বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

নিত্যপণ্যের দাম কমানোর সুপারিশ সঠিক পদক্ষেপ নিন

নতুনধারা
  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটাসহ নিত্যপণ্যের দাম যথাসম্ভব কমানোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। এর আগে বলা হয়েছিল, ভোজ্যতেলের মতো চাল, গম (আটা-ময়দা), চিনি, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, রড এবং সিমেন্টসহ নয়টি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেবে সরকার। তবে, পাম সুপার খোলা তেল এবং চিনি এই দুইটি নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ট্যারিফ কমিশন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব পণ্যের যৌক্তিক মূল্য বের করবে। কেউ নির্ধারিত মূল্যের বেশি নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি। মনে রাখতে হবে, এ দেশের অতি মুনাফালোভী অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা সিন্ডিকেটের কারসাজি এবং বাজার সংস্কৃতির একটি উজ্জ্বল অংশ। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের অজুহাতের শেষ নেই। তারা একেক সময় একেক অজুহাত দাঁড় করায়। তারা খাদ্যে ভেজালও দেয়। পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও এই চিত্র বদলানো কঠিন। আর দাম কমানোর সুপারিশ যতই করা হোক না কেন, ব্যবসায়ীরা তা মানবে না। এর জন্য মূলত দায়ী বাজার সিন্ডিকেট। এরাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। রাতারাতি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায়। তবে কমানোর নজির একেবারেই কম। আমরা মনে করি, বাজার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হলে চলবে না। তাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এরা জনগণের স্বার্থের দিকে কখনোই নজর দেয় না। এরা বাজারসন্ত্রাসী। কীভাবে অসৎ উপায় অবলম্বন করে দ্রম্নত ধনী হওয়া যায় তাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। বাজারে সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যতালিকা টাঙিয়ে যথাযথ তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে তারা পণ্যের অতিরিক্ত দাম না নিতে পারে। দেশের অসহায় জনগণকে জিম্মি করে তারা বারবার পকেট কাটবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর আগে তারা চাল, চিনি ও পেঁয়াজের বাজার অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। লবণের ক্ষেত্রেও চেষ্টা চালিয়েছিল, সফল হয়নি। এবার তারা চাল, তেল, ডিম ও মুরগির দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। দুই দফা দাম বেড়ে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা হয়েছিল ডিমের ডজন। প্রতি হালি ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে। একটি মাফিয়া চক্র মাত্র ১৫ দিনে ডিম ও মুরগির বাজার থেকে ৫১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে। সরকার কঠোর না হলে ভবিষ্যতেও তারা একই কাজ করবে। আমরা মনে করি, বিক্রেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন যতদিন না ঘটবে ততদিন নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির থাকবেই এবং দেশের জনগণও তাদের কাছে জিম্মি থাকবে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে