মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1
বিদু্যৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ২

ইউক্রেনে ঝাঁকে ঝাঁকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র

মার্সিডিজ গাড়ি চালিয়ে ক্রিমিয়া সেতু পার হলেন পুতিন
ম যাযাদি ডেস্ক
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে আবারও ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের সেনারা জানিয়েছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেসামরিক অঞ্চল এবং বেশ কয়েকটি বিদু্যৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া জাপোরিঝিয়ায় বন্দুকের লড়াইয়ে দুইজনের মৃতু্য হয়েছে। পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবশ্য দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজনের মৃতু্য হয়েছে। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, এএফপি, নিউ ইয়র্ক টাইমস জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি রকেট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সাহায্যে ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু সব অঞ্চল বাঁচানো যায়নি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ওডেসা শহরের। এ ছাড়া চারকেসি এবং ক্রিভি রিহ অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ওডেসায় পাম্পিং স্টেশন মিসাইলে ধ্বংস হয়েছে। ফলে গোটা শহরে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, উত্তরের বেশকিছু জায়গায় বিদু্যৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেলেনস্কি অবশ্য জানিয়েছেন, হামলার পরেই বিদু্যৎ কেন্দ্রগুলোয় কাজ শুরু হয়েছে। বিকালের পর থেকে ফের বিদু্যৎ ফিরতে শুরু করেছে। ইউক্রেনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার রাশিয়ার দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার ভেতর ঢুকে ওই দুই সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তার। যদিও ইউক্রেনের অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। জেলেনস্কিও এ বিষয়ে কিছু জানাননি। ওই হামলায় দুটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের সেনা ওই দুই ড্রোনের সাহায্যে রাশিয়ার ভেতরে ঢুকে সেনা ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। ইউক্রেনের স্পেশাল ফোর্সের পেছনে আছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকজন। কিয়েভকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দাবি অস্বীকার করেন। তবে ওই হামলার পরই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি শুরু করে ক্রেমলিন। মার্সিডিজ গাড়ি চালিয়ে ক্রিমিয়া সেতু পার হলেন পুতিন এদিকে, পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলো যখন প্রচার করছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন গুরুতর অসুস্থ, সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত, তখন সব জল্পনার অবসান ঘটালেন তিনি নিজেই। একটি মার্সিডিজ গাড়ি চালিয়ে সেই ক্রিমিয়া সেতু পার হয়েছেন পুতিন। রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে সংযুক্তকারী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সোমবার সেতুটি পার হওয়ার সময় রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন পুতিনের সঙ্গে ছিলেন। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, মস্কো টাইমস, সিএনএন রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সংযোগ স্থাপন করেছে একমাত্র এই সেতুটি। সাগরের ওপর ১৯ কিলোমিটারের সড়ক ও রেল সেতুটিকে রাশিয়ার অবকাঠামোগত শক্তি হিসেবে দেখা হয়। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া 'গণভোটের' মাধ্যমে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে রাশিয়া। এরপর ২০১৮ সালে সেতুটির উদ্বোধন করেন পুতিন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে পুতিনকে মার্সিডিজ গাড়িটির চালকের আসনে দেখা গেছে, সেতুর কোন অংশে হামলাটি হয়েছে, এ সময় তা নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন তিনি। অক্টোবরের প্রথম দিকের ওই বিস্ফোরণে সেতুটির একটি অংশ ধসে পড়ার দুই মাসের কম সময়ের মধ্যে নিজে গাড়ি চালিয়ে সেতুটি পার হন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। গত ৮ অক্টোবর সেতুটিতে ঘটা বোমা বিস্ফোরণের জন্য রাশিয়া ইউক্রেনকে দায়ী করেছিল। রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস অভিযোগ করেছিল, ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এই হামলা চালিয়েছে। পুতিনের ৭০তম জন্মদিনের পরদিন ভোরে সেতুটিতে বোমা হামলা চালানো হয়। কিন্তু ইউক্রেন কখনোই এর দায় স্বীকার করেনি। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেছিলেন, 'ক্রিমিয়া সেতু দিয়ে শুরু। অবৈধ সবকিছু ধ্বংস করতে হবে, চুরি যাওয়া সবকিছু ইউক্রেনকে ফেরত দিতে হবে, রাশিয়ার দখলে থাকা সবকিছু থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে।' এরপর প্রতিশোধ হিসেবে রাশিয়া ব্যাপক হামলা চালায় ইউক্রেনে, যে হামলা অব্যাহত আছে। গাড়ি চালিয়ে সেতুটি পার হওয়ার সময় পুতিন বলেন, 'আমরা ডানদিক দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। যা বুঝলাম, সেতুটির বাম পাশে কাজ হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ হওয়া দরকার। এখনো একটু কাজ বাকি আছে, এটিকে আদর্শ অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে।' পুতিন সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দেখার জন্য কিছুটা পথ হেঁটেও যান, সেখানে আগুনে ঝলসে যাওয়ার দাগ দেখা যাচ্ছিল। বিস্ফোরণে সেতুটির সড়ক পাশের একটি অংশ ধসে পড়ে, এতে গুরুত্বপূর্ণ কের্চ প্রণালিতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই বিস্ফোরণে পাশের রেল সেতুতে রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়ার পথে থাকা একটি ট্রেনের জ্বালানিবাহী সাতটি ট্যাংকার ওয়াগনও ধ্বংস হয়। রাশিয়ার ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভের আমলে সোভিয়েত রাশিয়া থেকে সোভিয়েত ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ১৯৯৪ সালে তৎকালীন রাশিয়া তা মেনেও নিয়েছিল। কিন্তু পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া ২০১৪ সালে কৃষ্ণ সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপদ্বীপটিকে ফের নিজেদের ভূখন্ড ভুক্ত করে নেয়।  ইউক্রেন ক্রিমিয়া ফেরত নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। প্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য উপদ্বীপটি এখন এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে