তাহিরপুর-মধ্যনগর সাবমার্সিবল সড়ক

ভোগান্তি কমবে কবে

ভোগান্তি কমবে কবে
তাহিরপুর-মধ্যনগর পাঠাবুকা গ্রামের একটি সড়ক -যাযাদি

কবে কমবে ভোগান্তি? সড়কটা কি মেরামত হবে, না এভাবেই থাকবে-বছরের পর বছর। ভাড়ায় চালিত বাইক চালককে প্রশ্ন করছেন যাত্রী। তাহিরপুর থেকে মধ্যনগর সাবমার্সিবল সড়কের খানাখন্দ পার হতে হতে যাত্রী এভাবেই পথের তিক্ত অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করছেন চালককে।

এ রকম অভিজ্ঞতা এ পথ ধরে উপজেলা সদরে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ২২ গ্রামের মানুষের। অপরদিকে তারাও বিড়ম্বনায় পরেন যারা এই পথ ধরে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ কিংবা নেত্রকোনা জেলায় যাতায়াত করেন।

তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর মধ্যনগর সাবমার্সিবল সড়কে তাহিরপুর অংশে ১৬ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। হাওড়বেষ্টিত উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী মধ্যনগর উপজেলার সঙ্গে হেমন্তকালে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হয়। প্রথম বছর উপজেলা সদর থেকে সুলেমানপুর বাজার পর্যন্ত বস্নক দিয়ে সাত কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী বছর ২০১০ সালে সুলেমানপুর নদীর পশ্চিম পার হতে লামাগাঁও বাজার পর্যন্ত একইরকমভাবে বস্নক দিয়ে আরও ৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ করে এলজিইডি। প্রথম দুই বছর বর্ষায় ডুবে থাকার পরও সাবমার্সিবল সড়কটি হেমন্তকালে ব্যবহারের উপযোগী ছিল। ২০১২ সালের পর তাহিরপুর সদর থেকে লামাগাঁও বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সাবমার্সিবল সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ৬-৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বস্নক ধেবে যায়। সড়কে বস্নক ধেবে যাওয়ার পর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় দিন দিন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরে। সড়ক যোগাযোগে এই পথের একমাত্র বাহন মোটর সাইকেল। বর্তমানে যারা মোটর সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করেন, তারা সাবমার্সিবল সড়ক ব্যবহার না করে সড়কের পাশে মাটির পথ ব্যবহার করেন।

উপজেলার সদর থেকে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। ওই গ্রামের ইউপি সদস্য ছোটন মিয়া বলেন, 'এই সড়কে একবার যে আসে, দ্বিতীয়বার সে আর আসতে চাইবে না।'

ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, হেমন্তকালে আমাদের এই পথ দিয়ে জেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করতে হয়। আমরা এই পথ দিয়েই যাতায়াত করি। বর্তমানে তাহিরপুর অংশের ১৬ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে গিয়ে প্রচন্ড ঝাকুনিতে শরীর ব্যথা হয়ে যায়।

তাহিরপুর মধ্যনগর সাবমার্সিবল সড়কে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক বুলবল মিয়া। তার গ্রামের বাড়ি উপজেলা সদর ভাটি তাহিরপুর গ্রামে। তিনি প্রতিদিন এই পথে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালান। তার মতে, বর্তমানে সাবমার্সিবল সড়কের যে অবস্থা, এর চেয়ে মাটির এবড়ো-থেবড়ো পথ অনেক ভালো।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা বলেন, সড়কটি ভালো থাকলে এই সড়কে অটোরিকশা, সিএনজি চলাচল করত। ভালো না থাকায় সে ব্যবস্থা নেই। আমাদের অনেক শিক্ষক উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন খুব কষ্টে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার বলেন, হেমন্তে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সাবমার্সিবল সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগের অনুপযোগী হয়ে গেছে। বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা কষ্টকর।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, তাহিরপুর মধ্যনগর পথ ধরে গ্রামের বাড়ি যেতে হয়। পথের যে অবস্থা, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবু বিপদে পড়ে এই পথ ধরেই বাড়িতে আসা-যাওয়া করি।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, তাহিরপুর-সুনমাগঞ্জ সাবমার্সিবল সড়কটি সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা উড়াল সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। একটু দেরি হলেও সড়কটি হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে