বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1
মিয়ানমার

গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে নিহত দুই হাজার যোদ্ধা

ম যাযাদি ডেস্ক
  ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
সামরিক অভু্যত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে নেওয়া জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিয়ানমারে কমপক্ষে দুই হাজার গণতন্ত্রপন্থি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সমান্তরাল বেসামরিক সরকারের প্রধান জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মিত্রদের কাছে সামরিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বেসামরিক সরকারের প্রধান ডুয়া লাশি লা এই মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়। সংবাদসূত্র : রয়টার্স গত বছরের ১ ফেব্রম্নয়ারি অভু্যত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রক্তপাতহীন সেই অভু্যত্থানে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। অভু্যত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত অং সান সু চি এবং তার দল এনএলডির বহু নেতাকর্মীকে গৃহবন্দি বা কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। পরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে গঠিত হয় ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)। এটি মিয়ানমারের সামরিক সরকার-বিরোধী 'ছায়া সরকার' হিসেবেও পরিচিত। এই ছায়া সরকারের অধীনেই মূলত জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থিরা। ক্ষমতাচু্যত নেত্রী অং সান সু চিসহ অন্যদের প্রশাসনের অবশিষ্টাংশের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডুয়া লাশি লা। মিয়ানমারের একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে রয়টার্স নেক্সট-এ কথা বলেন তিনি। ডুয়া মিয়ানমারের সাবেক একজন শিক্ষক ও আইনজীবী। সামরিক অভু্যত্থানের পর উত্তর মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যে তিনি তার বাড়ি থেকে পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে যান। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমরা (মৃতু্যকে) মূল্য হিসেবে বিবেচনা করি, যেটি আমাদের অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।' অবশ্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাকে ও তার সহকর্মীদের 'সন্ত্রাসী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং নাগরিকদের তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু ডুয়ার এই সমান্তরাল বেসামরিক সরকারের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে মিয়ানমারে। এছাড়া 'পিপলস ডিফেন্স ফোর্স' নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীও দেশজুড়ে তাদের মিত্র হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। ডুয়া লাশি লা বলেন, 'আমি কখন আমার জীবন বিসর্জন দেব, তা জানি না। এটি ঈশ্বরের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। আমি এরই মধ্যেই আমার দেশের জন্য যে কোনো কিছু ত্যাগ করতে প্রতিশ্রম্নতিবদ্ধ।' সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি অশান্তির মধ্যে রয়েছে। প্রায় এক দশকব্যাপী চলে আসা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কার্যত উল্টে দেওয়া হয়েছে এবং জান্তা সরকার দেশটিতে বিক্ষোভ দমন করতে মারাত্মক শক্তি ব্যবহার করেছে। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে দুই হাজার যোদ্ধা মারা যাওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারের অন্যত্র আড়াই হাজারের বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। প্রাণ হারানো এসব বেসামরিক মানুষের বেশিরভাগই বিক্ষোভে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মিয়ানমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা একটি মানবাধিকার গ্রম্নপ।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে