বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

ডিএসই থেকে আয় কমেছে সরকারের

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
  ২২ মার্চ ২০২৩, ০০:০০
ডিএসই থেকে আয় কমেছে সরকারের

চলতি বছরের ফেব্রম্নয়ারিতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬২ টাকা।

২০২২ সালের একই সময়ে বাজার থেকে সরকারের আয় ছিল ২৫ কোটি ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬২৭ টাকা। অর্থাৎ, ২০২২ সালের ফেব্রম্নয়ারি মাসের তুলনায় ২০২৩ সালের ফেব্রম্নয়ারি মাসে সরকার পুঁজিবাজার থেকে ১১ কোটি ৪১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫ টাকা কম পেয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২২ সালের ফেব্রম্নয়ারির তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রম্নয়ারিতে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচা কম হয়েছে। শেয়ার কেনাবেচা কমায় ডিএসইতে লেনদেনও কম হয়েছে। এ কারণে সরকার এ খাত থেকে রাজস্বও কম পেয়েছে।

তারা বলছেন, লেনদেন কমার পেছনে দু'টি কারণ রয়েছে। একটি কারণ হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোর প্রাইস আরোপ থাকায়। ফ্লোর প্রাইসের ফলে দুই শতাধিক কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে না। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে অধিকাংশ কোম্পানির মুনাফা কমেছে। কিছু কিছু কোম্পানি লোকসানেও পড়েছে। পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ব্যয় বেড়েছে। যারা সঞ্চয় হিসেবে শেয়ার কিনে রেখেছিল এখন শেয়ার বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটাচ্ছেন। এসব কারণে শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রির প্রবণতা বেশি ছিল। তবে বিক্রেতার হিড়িক থাকার পরও ক্রেতা সংকটের কারণে লেনদেন কমেছে। ফলে সরকার ডিএসই থেকে কর বাবদ রাজস্ব কম পেয়েছে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, বাজার স্থিতিশীল হলে লেনদেন বাড়বে, তখন সরকার আরও বেশি কর পাবে।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দুই ধরনের শেয়ার কেনাবেচা থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে। প্রথমটি হলো- কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচা থেকে রাজস্ব আয়। দ্বিতীয়টি হলো, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচায় ব্রোকারেজ হাউজের ওপর আরোপিত কর।

ডিএসইর তথ্য মতে, দুই ধরনের করের মধ্যে প্রথমটি হলো, ডিএসইর স্টেকহোল্ডারদের দৈনিক লেনদেনের ওপর দশমিক ০৫ শতাংশ কর। এ খাত থেকে চলতি বছরের ফেব্রম্নয়ারি মাসে রাজস্ব আয় হয় মাত্র ৮ কোটি ৬৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯৫ টাকা।

অন্যদিকে, বিএসইসি রুলস ৫৩-এম অনুসারে, স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার কেনাবেচা বাবদ লেনদেন ও শেয়ার হস্তান্তর থেকে ৫ শতাংশ হারে কর বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৭ টাকা। সব মিলিয়ে ডিএসই থেকে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৬ টাকা। ডিএসই এ টাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিয়েছে।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের ফেব্রম্নয়ারিতে জমা দিয়েছিল ২৫ কোটি ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬২৭ টাকা। এর মধ্যে স্টেকহোল্ডারদের দৈনিক লেনদেনের ওপর থেকে কর বাবদ আয় হয়েছে ২২ কোটি ০৮ লাখ ৫ হাজার ৩৭৭ টাকা। আর উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রির ওপর কর বাবদ আয় হয়েছে ৩ কোটি ৯ লাখ ৩২ হাজার ২৫০ টাকা।

সেই হিসাবে ২০২২ সালের ফেব্রম্নয়ারি মাসের তুলনায় ২০২৩ সালের ফেব্রম্নয়ারি মাসে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ১১ কোটি টাকার বেশি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে