বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

আঞ্চলিক সড়কে শুকানো হচ্ছে খড়, দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে যান চলাচল

তালতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি
  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৯:১২
আঞ্চলিক সড়কে শুকানো হচ্ছে খড়, দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে যান চলাচল

বরগুনার তালতলীতে আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক প্রধান সড়কেই বোরো ধান কেটে মাড়াইয়ের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় কৃষকরা। এই ধানের খড় সড়কেই শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এতে করে খড়ের উপর দিয়ে আতঙ্কে চলাচল করছেন পথচারীসহ ছোট-বড় যানবাহন। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

জানা যায়, বর্ষার মৌসুমে বোরো ধান ঘরে তুলে কৃষকরা। বৃষ্টির জন্য এইসব কৃষকদের বাড়িতে কেটে রাখা ধান মাড়াই করতে পারে না। আর এ জন্য ছোট-বড় পাকা সড়কে এই সব ধান রাখা হয়। উপজেলার কড়ইবাড়িয়া টু বগীর রাস্তা নামক এলাকায় আঞ্চলিক এই পাকা সড়কে কৃষকরা তাদের খড় শুকাচ্ছেন। এসব খড়ের উপর দিয়ে ভয়ে ও আতঙ্কে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় যানবহন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় খড়ের উপরে চলতে গিয়ে পিছলে পড়ছে ছোট যানবাহন। এছাড়াও এ উপজেলার বিভিন্ন সড়কেও এই খড় শুকাতে দেখা যায়।

যাত্রীরা বলেন, এই আঞ্চলিক সড়কটি এমনিতেই ভাঙাচোড়া তার ভেতরে আবার কৃষকরা খড় শুকাচ্ছে। এজন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এবারও রাস্তায় খড় শুকানো শুরু হয়েছে। এই খড়ের জন্য যেটুকু সড়ক এই বছর হয়েছে তারও ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার।

তালতলী মটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতি শাহিন বলেন, আমাদের প্রতিদিন তালতলী থেকে আমতলী যেতে হয়। গাড়িতে দুইজন যাত্রী থাকে। কড়ইবাড়িয়া এলাকায় ধানের খড় সড়কে শুকানোর হিড়িক পড়েছে। এমনিতে ছোট রাস্তা তার উপর কৃষকরা খড় শুকাতে দেওয়ায় গাড়ি নিয়ে চলতে খুব অসুবিধা হয়। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা।

তালতলী থেকে ঢাকাগামী মামুন পরিবহনের কাউন্টার ইনচার্জ বাদল বলেন, বর্তমানে বৃষ্টির সময় ঝুকি নিয়ে গাড়ি চলাচল করতে হয়। তার পরে আবার এই সড়কে খড় শুকাচ্ছে কৃষকরা। এই খড় শুকাতে থাকলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মাহিন্দ্রা চালক আলম বলেন, আমতলী-তালতলী সড়কের প্রায় স্থানে খড় দিয়ে ভর্তি। রাস্তাগুলো খানাখন্দে ভরা। খড়ের জন্য কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। খড়ের জন্য বড় খানাখন্দে যখন গাড়ি পড়ে তখন গাড়িসহ যাত্রীদের ক্ষতি হচ্ছে।

কড়ইবাড়িয়া এলাকার সড়কে খড় শুকানো জহিরুল ইসলাম বলেন, সারাদেশেই পাকা রাস্তায় এভাবেই খড় শুকানো হচ্ছে। এজন্য আমরাও শুকাচ্ছি। তাছাড়া আমাদের বাড়িতে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কোনো যায়গা নেই।

এবিষয়ে তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী ইমরান হোসাইন রাসেল বলেন, খড় শুনানোর জন্য সড়কের ক্ষতি হচ্ছে। খড়ে পানি আটকে থাকার ফলে সড়কে খানাখন্দ হবে। এতে ভালো সড়কগুলো এক দুই বছরেই শেষ হয়ে যাবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, সড়কে খড় শুনাকোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা করে খড় সরানোর ব্যবস্থা করবো । তবু না সরালে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাযাদি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে