বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

এখনো সময় আছে পদত্যাগ করুন সরকারকে মির্জা ফখরুল

ম যাযাদি রিপোর্ট
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
বিএনপি নেতাকর্মীদের মৃতু্যর মধ্য দিয়ে যে অভু্যত্থান শুরু হয়েছে তা বন্ধ করা সম্ভব হবে না মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'আমাদের ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করেছে সরকার। সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। আর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়ে বলেন, যুদ্ধ চাই না, নিষেধাজ্ঞা চাই না। শাওন, আব্দুর রহিম ও নুর আলমের মৃতু্যতে মানুষের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, যে অভু্যত্থান শুরু হয়েছে, এই অভু্যত্থানকে বন্ধ করা সম্ভব হবে না।' শনিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। মুন্সীগঞ্জে যুবদলকর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন হত্যার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী যুবদল এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমি আবারও আহ্বান করছি, এ দেশকে রক্ষা করার জন্য, বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর কথা বলছি না। ক্ষমতায় বসানোর কথা বলছি বাংলাদেশের মানুষকে। কারণ ক্ষমতার মালিক হচ্ছে জনগণ। তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চাই। মানুষের জীবনের অধিকার চাই, নিরাপত্তা চাই। কথায় কথায় গুলি করবেন, কথায় কথায় ফেলে দেবেন, কথায় কথায় আগুন জ্বালিয়ে দেবেন- এ দেশের মানুষ আর এসব সহ্য করবে না।' বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'পরিষ্কার কথা, এখনো সময় আছে, পদত্যাগ করুন, সংসদ বিলুপ্ত করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন এবং তাদের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করুন।' তিনি বলেন, 'মুন্সীগঞ্জে শুধুমাত্র শাওনকে হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি তারা। এরপর তারা বিএনপি নেতার কারখানা জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এভাবে মুন্সীগঞ্জে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সারা দেশে একটি ত্রাস সৃষ্টি করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।' বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আজ শাওনের বাবার কণ্ঠে আমরা আহাজারি শুনিনি, 'তার চোখে অশ্রম্ন দেখেছি। একই সঙ্গে তার চোখে আগুন দেখেছি। বজ্রকণ্ঠে তিনি বলেছেন, আমি আপস করব না। তোমরা ?যতই বলো পেছন থেকে ইটের আঘাতে সে (শাওন) মারা গেছে, বিএনপির লোকেরা তাকে মেরেছে। শাওনের ডেথ সার্টিফিকেটে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, মেসিভ ব্রেইন ইনজুরি ডিউ টু গান শট। বন্দুকের গুলিতেই তার মৃতু্য হয়েছে। তাই আর মিথ্যাচার করবেন না। মিথ্যাচার করে জনগণকে বোকা বানিয়ে রেখেছেন।' যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুলস্নাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ। এর আগে শনিবার সকালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, 'সরকার আগে উন্নয়নের কথা খুব বেশি বলত, এখন একটু কম বলে। উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না, যদি সেখানে গণতন্ত্র না থাকে। গণতন্ত্র কখনোই ফলপ্রসূ হবে না, যদি সেখানে পাল্টাপাল্টি সিস্টেম না থাকে এবং মানুষ ভোট দিতে না পারে।' বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'গণতন্ত্র হরণকারীরা যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তখন লজ্জা ধিক্কার ছাড়া কিছুই আশা করা যায় না। আজ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) বড় বড় কথা বলছেন যে, যুদ্ধ চাই না, নিষেধাজ্ঞা চাই না। কেউ চায় না যুদ্ধ, কেউ চায় না নিষেধাজ্ঞা। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মানবাধিকারের কথা মানায় না।' তিনি বলেন, দেশের শতকরা ৪২ জন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। আর তারা (আওয়ামী লীগ) কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। এ অবস্থার অবসান আজ তরুণদের ঘটাতে হবে। তরুণদের জেগে উঠতে হবে, বাংলাদেশের মানুষের জেগে উঠতে হবে। তিনি আরও বলেন, শাওন, আব্দুর রহিম, নূরে আলমের রক্তকে বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাদের রক্তের প্রতি সত্যিকার অর্থে যদি শ্রদ্ধা জানাতে চাই, ভালোবাসা জানাতে চাই; তাহলে এ ভয়াবহ দানব সরকারকে প্রতিহত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি ছাড়া কোনো ব্যক্তি নেই বাংলাদেশে। এক ব্যক্তির শাসন, এক ব্যক্তির মতবাদ, এক ব্যক্তির সব। কিন্তু এগুলো টেকে না। এ ধরনের কর্তৃত্ববাদ, এ ধরনের ফ্যাসিবাদ কখনোই টেকে না। অন্যায় করে, নির্যাতন করে; ভালোবাসা না থাকলে প্রেম না থাকলে কখনো কি কাউকে চিরস্থায়ী করা যায়? বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ বিনির্মাণে, বিভিন্ন কর্মকান্ডে, উন্নয়নে কর্মকান্ডে, উলেস্নখযোগ্য যে ভূমিকা রয়েছে তার ইতিহাস তুলে ধরা। বিশেষ করে, গত ১৪ বছরে যারা সরকারে তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করছে। বাংলাদেশের ৫০ বছরে ইতিহাসকে বিকৃত করে শুধু তাদের স্বার্থে নতুন করে ইতিহাস রচনা করার অপচেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা জানি ইতিহাস রচনা করে ঐতিহাসিক এবং ইতিহাসবিদরা। এছাড়া কেউ ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে না। তারা হয়তো সাময়িক রচনা লিখতে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ৫০ বছরের বাংলাদেশের ইতিহাস আমরা প্রত্যেকের হাতে তুলে দেবো। স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন রচনা প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ডক্টর এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে