logo
শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ০৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

বিশেষজ্ঞ অভিমত

দেশে করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছিল সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে সংক্রমণ ছড়িয়েছে

দেশে করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা
দেশে কোভিড সংক্রমণ যখন তুঙ্গে তখনও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। সড়ক-ব্রিজ পারাপারে অনেকেই সামাজিক দূরত্ব মানছেন না, পরছে না মাস্কও। ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা ছাড়া কোনোভাবেই করোনা মোকাবিলা সম্ভব নয়। ছবিটি মঙ্গলবার রাজধানীর বাবুবাজার থেকে তোলা -ফোকাস বাংলা
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে সংক্রমণ প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসজনিত (কোভিড-১৯) মহামারি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকার সাধারণ ছুটি, লকডাউন পরিস্থিতিসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। করোনা নিয়ন্ত্রণে এখনো সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ চলছে। কিন্তু সংক্রমণ কমছে না। মৃতু্যও বাড়ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জন। মৃতু্য হয়েছে দুই হাজার ৯৬ জনের।

পরীক্ষাসাপেক্ষে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ তিন থেকে চার হাজারের মধ্যে ওঠানামা করছে। দীর্ঘ চার মাসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। স্বাভাবিক হতে আর কত দিন সময় লাগবে সেটাও এখন অনিশ্চিত। বরং এটা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। যার ফলে সংক্রমণ ছড়িয়েছে এবং সংক্রমণ দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন সংক্রমণের হার যে পর্যায়ে রয়েছে, পরীক্ষা বাড়লে তা আরও বাড়বে। কারণ করোনা এখন ঢাকার বাইরে ব্যাপকহারে ছড়িয়েছে, গ্রাম পর্যায়ে চলে গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যে পরিমাণ পরীক্ষা হচ্ছে অন্য জেলায় তা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে সংক্রণ কোন পর্যায়ে আছে তা-ও নির্দিষ্ট করা যাচ্ছে না।

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কোরবানির পশুর হাট এবং ঈদে ঢাকার বাইরে যাওয়া-আসাসহ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত বেড়ে যাবে। দুই-একদিনের মধ্যেই শুরু হবে পশুর হাট। এর পর রয়েছে ঈদের ছুটিতে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত। এতে স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণ আরও বাড়বে বলে ওই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

তাদের মতে, বাংলাদেশ এখনো ঝুঁকির মধ্যেই আছে। প্রতিকার ব্যবস্থা জোরালো না হলে এবং বর্তমান অবস্থায় চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এ জন্য প্রতিরোধের যে ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়েছে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে।

এদিকে এই সময়ে করোনা সংক্রমণের ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকেও একটা আঞ্চলিকতার প্রভাব লক্ষ করা গেছে। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তানেও সমানতালে সংক্রমণ বাড়ছে। ভারত সংক্রমণের দিক থেকে ইতোমধ্যে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দেশের অবস্থানে চলে এসেছে। রাশিয়াকে টপকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলের পরই ভারতের অবস্থান। সেখানে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৩ জনে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ৬৯৩ জন হয়েছে। পাকিস্তানেও সংক্রমণ বাড়ছে। সেখানে এ পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৭৪ জন। মারা গেছে ৪ হাজার ৭১২ জন। এই তিনটি দেশেরই স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং মানুষের আচরণ প্রায় একই। তাই একটি দেশে বাড়তি থাকলে অন্য দেশগুলোতে একইরকম প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর এবিএম আব্দুলস্নাহ বলেন, 'আমাদের দেশে এখনো সংক্রমণ ও মৃতু্যর হার বেড়েই চলেছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যেই আছি। এই হার এবং ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। এটা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছাবে বা কবে নাগাদ স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না।'

তিনি বলেন, সংক্রমণ প্রতিদিন ৩ হাজার থেকে ৪ হাজারের মধ্যে রয়েছে। ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক দেশেই এখনো বাড়ছে। ইতালিতে নতুন করে সংক্রমণ হচ্ছে, আমেরিকায় আবার সংক্রমণ হচ্ছে, লকডাউন দিচ্ছে। এই ভাইরাসের চরিত্র এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তাই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যবিধি কার্যকরভাবে মেনে চলার বিকল্প নেই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এমএইচ চৌধুরী লেলিন (লেলিন চৌধুরী) বলেন, 'প্রতিরোধের জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তা আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। যার ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বাড়ছে। আবার আমাদের পরীক্ষার সামর্থ্যও কমেছে। পূর্ণ উদ্যোমে পরীক্ষা করতে পারলে বোঝা যেত পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে। এই ভাইরাসের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমরা জানি না। একেক জায়গায় একেক ধরনের। প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরালো করতে না পারলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।'

তিনি বলেন, 'কোরবানির সময় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিরোধের ব্যবস্থাগুলো ঠিকমতো কার্যকর হলে অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও তিন মাসে কমে যেত। কিন্তু সেটা না হওয়ায় এখন সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।'

রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বর্তমান উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, 'দিন দিন সংক্রমণ বাড়ছে। যত বেশি পরীক্ষা করা যাবে তত প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে। কারণ ঢাকার বাইরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। ভারত, পাকিস্তান এবং আফ্রিকার দেশগুলোতেও বাড়ছে। এসব জায়গায় একই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যাচ্ছে। আমরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছি। তাই প্রতিরোধের উদ্যোগ ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।'

লাল, হলুদ, সবুজ জোন চিহ্নিত করে দ্রম্নত শক্ত বেষ্টনী গড়ে তোলার পরামর্শ তিনি বলেন, 'আমাদের দেশে এখন গণসংক্রমণ হচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগের। এটা কমা বা নিয়ন্ত্রণে আসা পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। বন্যার পানি এমনিতেই কমে যায়। কিন্তু জোরালো পদক্ষেপ না নিলে এই ভাইরাস যাবে না।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে