শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

অতিরিক্ত তাপাদহে ঔষধের গুনগত মান নষ্ট হচ্ছে ফার্মেসীতে

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
  ১৬ মে ২০২৪, ১২:২৮
ছবি-যায়যায়দিন

তীব্র তাপাদহে জীবন রক্ষাকারী ঔষধের মানের উপর পড়ছে প্রভাব।অতিরিক্ত তাপে ঔষধের মান নষ্ট হয়ে পড়ছে । রোগীদের উপর পড়ছে এর বিরুপ প্রভাব।স্বাভাবিক সংরক্ষণ জাতীয় ওষুধ তীব্র গরমে নষ্ট হয়ে মানহীন হয়ে পড়ছে জানিয়েছেন ভোক্তা ও বিক্রেতারা।

জানা যায়, দেশে প্রায় ৯০ শতাংশই ওষুধই ১৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণযোগ্য। তাপমাত্রার উঠানামা হলেই ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। ওষুধের গুণগতমান ঠিক রাখতে সাধারণত আলোর আড়ালে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে রাখতে হয়। এটি ওষুধের প্রতিটি বক্সে উল্লেখ করা থাকে।

বগুড়া সারিয়াকান্দি পৌর এলাকা, কড়িতলা, নারচী, হাসনাপাড়া সহ ১২ টি ইউনিয়ের চরাঞ্চলে ছোট বড় প্রায় শতাধিক ফার্মেসী রয়েছে। এসব ফার্মেসির কোনোটিতেই এই তীব্র গরমে ওষুধ সংরক্ষণের বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ওষুধের গুণগতমান ঠিক রেখে ওষুধ বিপণন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তবে পৌর এলাকার বড় ফার্মেসি গুলোতে টিকা ও ইনসুলিন জাতীয় ওষুধ সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও বাকি ওষুধগুলো সাধারণভাবেই রাখা হয়।

ওষুধ ক্রেতা সবুজ মাষ্টার বলেন,ওষুধের প্যাকেটের গায়ে লেখা সহনীয় তাপমাত্রার চেয়ে বর্তমানে এলাকায় অনেক বেশি তাপমাত্রা বিরাজ মান। রয়েছে বিদ্যুতের দীর্ঘ লোড শেডিংও। এই অবস্থায় ওষুধ নষ্ট হয়ে কার্যকারিতা হারানো স্বাভাবিক। আর এই নষ্ট ওষুধ সেবন করে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

পৌর এলাকার যমুনা ফার্মেসির মালিক সৈকত বলেন, এই তীব্র গরমে আমরা ফ্যান চালিয়ে চেষ্টা করছি ওষুধের মান ঠিক রেখে সংরক্ষণ এবং বিক্রি করতে। তবে ক্রেতার হাতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের মান নষ্ট হতে পারে। কারণ সব ক্রেতা ওষুধ রাখার যথাযথ তাপমাত্রা মেনে সংক্ষরণ করতে পারেন না।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নিয়ম অনুযায়ী, ওষুধের কার্যকারিতা রক্ষায় পরিবহণ, বিপণন, মজুত ও সংরক্ষণের প্রতিটি স্তরকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। সাধারণ স্টোরেজ বা সংরক্ষণের তাপমাত্রার পরিসীমা ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওষুধের জন্য ঘরের আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছে ৬৮ ও ৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতল অবস্থায় হলো ৪৬ থেকে ৫৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৮ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওষুধের প্যাকেটের গায়েও ওষুধ সংরক্ষণের জন্য সহনীয় মাত্রা উল্লেখ করে নির্দেশনা দেওয়া থাকে। কিন্তু ওষুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা খুব বেশি মানা হচ্ছে না।

পরিবহণের ক্ষেত্রেও দেখা যায় তীব্র গরমে এসি ছাড়া গাড়িতে ওষুধ পরিবহণ করতে। ফলে তীব্র তাপদাহে যথাযথ রক্ষাণা বেক্ষণের অভাবে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের কার্যকারিতা হরিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা।

এ বিষয়ে উপজেলা বগুড়া জেলা ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মোঃআব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করা না হলে তার গুণগত মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এখনো যে তাপমাত্রা বগুড়া আছে তাতে ওষুধের মানের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা নাই। তারপর আমাদেরকে ওষুধ প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিছু গাইড লাইন মেনে চলার সেটি আমি স্হানীয় (বিসিডিএস) কে জানিয়ে দিয়েছি যাতে তারা সচেতনা মূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.তৌহিদুর রহমান বলেন, তীব্র দাবদাহে ওষুধের মান ঠিক রাখতে ফার্মেসি মালিকদের সচেতন করা হবে।আরও এ বিষয়ে বগুড়া ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিবো।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে