সাগরে নিম্নচাপ, নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত

৪ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা
সাগরে নিম্নচাপ, নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত

বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্ণিমা ও বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্ণীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজাসহ উপকূলীয় জেলাসমূহ ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৪ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে পস্নাবিত হতে পারে।

রোববার দুপুরে ৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ডুবে গেছে। চলতি পূর্ণিমার গোনে ও লঘুচাপের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে সুন্দরবন। পানিতে বন্যপ্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা করছে বনবিভাগ। করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, চার ফুট পানিতে তলিয়ে আছে বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রসহ পুরো সুন্দরবন। বনের অভ্যন্তরে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় অনেক বেশি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যপ্রাণী উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। করমজলের উঁচু জায়গায় এসে আশ্রয় নিয়েছে গহিন বনের হরিণ ও অন্যান্য প্রাণী। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাসস্থল তলিয়ে হরিণ ও বন্য শূকরের বাচ্চার ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, 'বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ আরও ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপ আকারে ভারতের ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের অদূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপ বিরাজ করছে। ফলে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজারে অবস্থান করা পর্যটকদের সমুদ্রস্নান কিংবা পানিতে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক করছে টু্যরিস্ট পুলিশ ও লাইফ গার্ড। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি প্রচন্ড বাতাস থাকায় জোয়ারের পানির স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। মাছ ধরার ট্রলারগুলো উপকূলের মোহনায় নোঙর অবস্থায় রয়েছে।

টু্যরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জোয়ারের পানিতে কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় সাগর উত্তালের কারণে পর্যটকদের পানিতে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, এছাড়াও দর্শনার্থীদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে।

আমাদের কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিম্নচাপেরর প্রভাবে রোববার সকাল থেকে দিনভর বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধিতে নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। উপজেলার শতাধিক মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ। অনেক মাছ চাষিদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টার দিকে নদীতে পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৬ থেকে ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসে উপজেলার ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি ঢুকে অন্তত ২২টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য সহযোগিতা মিললেও গভীর নলকূপ ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে লালুয়া, চম্পাপুর এবং মহিপুর ইউনিয়নের মানুষ অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারী শত শত মানুষের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক মানুষ জোয়ারের সময় কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সাইক্লোন শেল্টারে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ সড়কের কাছাকাছি ঝুপড়িঘর তৈরি করে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। পৌরশহরের মাছ বাজার, মদন মোহন সেবাশ্রম, বড় মসজিদ ক্যাম্পাস এবং হেলিপ্যাড এলাকা পানিতে পস্নাবিত হয়েছে।

বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় সাগর অনেকটা রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। এতে গত কয়েকদিন ধরে শত শত জেলে সমুদ্রে মাছ শিকার বন্ধ করে আলীপুর-মহিপুরের আড়তঘাটে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

এ ব্যাপারে মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি দিদারউদ্দিন আহমেদ মাসুম জানান, সাগরে লঘু চাপের প্রভাবে গত তিন দিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ শিকারে যেতে পারছে না। ঘের মালিক জুয়েল সিকদার জানান, তার ঘেরসহ অন্তত শতাধিক মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।

আমাদের মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে টানা বর্ষণ ও পূর্ণিমার জোয়ারে প্রভাবে মেঘনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভোলার মনপুরায় নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে মেঘনার পানির উচ্চতা বেড়ে উপজেলা শহর রক্ষা বাঁধের ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে উপজেলার বেড়িবাঁধগুলোর বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল, চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

মেঘনার পানির চাপে উপজেলা শহর রক্ষা বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এসব গর্ত হওয়া অংশে ফাটল ধরে বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও লঘুচাপের প্রভাবে মেঘনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার হাজীর হাট ইউনিয়নের দাসের হাট এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। টানা জলাবদ্ধতার কারণে পুরোপুরি পানিবন্দি হয়ে রয়েছে এই এলাকার মানুষ। বেশিরভাগ বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় রান্নার চুলা পানিতে ডুবে থাকায় রান্না না করতে পেরে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে দাসের হাটের বাসিন্দারা। এ ছাড়াও হাজীর হাট ইউনিয়নের চর সামসুদ্দিন, সোনার চর, চর যতিন ও চর জ্ঞান গ্রামের নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। এ ছাড়াও উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের চৌমহনী বাজার-সংলগ্ন ঢাকার লঞ্চঘাট এলাকায় বেড়িবাঁধ কাটা থাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকাগামী যাত্রীরা অনায়াসে লঞ্চে না উঠতে পারায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টার হাট, লতাখালী, জনতাবাজার এলাকার নিম্নাঞ্চল ও বেড়িবাঁধের বাইরের এলাকা জোয়ারে পস্নাবিত হয়েছে। এদিকে জোয়ারের পানিতে পস্নাবিত হয়ে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত পর্যটন সম্ভাবনাময় মনপুরার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট 'দখিনা হাওয়া সি বিচ' ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সি বিচের অবকাঠামো ও বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলির চর, ঢাল চর, কাজীর চর, বদনার চর, চর পাতালিয়া, চর পিওল, চর নিজাম ও চর সামসুদ্দিনে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বান্দিারা।

উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো, আমানত উলস্নাহ আলমগীর বলেন, মেঘনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিচ্ছিন্ন কলাতলির চর, ঢাল চর, কাজীর চর, বদনার চরের বেশিরভাগ ঘর বাড়ি ডুবে গেছে। বসতভিটা ডুবে যাওয়ায় চুলায় রান্না করতে না পেরে অর্ধাহারে অনাহরে আছে এসব চরের বাসিন্দারা।

আমাদের পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, জোয়ারের পানিতে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকাসহ জেলার অন্তত অর্ধশত গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। পায়রা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পটুয়াখালী শহরের কলেজ রোডস্থ লোহালিয়া নদীর শহররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধের ওপর থেকে শহরের মধ্যে হু হু করে পানি প্রবেশ করে। এতে প্রধান সড়কেও হাঁটু পরিমাণ পানি ওঠে। এছাড়া স্বনির্ভর সড়ক, চরপাড়া, পুরান বাজার, মহিলা কলেজ সড়ক, পৌরসভা মোড়সহ অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলও পস্নাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, 'আজ স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট উচ্চতায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অনেক এলাকা পস্নাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।'

আমাদের রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, লঘুচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে উপকূলজুড়ে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে থমকে রয়েছে জনজীবন। রোববার সকাল থেকে একটানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ হচ্ছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে। বইছে থেমে থেমে দমকা বাতাস। সংকেত থাকায় বন্ধ রয়েছে লঞ্চ-স্পিডবোট।

নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বেড়েছে ৩ ফুটের বেশি। সকাল ৯টা থেকে চলা এ জোয়ারে ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে পস্নাবিত হয়েছে উপজেলার মধ্য চালিতাবুনিয়া, গরু ভাঙা, চিনাবুনিয়া, চরআন্ডা ও কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট গ্রামসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা। জোয়ারের এ সময়ে পানিবন্দি হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্ভোগ কাটায় সেখানকার হাজারো মানুষ।

কোড়ালিয়া-বোয়ালিয়া স্পিডবোট কাউন্টার ইনচার্জ মো. কালু মৃধা জানান, আগুনমুখা নদী উত্তাল। এ অবস্থায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ। দুই পাড়ের ঘাটে অনেক যাত্রী এবং অসুস্থ রোগী আছে। আবহাওয়া যদি স্বাভাবিক হয় তাহলে যাত্রী পারাপার করা হবে।

এদিকে মাছ শিকারে সমুদ্রে যাওয়া জেলেরা ঢেউয়ে তোড়ে উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে তীরে ফিরতে শুরু করেছেন। জানা যায়, চরমোন্তাজ স্স্নুইস ঘাট, সোনারচর, মৌডুবিসহ কয়েকটি এলাকার তীরে এসে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছেন ট্রলার নিয়ে মাঝিমালস্নারা। আবহাওয়ার বুলেটিনে পায়রাসহ সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এ দিকে বরগুনার বিষখালী ও খাকদোন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পৌর শহরসহ নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। এ ছাড়া তলিয়ে গেছে জেলার দুই ফেরিঘাট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

রোববার দুপুরে পৌরশহরের চরকলোনি, পশু হাসপাতাল সড়ক, গার্মেন্টস পট্টিসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টি ও পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে পস্নাবিত হয়েছে রাস্তা, দোকানপাট। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পস্নাবিত হয়েছে পৌর শহরের কলেজ রোড, ডিকেপি রোড, ফার্মেসি পট্টি ও কসমেটিক্স পট্টি। নুরু মিয়া, আসমা আক্তারসহ পশু হাসপাতাল সড়ক এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, জোয়ারের পানিতে আমাদের মুরগি ও মাছের খাবার নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাপক ওষুধ নষ্ট হয়ে গেছে।

চরকলোনি এলাকার মো. সবুজ মিয়া বলেন, আমাদের ঘর নদীসংলগ্ন। ফলে জোয়ারের পানিতে রান্নাঘর তলিয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকছে। রান্নার কোনো উপায় নেই। মূল্যবান আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। রাস্তাঘাট পানিতে ঢুবে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। পৌরশহর ছাড়াও তলিয়ে গেছে আমতলী-পুরাকাটা ও বড়ইতলা-বাইনচটকি ফেরির গ্যাংওয়ে। এতে গাড়ি নিয়ে পার হতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও পূর্ণিমার প্রভাবে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে।

\হ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে