ডলারের ভালো দামে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ছে

ডলারের ভালো দামে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ছে

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বাজার মূল্য যৌক্তিক করার কারণে বৈধ পথে অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাড়ছে। জুলাই-আগস্টে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২.২৯ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডলারের যুগোপযোগী দর সমন্বয়ের কারণে প্রবাসীরা হুন্ডি বা অবৈধ পথ পরিহার করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য মতে, জুলাই-আগস্ট সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৪১৩ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে ১২.২৯ শতাংশ রেমিট্যান্স বেড়েছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে এসেছে ২০৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এই সময়ে ১২.৫৮ প্রবৃদ্ধি শতাংশ।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলারের দর প্রচলিত বাজার দর থেকে অন্তত ১০ টাকার পার্থক্য ছিল। ফলে প্রণোদনা দিয়েও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছিল না। সর্বশেষ জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডলারের দাম ৯০ টাকায় ওঠে। এর আগে মে মাসেও ডলারের দাম ৮৬ টাকা ছিল। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুবই ধীরগতিতে ডলারের দাম সমন্বয় করে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৫ টাকা বাড়ায়।

সবশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ১০ টাকা ১৫ পয়সা বাড়ায়, এর আগের দিন এটি ছিল ৯৬ টাকা। এর আগে ব্যাংকে ডলারের একক রেট নির্ধারণ করে অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) যৌথ নেতারা বৈঠক করে। রেমিট্যান্স আনতে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১০৮ টাকা ও রপ্তানি বিল নগদায়নের ক্ষেত্রে দর হবে ৯৯ টাকা।

রেমিট্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় আগামী মাসগুলোতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, রেমিট্যান্সের ডলার নগদায়নে সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন, এটি একটি ইতিবাচক দিক।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০২০-২১ অর্থবছরের মতো ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। আগস্টের প্রথম ১০ দিনেই ৮১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি ছিল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড আতিউর রহমান যায়যায়দিনকে বলেন, দেশের ডলার বাজার দীর্ঘদিন ধরেই ওঠানামা করছে। এত দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল ছিল না কখনো। তবে সর্বশেষ যে দরটি নির্ধারণ করেছেন সবার সম্মতিক্রমে এতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও বাড়বে। প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যাপারে আরও উৎসাহিত করতে হবে। কিছু কিছু কাজ হচ্ছে যেমন রেমিট্যান্স কার্ড প্রদান। আরও পরিকল্পনা করতে হবে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আল আমিন যায়যায়দিনকে বলেন, ডলারের রেট সর্বসম্মতিক্রমে করা হয়েছে এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে প্রবাসী আয়ে ১০৮ টাকা আর রপ্তানি বিলে ৯৯ টাকা এ ধরনের পার্থক্য রাখা ঠিক হয়নি। এ কারণে ডলার বাজার স্থিতিশীল করতে সমস্যায় পড়বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ এ পার্থক্যের কারণে অনেক ব্যবসায়ী রপ্তানি বিল আন্ডার ইনভয়েস করে রেমিট্যান্স হিসেবে আনার চেষ্টা করবে। তাই একক রেট নির্ধারণ করাই উচিত হবে।

প্রবাসীদের বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। আগে এ প্রণোদনা ২ শতাংশ ছিল, তবে ২০২২ সালের প্রথম দিন থেকে তা বেড়ে আড়াই শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমজীবী মানুষের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ উপায়ে দেশে প্রত্যাবাসন উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিপরীতে সরকারের ২ শতাংশ প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা প্রদানের বিদ্যমান হার বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্ধিত এ হার চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্সের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা প্রদানের সিদান্ত নেওয়া হয়। যার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ওই অর্থবছরে দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।

সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গতি বাড়ে। ঈদের পর কমে যায়। তবে এবার কোরবানির ঈদের আগে যে গতিতে রেমিট্যান্স এসেছে, সেই ধারা এখনোও অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মখুপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলারের দর সমন্বয়ের ফলে আগামী দিনগুলোতে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ আরও বাড়বে। যেহেতু ব্যাংকিং চ্যানেল অর্থ প্রেরণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। তাই কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না। পাশাপাশি প্রণোদনাতো রয়েছেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে