আল-আকসায় ফের তান্ডব ইসরাইলের

মসজিদে ঢুকে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান, নারী-পুরুষসহ আহত শতাধিক
আল-আকসায় ফের তান্ডব ইসরাইলের

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রথম কেবলা হিসেবে পরিচিত জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে আবারও তান্ডব চালিয়েছে ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার পবিত্র রমজান মাসের ২৮তম দিনে মসজিদে ইবাদতরত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় তারা। ইবাদতরত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার সময় রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং শব্দ বোমা নিক্ষেপ করে ইসরাইলি বাহিনী। এ ছাড়া হামলার সময় আল-আকসা মসজিদ এবং এর কম্পাউন্ডসহ আশপাশের এলাকার ওপর দিয়ে টহল দেয় ইসরাইলি হেলিকপ্টার। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা

ফিলিস্তিনি 'রেড ক্রিসেন্ট' জানিয়েছে, ইসরাইলিদের হামলায় এখন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মসজিদ ও এর আশপাশের সহিংসতাপূর্ণ এলাকায় তাদের মেডিকেল টিমকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

সোমবার ভোরে আল-আকসা মসজিদে ফজরের নামাজে অংশ নেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। নামাজের পর তাদের একটি বড় অংশ মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভ শেষে বহু ফিলিস্তিনি উগ্র ইহুদিদের মিছিল ঠেকাতে মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। পাল্টা জবাবে ইসরাইলিদের দিকে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা। এদিন পুরনো শহরটির শেখ জাররাহ এলাকাতেও ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধে পিছু হটতে বাধ্য হয় ইহুদি দখলদাররা।

'ওয়াকফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স' জানায়, হামলার সময় ফিলিস্তিনিরা সেখানে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন এবং ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া রাবার-আচ্ছাদিত ধাতব গুলিতে বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি আহত হন। পরে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট আবারও জানায়, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কয়েকশ ফিলিস্তিনি নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কমপক্ষে ৭০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া টিয়ার গ্যাসের তীব্র ধোঁয়ায় ছয় সাংবাদিকও আহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে আল-কিবলি মসজিদের ভেতর ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি ও বিকট শব্দ উৎপন্নকারী স্টান গ্রেনেড ছুড়তে দেখা যায়। এ ছাড়া আল-আকসা মসজিদের ভেতর ফিলিস্তিনি নারী ইবাদতকারীদের ওপরও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা যায় ইসরাইলি বাহিনীকে।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আল-আকসা মসজিদের 'মাগরিবি গেট' দিয়ে ভেতরে ঢুকে অভিযান শুরু করে ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী। সে সময় এই গেটের বাইরেই 'জেরুজালেম দিবস' উপলক্ষে হাজার হাজার ইহুদি বসতি স্থাপনকারী সেখানে জড়ো হয়েছিল। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখলের বর্ষপূর্তি পালন করতেই ইহুদিরা 'জেরুজালেম দিবস' পালন করে থাকে। ফিলিস্তিনিরা একে নির্বিচারি উসকানি হিসেবে দেখে থাকে। মুসলমানদের কাছে তৃতীয় পবিত্রতম স্থাপনা আল-আকসা মসজিদ। ইহুদিরা এটিকে 'টেম্পল মাউন্ট' বলে থাকে। তাদের দাবি, এখানে প্রাচীনকালে ইহুদিদের দুটি উপাসনালয় ছিল।

এর আগে শনিবার পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতেও জেরুজালেমে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরাইলি বাহিনী। পবিত্র রমজান মাসে পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপনের জন্য মুসলমানদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ চেষ্টার ঘটনায় এমনিতেই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই গত কয়েক দিন ধরে আল-আকসা মসজিদের মুসলিস্নদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে ইসরাইলি বাহিনী।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। জেরুজালেম থেকে নতুন করে ফিলিস্তিনিদের তাড়ানো হবে বলে আশঙ্কা ছড়ানোর পর এই উত্তেজনা শুরু হয়। পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার, অর্থাৎ জুমাতুল বিদা উপলক্ষে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জড়ো হলে তাদের ওপর অভিযান চালায় ইসরাইলি পুলিশ।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকেই পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে ইসরাইল। পেশীশক্তির জোরে পুরো শহরকে তারা নিজেদের রাজধানী দাবি করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এতে স্বীকৃতি দেয়নি। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা চায়, পূর্ব জেরুজালেম হবে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন দেশের রাজধানী।

পূর্ব জেরুজালেমে নিজেদের বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। যেকোনো ধরনের উচ্ছেদ কর্মকান্ড বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানোরও আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি। ফিলিস্তিনিদের বলপূর্বক বাস্তুচু্যত করার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আরব লিগ। ইসরাইলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আখ্যায়িত করে ফিলিস্তিনিদের ওপর দেশটির তান্ডবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েপ্রণ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়ে্যপ এরদোয়ান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে