মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

কক্সবাজারে উৎসবের আমেজ

প্রধানমন্ত্রী আজ আসছেন নৌবাহিনীর অনুষ্ঠান শেষে দলীয় সমাবেশে ভাষণ দেবেন হ নৌকার আদলে মঞ্চ হ ৫ স্তরের নিরাপত্তা হ ২৮ প্রকল্পের উদ্বোধন
ম কক্সবাজার প্রতিনিধি
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভাকে কেন্দ্র করে পাল্টে গেছে সমুদ্র নগরী কক্সবাজারের চিত্র। বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, দেয়াল লিখন, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণের মাধ্যমে সাজিয়ে তোলা হয়েছে শহরকে। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে শহরের প্রতিটি প্রান্তে। কক্সবাজারবাসীর অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলছে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক দিনের সফরে আজ কক্সবাজার আসছেন। তিনি প্রথমে ইনানী বিচে নৌবাহিনীর একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং পরে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলীয় জনসভায় ভাষণ দেবেন। শেখ হাসিনা কক্সবাজারের ২৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে ৫ স্তর এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৩ দিন আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। আজ ৭/৮ কিলোমিটার দূরে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারবাসীকে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উপহার দেবেন। অবশ্য কক্সবাজারবাসী না চাইতেই প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। সে অনুযায়ী কক্সবাজারের ব্যাপক ভৌত কাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে ও অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকের সফরে ২৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। ১ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে ৫৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে সংস্কার করা হয়েছে জেলার রাস্তা-ঘাট। বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, দেয়াল লিখন, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণসহ সাজসজ্জার কাজ চলছে পুরোদমে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার আদলে নির্মিত হয়েছে জনসভাস্থলের মূল মঞ্চ। চলছে মাইকিংসহ প্রচার-প্রচারণাও। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছেন কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন ও জনসমাবেশকে ঘিরে নিশ্চিত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। জনসভাস্থলে ৫ স্তরের এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা কোনোরকম ব্যর্থতায় পুলিশের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যেখানে ভাষণ দেবেন অর্থাৎ শেখ কামাল স্টেডিয়ামে বৈদু্যতিক ট্রান্সফরমার ঠিক করা হয়েছে যেন বিদু্যৎবিচ্ছিন্ন না হয়। এজন্য আমরা জেলা আওয়ামী লীগ বিদু্যৎ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছি। জনসভায় আসা সব কর্মীর জন্য ওয়াসরুমের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে খাওয়ার পানি পর্যন্ত প্রস্তুত রেখেছি। জনসভায় কেউ অসুস্থ হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এজন্য আমরা ৫-৭টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রেখেছি।' কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম (প্রশাসন) বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের ৩ দিন আগে থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা পুরো শহরে পুলিশ মোতায়েন করেছি। সভাস্থলের থেকে ৭-৮ কিলোমিটার দূরে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। এর আগে জনসভার প্রস্তুতি সম্পর্কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই জনসভা স্মরণীয় করতে নেতাকর্মীদের দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি কয়েক লাখ মানুষ হবে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে আমরা প্রস্তুত। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, 'উন্নয়নের মহাযজ্ঞে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবসায়ীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা যেন বিশেষ একটি কোটা পান আর নিরাপদে ব্যবসা করতে পারেন তার দাবি রইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে