অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য দ্রম্নত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য দ্রম্নত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

আবারও বেড়েছে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা। রাজধানীসহ সারাদেশে বেপরোয়া অজ্ঞান পার্টি। সাধারণ মানুষ তো নয়-ই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশেই সক্রিয় হয়ে উঠছে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা। কোরবানির পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারাই এদের প্রধান টার্গেট। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিং সেন্টারের আশপাশেও ওতপেতে থাকে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো। ঈদ উপলক্ষে কোরবানির পশুসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার জন্য অনেকেই মোটা অঙ্কের টাকা বহন করেন। এমন ব্যক্তিদেরই টার্গেট করে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা বা মূল্যবান সম্পদ। এতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন অনেক ভুক্তভোগী। এমনকি মৃতু্যর ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি ঈদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অজ্ঞান পার্টির ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে চক্রের আরও শতাধিক সদস্য। ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা চক্রের সদস্যরাই আসন্ন ঈদে ছিনতাইয়ের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সেখানে চিকিৎসার জন্য যায়। জানুয়ারি থেকে জুন মাসে দু'শতাধিক মানুষ অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে। এদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ফেরি- ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন কোথাও নিরাপদ নয় কেউ। হকার কিংবা সহযাত্রী- বন্ধু সেজে সাধারণ মানুষের সবকিছু কেড়ে নেয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এদের দৌরাত্ম্য থামাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে। অনেককে ধরে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে তাদের কোনোভাবেই নির্মূল করা যাচ্ছে না। এজন্য পথচারী বা যাত্রী সবাইকে সতর্ক হতে হবে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশেই অজ্ঞান পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে নগদ টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান কাগজপত্র হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর নেপথ্যে রয়েছে তিন কারণ- অসচেতনতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপেক্ষাকৃত কম তৎপরতা এবং এই প্রতারণায় সহজ সাজা ও জামিন।

এটা সত্য, অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা বেশির ভাগই গণপরিবহণ ও ভাসমান অবস্থায় অপরাধ করে। তাই এসব চক্র থেকে রক্ষায় জনসাধারণকেই বেশি সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে চলার পথে কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ও খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে। এদের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। তবে যারা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে তারা ঝামেলা এড়াতে অনেকে মামলা করে না। আবার মামলা বা গ্রেপ্তার হলেও স্বল্প সাজা ও জামিনে বের হয়ে যায় তারা। এসব প্রতারণায় আইন কঠোর হওয়া উচিত। তা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটা কমে আসবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে