বিধি-নিষেধ উপেক্ষিত

মহালছড়িতে চলছে যত্রতত্র পাহাড় কাটা

মহালছড়িতে চলছে যত্রতত্র পাহাড় কাটা

সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মহালছড়িতে চলছে যত্রতত্র পাহাড় কাটা। পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র ছাড়াই পাহাড় কাটছে প্রভাবশালীরা। বিভিন্ন অযুহাতে প্রকাশ্যেই চলছে পাহাড় কাটা। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ৬(খ) অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষায় পাহাড় কাটা সম্পর্কে বিধি-নিষেধ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা যাবে না। কিন্তু এই আইনের তোয়াক্কা করছে না পাহাড়খেকোরা।

অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষায় পার্বত্য জেলায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দেদারছে পাহাড় কাটা চলছে। অবিলম্বে তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, মহালছড়ি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হোসেন তার প্রভাব খাটিয়ে বুলডোজার দিয়ে পাহাড় কেটে সাবাড় করছেন। এ ছাড়াও মাইসছড়ি বাজার সংলগ্ন এলাকায় শওকত আকবর ও তাহেরা বেগম গং আদালতের আদেশ অমান্য করে একই কায়দায় মাটি কেটে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

অপরদিকে, মহালছড়ি, লেমুছড়ি, মাইসছড়ি, গুগড়াছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে হরদম অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন। অধিকাংশ পাহাড়খেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে পাহাড় কাটলেও বাধা দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিনই মাটিবাহী ট্রাক্টরে করে পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

মহালছড়ির লেমুছড়ির বাসিন্দা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হোসেনের কাছে পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার স্থাপনা নির্মাণের সুবিধার্থে বুলডোজার দিয়ে অল্প কিছু মাটি কেটেছি আর বাকি পাহাড়ের অংশ আমার নয়, মো. লোকমানের।'

এই বিষয়ে মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রতন শীলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ডেভেলপমেন্ট কাজের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে মাটি কাটার প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় জরিমানা করা হচ্ছে।'

পাহাড় কাটা নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি একসময় মহালছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলাম। এ ছাড়া আমি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। আমার দল ক্ষমতায় থাকার পরও যদি একটু পাহাড় কাটতে না পারি, তাহলে দল করে কি লাভ?' মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দত্ত জানান, পাহাড় কাটার বিষয়ে আমি কোনো অনুমতি দিতে পারি না। কিন্তু অবৈধভাবে যারা পাহাড় কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে