কুড়িগ্রামের চিলমারী

১০ বছরেও উদ্বোধন হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ!

১০ বছরেও উদ্বোধন হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ!
চিলমারীর বালাবাড়ীহাটে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরের স্মৃতিস্তম্ভ -যাযাদি

চিলমারী উপজেলার বালাবাড়ীহাট রেলস্টেশন এলাকায় নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের স্মৃতিস্তম্ভটি দীর্ঘ ১০ বছরেও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয় না কারো। এ ছাড়া নির্মাণের পর থেকেই স্মৃতিস্তম্ভটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১২ সালে ফেব্রম্নয়ারি মাসে প্রায় ২২ লাখ ১ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যায়ে ওই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে গণপূর্ত বিভাগ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী স্মৃতিস্তম্ভের সাদা ফলকে উৎকীর্ণ করা হয়, স্বাধীনতা যুদ্ধে বালাবাড়ীহাট রেলস্টেশন এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসরদের যুদ্ধকালীন নৃশংশতা ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধের কথা।

এদিকে, স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মিত হওয়ায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা প্রথমে খুশি হলেও এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় স্মৃতিস্তম্ভটির চারদিকে ঘেরা নিরাপত্তাবলয়ের লোহার বেষ্টনীতে মরিচা ধরেছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে চিলমারী উপজেলার বালাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন পাকিস্তানি বাহিনীর একটি শক্ত ঘাঁটি ছিল। বৃহত্তর রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাকিস্তানি-হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষকে ধরে এনে এখানে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করত। এমনকি অনেকের গায়ে পাট বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হতো। ১৯৭১ সালের ১৭ অক্টোবর ১১নং সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে এ স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে সম্মুখ যুদ্ধ করতে গিয়ে অনেক অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। যুদ্ধে আনুমানিক ২০ পাকিস্তানি হানাদার নিহত হয়। অনেক রক্তের বিনিময়ে বালাবাড়ীহাট রেলওয়ে স্টেশন শত্রম্নমুক্ত হয়।

চিলমারী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মো. মোজাফ্‌ফর আহম্মেদ জানান, স্মৃতিস্তম্ভটির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে একজন নিরাপত্তাকর্মী দেওয়ার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে দ্রম্নত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে ইউএনও জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম ডবিস্নউ রায়হান শাহ্‌ বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটি গণপূর্ত বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। তবে গণপূর্ত বিভাগ স্মৃতিস্তম্ভটির লোহার বেষ্টনীর গেটের চাবি দিয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে হস্তান্তর করলে পুষ্পমাল্য অর্পণে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে