রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ভারতীয়রা আর সন্তান চাইছেন না: সমীক্ষা

যাযাদি ডেস্ক
  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:৪৬

ভারতীয়রা সন্তান নিতে আর আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাদের মধ্যে প্রজননের হার কমেছে। এমনই এক সংবাদ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যম।

দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, গত এক দশকে ভারতে সাধারণ উর্বরতা হার ২০ শতাংশ কমেছে। সাধারণ উর্বরতা হার বা জিএফআর হলো ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রতি ১০০০ জন নারী পিছু সন্তান উৎপাদনের হার। মূলত, এর মাধ্যমে জানা যায়, ঠিক কী পরিমাণ সন্তান উৎপাদন করছেন কোনো দেশের নারীরা। এটা এক ধরনের সমীক্ষা।

এ সমীক্ষা অনুসারে অনুমান করা সম্ভব ভবিষ্যতে ভারতের জনসংখ্যা কোথায় পৌঁছতে পারে। ফলে এই সমীক্ষাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা। হিসাব বলছে ২০০৮ থেকে ২০১০— এ তিন বছরের সময়পর্বে ভারতের জিএফআর ছিলো ৮৬.১ শতাংশ। পরবর্তী পর্যায়ে ২০১৮-২০ সালের মধ্যে ওই হার অনেকটাই কমে গিয়েছে। কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৭ শতাংশ। দেশের গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক সন্তান উৎপাদনের হার কমেছে ২০.২ শতাংশ আর শহরে জিএফআর কমেছে ১৫.৬ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, জিএফআর ভারতের জনঘনত্বের ঘাটতির দিকটি নির্দেশ করে, যা এই দেশের ক্ষেত্রে খানিকটা হলেও স্বস্তির বিষয়। নারীদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে করা, পড়াশোনার প্রতি বাড়তি আগ্রহ এবং বাজারে গর্ভনিরোধকের ব্যাপক প্রাপ্তি— এসব বিষয়ের ওপর কিন্তু জিএফআর এর ওঠানামা অনেকটা নির্ভর করে।

২০১০ থেকে ২০২০ এর মধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যগুলোর মধ্যে জন্মু-কাশ্মিরের জিএফআর সবচেয়ে কমেছে (২৯.২)। দিল্লিতে জিএফআর (২৮.৫), উত্তর প্রদেশে (২৪) ঝাড়খণ্ডে (২৪) এবং রাজস্থানে (২৩.২)।

ভারতে মোট সন্তান উৎপাদনের হার বা টোটাল ফার্টিলিটি রেট (টিএফআর) হলো ২। বিহারে টিএফআর সর্বাধিক ৩। দিল্লি, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে টিএফআর হলো সর্বনিম্ন ১.৪।

অনেকেই একটি বিষয়ে একমত যে ভারতে অনেক দুর্দশার প্রধান ও প্রথম কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি। তাই দেশটির জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে একটি আইন প্রয়োজন। কারণ, সন্তান কম উৎপাদিত হলে জনসংখ্যা কমবে— সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। তাই ভারতের স্যাম্পেল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম প্রদত্ত এ তথ্য দেশটির জন্য খানিকটা স্বস্তির।

যদিও কয়েক দিন আগে একটি সমীক্ষায় জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভারতে জনসংখ্যা কমার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একটি সমীক্ষায় জানা গেছে, আগামী ৭৮ বছরে ভারতের জনসংখ্যা কমবে ৪১ কোটি। সার্বিক প্রজনন ক্ষমতা কমার জন্যই যে জনসংখ্যা কমবে, তাও বলা হয়েছিল ওই সমীক্ষায়। তবে ভারতীয়রা যে আগের মতো করে সন্তান চাইছেন না, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের সমীক্ষায়। সূত্র : দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে