বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী

হ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হ দেশে ৩২ হাজারের বেশি পূজামন্ডপ তৈরি হয়েছে
ম যাযাদি ডেস্ক
  ০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
আজ সন্ধ্যায় দেবীর আবাহন, অধিবাস, বোধন এবং মহাষষ্ঠীবিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে বাঙালির ঐতিহ্য এই শারদোৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে এখন সারাদেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশের পূজামন্ডপগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণাঢ্য সাজে। মন্ডপের সামনে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ। বিদু্যৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অল্প-বিস্তর আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মাধ্যমে এ উৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হয়। আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে দুর্গা দেবীর বোধন। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রারম্ভে দক্ষিণায়নে নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙাতে ভক্তরা বোধন ও বন্দনা পূজা করবেন। মন্ডপ-মন্দিরে ষষ্ঠী তিথির সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এ পূজা-অর্চনার বিধান রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে দুর্গাপূজা বারোয়ারি বা কমিউনিটি পূজা হিসেবে হিন্দুদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ষষ্ঠীর সায়ংকালে ধূপের ধোঁয়ায়, ঢাক-ঢোল-কাঁসর-মন্দিরার চারদিক কাঁপানো নিনাদ আর পুরোহিতদের জলদকণ্ঠে- 'যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা, নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ' মন্ত্রোচ্চারণের ভেতর দিয়ে দূর কৈলাস ছেড়ে দেবী পিতৃগৃহে আসেন। পূরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। বসন্তে তিনি এ পূজার আয়োজন করেন। এজন্য দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লংকা যাত্রার আগে রামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকাল, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। দেবীর শরৎকালের এ পূজাকে 'অকাল বোধন' বলা হয়। শাস্ত্রমতে, দুর্গা দেবীর মর্ত্যে আগমন ও কৈলাসে গমনের মধ্যে মানুষের শুভাশুভ জড়িত। এ বছর দেবী মর্ত্যে আসবেন গজে অর্থাৎ হাতিতে চড়ে। এর অর্থ শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা। উমা অর্থাৎ দেবী দুর্গা আবার কৈলাসে ফিরে যাবেন নৌকায় চড়ে, যার অর্থ শস্য ও জল বৃদ্ধি। তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর করোনা মহামারির কারণে দেশে ২৯ হাজার পূজামন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও এ বছর ৩২ হাজারের বেশি পূজামন্ডপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার জানিয়েছেন, দেশে এ বছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। গত বছর সারাদেশে দুর্গাপূজার সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১১৮টি। এবার এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৬৮টিতে। ঢাকা মহানগরে পূজার সংখ্যা ২৪১টি, যা গত বছরের থেকে ৬টি বেশি। এদিকে, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ,র্ যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় ৩৫ হাজার বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভাগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে পুলিশ ওর্ যাবের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। এ বছর পূজামন্ডপে আসা নারী দর্শনার্থীদের উত্ত্যক্ত (ইভটিজিং) রোধে সাদা পোশাকে পুরুষ ও মহিলা পুলিশ বিভিন্ন মন্ডপে টহলে নিয়োজিত থাকছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে এ বছর। এ জন্য পূজামন্ডপে সিসি-ক্যামেরা এবং মন্দিরে ঢোকার পথে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। পুজোমন্ডপের ভেতরে ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি বা দাহ্য কিছু নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজধানীর পূজোমন্ডপগুলোর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোলরুম স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ও নাশকতা মোকাবিলায় সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীতে প্রতিটি মন্ডপের আশপাশে থাকা সুউচ্চ ভবনগুলোয় ওয়াচ টাওয়ার বসিয়ে সেখান থেকেও শক্তিশালী বাইনু্যকুলার দিয়ে পুরো এলাকার ওপর নজরদারি করা হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা জিনিসপত্রে তলস্নাশি চালাতে বসানো হবে চেকপোস্ট। বেশিরভাগ পূজামন্ডপে ডগ স্কোয়াডের পাশাপাশি বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দিয়েও তলস্নাশি করা হবে। লালবাগ ও ওয়ারী বিভাগে নৌটহলের ব্যবস্থা করা হবে। বিজয়া দশমীর দিন প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বিসর্জন শেষে প্রতিমার অলঙ্কার ও চুরি ঠেকাকে নৌ-পুলিশের বিশেষ দল মোতায়েন করা হবে। রাজধানী ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামন্ডপ, গুলশান বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান কমিটি, সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা, ভোলানাথ মন্দির আশ্রম, জগন্নাথ হল, ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, বাসাবো বালুর মাঠ, শাখারী বাজারের পানিটোলা মন্দিরসহ অন্য মন্ডপে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিককে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে