শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস কাল

স্বাভাবিক প্রসবের ৭৮% মিডওয়াইফদের হাতে

পাঠান সোহাগ
  ০৪ মে ২০২৪, ২১:০৬
ফাইল ছবি

দেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমলেও প্রতি ১ লাখ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছে ১৫৬ জন মা । প্রতিবছর গর্ভাবস্থা এবং প্রসবজনিত জটিলতায় ৪ হাজারের বেশি মায়ের মৃত্যু হচ্ছে । এদিকে দেশে গর্ভবতী মায়েদের স্বাভাবিক প্রসবের ৭৮ শতাংশই হচ্ছে মিডওয়াইফদের হাতে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছে, দেশে ২০২০ সালে প্রসবকালীন সময়ে প্রতি লাখে মাতৃমৃত্যু ছিল ১৬৩ জন । কিন্তু জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ছিল—মৃত্যুহার প্রতি লাখে ১২১ জনে নামিয়ে আনা । এভাবে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি লাখে ৮৫ জনে নামিয়ে আনা । ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এই হার ৭০ জনে নামিয়ে আনতে হবে ।

এমন পরিস্থিতিতে ‘মিডওয়াইফ, জলবায়ু সংকটে অপরিহার্য জনশক্তি’ এই প্রতিপাদ্যে নিয়ে সারাবিশ্বের মত আগামী কাল (রোববার) বাংলাদেশেও পালিত হবে ‘আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস—২০২৪।

বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির সভাপতি আসমা খাতুন যায়যায়দিনকে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় এটি ৭০ এ নামিয়ে আনার চেষ্টা হলেও, এটি অর্জনে এখনো বাংলাদেশ অনেক দূরে রয়েছে । জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। দিন যত যাচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব তাপপ্রবাহ, বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুরারোগ্যের সম্মুখীন হচ্ছে । যা উল্লেখযোগ্যভাবে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে ।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের আড়াই হাজারের কিছু বেশি মিডওয়াইফ রয়েছে । জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে এ সংখ্যা খুবই অপ্রতুল । ঘাটিত পূরণে ৫ হাজার পদ সৃষ্টির আবেদন করা হয়েছিল । নানা জটিলতার কারণে ৪০১ জনের অনুমোদন পাওয়া গেছে । তবে ইতিমধ্যে ৩ হাজার নার্স নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে । আরও ৫ হাজার পদ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যেই নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হবে। তখন সংকট কমে যাবে।

বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, দেশে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল থেকে নিবন্ধন করা মিডওয়াইফের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার । জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন সাব সেন্টারে তিন হাজার মিডওয়াইফ পদ থাকলেও প্রায় ২ হাজার ৫৫৭ জন মিডওয়াইফ কাজ করছেন । সেবাগ্রহীতার তুলনায় মিডওয়াইফদের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন সেবাদান ব্যহত হচ্ছে ।

একাধিক মিডওয়াইফ যায়যায়দিনকে বলেন, মায়েদের গর্ভাবস্থা, প্রসববেদনা ও প্রসবের শুরুর অবস্থায় পরামর্শ ও নবজাতকের যত্ন নিতে সহায়তা করেন একজন মিডওয়াইফ । প্রসূতির স্বাস্থ্য ও শিশুর পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ দেন । মা ও সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য মিডওয়াইফ ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকেন । সব মিলিয়ে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে মিডওয়াইফরা বড় ভূমিকা রাখেন । তাই সরকারি—বেসরকারিভাবে মিডওয়াইফদের উপরে বিনিয়োগ করা, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া এবং তাদের পূর্ণ পরিসরে অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া জরুরি ।

প্রসূতি চিকিৎসকদের সংগঠন ‘অবসট্রিটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ (ওজিএসবি) একাধিক চিকিৎসক বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতিতে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনো অনেক কাজ বাকি । কারণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় মিডওয়াইফের সংখ্যা কম । সব হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজের উপযুক্ত পরিবেশও নেই । তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এখনো মিডওয়াইফদের অনেকে নার্স ভাবেন । স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাও মিডওয়াইফদের কার্যপরিধি সম্পর্কে খুবই কম জানেন।

আগামীকাল আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফারি: এদিকে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফারি দিবস পালনে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছেন । আগামী কাল (রবিবার) সকাল ৮টায় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্ত্বরে অবস্থিত ঢাকা নার্সিং কলেজ থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বেড় হবে । এসময় চিকিৎসক, মিডওয়াইফ ও নার্সদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি ঢাকা বিশ্বব্দ্যিালয়ের টিএসসি এলাকা প্রদর্শন করবে । পাশাপাশি দেশের সরকারি—বেসরকারি হাসপাতাল ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট বিতরণ করা হবে ।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে