logo
বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

'জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প' শফিকুল ইসলাম খোকন

'জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প' শফিকুল ইসলাম খোকন

'জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প' শফিকুল ইসলাম খোকন
'জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প', 'হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস', 'ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে... রইবনা আর বেশি দিন তোদের মাজারে...', 'আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি', 'আমার বুকের মধ্যে খানে'সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের। এভাবে প্রতিদিনই কেটে গেছে, গানের সুরে কথা গেঁথেছেন এন্ড্রু কিশোর। সব জীবনের গল্প রয়েছে, অনেক জীবনের গল্পের বাকি অংশও থেকে যায়, মানুষের জীবনের কখনো কখনো রঙিন থাকে, আর সব মানুষই রঙিন স্বপ্ন দেখে থাকে বা রঙিন স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। সবার বুকের মধ্যেই মন থাকে আর সেই হৃদয় বা মন দিয়ে জীবন চলতে থাকে। এমনই আশা-আকাঙ্ক্ষা আর রঙিন স্বপ্ন নিয়ে বরেন্দ্র কণ্ঠ শিল্পী এন্ড্রু কিশোরও মৃতু্যর আগ পর্যন্ত থেকেছেন সবার মাঝে।

'ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, রইবনা আর বেশি দিন তোদের মাজারে...' সে কথাই আজ প্রমাণিত হলো। দয়ালের ডাকে ঠিকই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ৬ জুলাই, ২০২০ সোমবার এন্ডু্র কিশোর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গানের কথার মতো 'জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প' এখনো অনেক গল্প বাকি ছিল তার। হয়তো তিনি বলে যেতে পারেনি কাউকে, গানের ছন্দে দর্শকদেরও শুনিয়ে যেতে পারেনি। এ দিনটির মধ্য দিয়ে ইহকালের দিন শেষ, কিন্তু রেখে গেছেন তার সুরের জালে গাঁথা সেইসব 'কথা'। গুণীজন বিদায়ের তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি নাম এন্ড্রু কিশোর।

সব ধর্মের মানুষই বিশ্বাস করেন 'জন্ম একবার মৃতু্যও একবার'। তারই ধারাবাহিকতায় প্রত্যেক প্রাণীকেই চিরায়ত ঘুমের সকাশে যাত্রা করতে হয়, এটা অবশ্যম্ভাবী। হাজার ডাকেও অনন্তরের পা রাখা সেই ঘুমকাতুরের জাগরণ হয় না। প্রেমাস্পদ জীবিত প্রাণের সঙ্গে অশেষ মাখামাখিতেও আর ঘুচে না বিচ্ছেদের বিয়োগব্যথা। শিল্পী এন্ড্রু কিশোর নিজের গান দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন- 'হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, দম ফুরালেই ঠুস', 'ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে রইবনা আর বেশি দিন তোদের মাজারে...।

দম ফুরালে জীবনের চাকা থেমে যায়, এটি তিনি গানের মাধ্যমে অনেক আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। মৃতু্যর মতো মানুষ ঘুমিয়ে পড়লে, ডাকাডাকিতেও সাড়া মেলে না। তার দিন শেষ হয়ে গেছে, দম ফুরিয়ে গেছে, দয়াল ডাক দিয়েছেন। রঙিন স্বপ্নের ইতি টেনেছেন। তিনি চলে গেছেন কিন্তু তার কথা এবং অসংখ্য গান রয়ে গেছে।

আমাদের হৃদয় বিদীর্ণ করে দিয়ে শিল্পী নিজেই জীবনের অনেক গল্প বাকি রেখে চলে গেলেন। স্মরণের আলোয় যাকে আমরা ডেকে ফিরব, কিন্তু তিনি আর সাড়া দেবেন না।

১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে 'মেইল ট্রেন' চলচ্চিত্রে 'অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ' গানের মধ্য দিয়ে এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে পেস্ন-ব্যাক যাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী চলচ্চিত্রের 'ধুম ধাড়াক্কা'। এন্ড্রু কিশোর বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বাধিক ১৫ হাজার গান গাওয়া শিল্পী। চলচ্চিত্রে তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় গান আর কারও নেই। তার গাওয়া উলেস্নখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- 'জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প', 'হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস', 'ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে', 'আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি', 'আমার বুকের মধ্যে খানে', 'আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান', 'ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা', 'সবাই তো ভালোবাসা চায়', 'পড়ে না চোখের পলক', 'পদ্মপাতার পানি', 'ওগো বিদেশিনী', 'তুমি মোর জীবনের ভাবনা', 'আমি চিরকাল প্রেমের কাঙাল' প্রভৃতি।

শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জন্ম ৪ নভেম্বর, ১৯৫৫ সালে রাজশাহীতে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। এক সময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

'পেস্ন-ব্যাক সম্রাট' খ্যাত গায়ক এন্ড্রু কিশোর দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। দেশের বাইরে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

এন্ড্রু কিশোরের মতো গায়ককে নিয়ে লেখা অনেক লেখকেরই যোগ্যতা আছে। কিন্তু আমার মনে হয়, আমার মতো লেখকের তাকে নিয়ে লেখা যোগ্যতা আছে বলে মনে হয় না। তবে তাকে নিয়ে লেখাটা আমার সৌভাগ্যের ব্যাপার। তার গানগুলোকে নিয়ে আমাকে ভাবিয়ে তোলে। তার গানে আমি মুগ্ধ। তিনি মানুষকে গানের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন এহকাল আর পরকাল। শ্রোতার শ্রবণ কুহরে বাংলা সংগীতের যে বর্ণিল তরঙ্গ ধ্বনি দিয়ে গেলেন এন্ড্রু কিশোর, তার প্রাপ্তিতেই স্বস্তি ও আনন্দ খুঁজব আমরা। বাংলার আত্মা থেকে আহরিত গানকে করেছিলেন তিনি জীবনের ধ্রম্নবতারা। কথা ও সুরের সঙ্গে একাকার হয়ে মিশে যেতেন বেদনার প্রহরে প্রহরে। তার গান শুধু গান মাত্র ছিল না, ছিল হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া রাশি রাশি বেদনার পুঞ্জীভূত মেঘমালা। বাংলা গানের সহস্র বছরের সাধনায় এন্ড্রু কিশোরের প্রশান্তির বারি বর্ষণ করে যাক। আধুনিক ও যান্ত্রিক জীবনে আত্মা ও মননের বেদনার কথা মানুষ যখন ভুলেই যাচ্ছিলেন, তখন তিনি গেয়েছিলেন মর্মবেদনার গান। আত্মার হাহাকার হয়ে উচ্চারণ করেছিলেন মানুষের প্রেম ও বিরহের অপরূপ কথামালা। 'ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা', 'সবাই তো ভালোবাসা চায়', 'পড়ে না চোখের পলক', 'পদ্মপাতার পানি', 'ওগো বিদেশিনী', 'তুমি মোর জীবনের ভাবনা', 'আমি চিরকাল প্রেমের কাঙাল' প্রভৃতি।.

এন্ড্রু কিশোর 'জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প', 'হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস', 'ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে', 'আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি', 'আমার বুকের মধ্যে খানে', 'আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান', 'ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা', 'সবাই তো ভালোবাসা চায়', 'পড়ে না চোখের পলক', 'পদ্মপাতার পানি', 'ওগো বিদেশিনী', 'তুমি মোর জীবনের ভাবনা', 'আমি চিরকাল প্রেমের কাঙাল' এর মতো বহু মর্মস্পর্শী গান শুধু স্মৃতি হিসেবে থাকবে। এন্ডু্র কিশোরের গানের কলি হয়ে থাকবে আমাদের হৃদয়ের মাঝে। 'চিরকাল প্রেমের কাঙাল' ভক্তের মণিকোঠায় স্মৃতি হয়ে রয়ে গেলেন তিনি। গভীর শোক ও প্রাণান্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রিয় শিল্পী এন্ড্রু কিশোর।

শফিকুল ইসলাম খোকন: কলাম লেখক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে