করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি

স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ ইতিবাচক
করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। তারা ঠিকমতো ব্যবসা চালাতে পারছে না। ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আশার কথা, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের চলতি মূলধন জোগান দেওয়ার জন্য চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ দেবে গ্রাহক। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে সরকার। শিল্প ও সেবা খাতের যেসব প্রতিষ্ঠান (এসএমই ব্যতীত) করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শুধু সেসব প্রতিষ্ঠান এ প্যাকেজের আওতায় সুবিধা পাবে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের এপ্রিলে কম সুদে প্রণোদনা ঋণ বিতরণ শুরু হয়। প্রথম দফার ঋণ বিতরণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এর আওতায় ব্যাংকগুলো ছোট ও বড় উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে চলতি মূলধন হিসেবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। সব মিলিয়ে গত বছর ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব প্যাকেজের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল ব্যাংকঋণ নির্ভর।

এবার করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনার ঋণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এবার ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুনদের অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে প্রথম বছরে যেসব গ্রাহকের প্রাপ্ত ঋণের পুরোটা ছাড় করা সম্ভব হয়নি, সেসব গ্রাহকের প্রাপ্য ঋণের অবশিষ্ট অংশ জুলাই মাস থেকে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পুরনো গ্রাহকদের অবশিষ্ট ঋণ বা বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক চলতি মূলধন বাবদ মঞ্জুরিকৃত বা প্রদত্ত সীমার ওপর ভিত্তি করে ঋণের প্রাপ্যতা নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়। এর আগে ২৮ জুলাই শিল্প ও সেবা খাতে কম সুদের প্রণোদনার দ্বিতীয় দফার ঋণ বিতরণের নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, গত বছর যারা এই ঋণ পায়নি, এবার তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

উলেস্নখ্য, করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনা ঋণ বিতরণ হবে ৫৩ হাজার কোটি টাকার। এছাড়া কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য এবারও বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার, বাকিটা গ্রাহক দেবে।

এটা সত্য করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অনেকের চাকরি নেই, ব্যবসাবাণিজ্যের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। এমন পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগ ইতিবাচক। করোনায় অর্থনৈতিকভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে ঋণ পায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর পাশাপাশি স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে