংলা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে