মোরেলগঞ্জের গ্রামগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়ি

মোরেলগঞ্জের গ্রামগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়ি

এমবিবিএস পাস না করেই সবাই নামের আগে ডাক্তার পদবি লেখেন। কিন্তু তাদের কেউ ডাক্তার নন। চোখে চশমা, হাতে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ফার্মেসির ভিতরে চেম্বার, চেম্বারে রোগীর দীর্ঘলাইন, রোগীদের দেখেশুনে লিখছেন প্রেসক্রিপশন, দিচ্ছেন দিকনির্দেশনা। অনেক সময় করেছেন কাটাছেঁড়াও। বেশভূষাসহ কথা বলার ঢঙে মনে হবে এ কোনো ডিগ্রিধারী ডাক্তার। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রভাবশালীদের মদদে ভুয়া চিকিৎসক ও লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিতে ভরে গেছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা। কথিত এ চিকিৎসকদের দ্বারা খুব সহজেই প্রতারিত হচ্ছেন গ্রামের সহজ-সরল মানুষ। কিন্তু এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের তেমন কোনো নড়াচড়া নেই। চিকিৎসা সেবার নামে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি করে এসব ভুয়া চিকিৎসক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাহারি ডিগ্রি সংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রোগীদের প্রতারিত করে চলেছেন এসব ভুয়া চিকিৎসক। সব মিলিয়ে মোরেলগঞ্জের গ্রামেগঞ্জে চিকিৎসা সেবার নামে চলছে চরম অরাজকতা।

এই চিকিৎসকদের পাল্লায় পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে রোগীদের জীবন। বিশেষ করে এই করোনাকালে গ্রামের মানুষজন শহরে যেতে না পারায় আগের চেয়ে আরও বেশি বেশি ছুটছেন এসব ভুয়া চিকিৎসকের কাছে।

এ চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা, অবহেলা ও বাণিজ্যের গ্যাঁড়াকলে পড়ে অনেক রোগী মারা যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে। আবার অনেকেই তাদের দেওয়া ভুল ওষুধ সেবন করে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর সরকার ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ নামে একটি আইন অনুমোদন দেয়। এই আইন মতে, এমবিবিএস ও বিডিএস পাস করা চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ডাক্তার বা ডিগ্রি লিখতে পারবেন না। কিন্তু বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে এ আইন লঙ্ঘনের চিত্র ভূরিভূরি।

মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ভাইজোড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ রাহাতুল ইসলাম জয় বলেন, করোনার সময় গ্রামের ভুয়া চিকিৎসকদের কাছে মানুষ বেশি যাচ্ছে। শহরের হাসপাতাল, ক্লিনিকে করোনার ভয়ে অনেকেই যেতে চাচ্ছে না। তাই তারা ছুটছে এই ভুয়া চিকিৎসকদের কাছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (মার্চ ২৫) চক্ষু ক্যাম্প করে প্রতারণার দায়ে ৩ ভুয়া চিকিৎসক আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেনÑ মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সোনাডাংগা গ্রামের আজহারুল ইসলামের ছেলে ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মো. মিজানুর রহমান (৩০), বাগেরহাট সদর উপজেলার কোড়ামারা গ্রামের বাবর আলী মল্লিকের ছেলে জুয়েল মল্লিক ও একই গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান (৩৪)। আটক মিজানুর রহমান মোড়েলগঞ্জ ইউনিয়নের বিষখালী কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত আছেন।

এসব অভিযান প্রসঙ্গে জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. আবদুল বাসির জানান, চিকিৎসক সেজে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন এসব ভুয়া চিকিৎসক। এরকম তিন ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেলেই সবাই চেম্বার ও দোকান বন্ধ করে পালায়।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. কে, এম, হুমায়ুন কবির বলেন, ভুয়া চিকিৎসকদের ধরতে উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জনের অফিসের পক্ষ থেকে অভিযান শুরু হবে। এমবিবিএস ও বিডিএস পাস করা চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবে না। বর্তমানে যারা পল্লী চিকিৎসক রয়েছেন, তাদের কোনো প্রশিক্ষণ বা সরকারি সার্টিফিকেট নেই, তারাও ভুয়া চিকিৎসক। আবার অনেকে আছেন, ফার্মেসি খুলে লাইসেন্সবিহীন ডাক্তার সেজেছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে