শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
walton1
পাঠক মত

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

নতুনধারা
  ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে সেই প্রভাব এসে পড়েছে শিক্ষা উপকরণেও। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, যার প্রভাবে এসেছে প্রতিটি পণ্যেদ্রব্যের ওপর। মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব শিক্ষা উপকরণের ওপর আসতে দেরি হয় না। বই, খাতা ও কাগজসহ সব ধরনের শিক্ষা উপকরণের দাম প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে। সমাজের উচ্চবিত্তদের মধ্যে প্রভাব না পড়লেও শিক্ষা উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে। কুষ্টিয়া শহরে শিক্ষা উপকরণের দোকান ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের তৈরি খাতার দাম বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। সেই সঙ্গে বেড়েছে বইয়ের দামও। কাগজের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে ফটোকপির দোকানেও আগে যেখানে প্রতি পেজ ফটোকপি ১ টাকা রাখা হতো, এখন সেখানে ২ টাকা পেজ রাখা হয়। স্টেশনারি ও শিক্ষা উপকরণ বিক্রির দোকানগুলোতে ৪০ টাকার ব্যবহারিক খাতা এখন ৫০ টাকা, ৬০ টাকার খাতা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কালার পেপার রিম ৩২০ থেকে বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনি ফাইল প্রতিটি ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০ টাকা। কলমের দাম ডজনপ্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। মার্কার পেন প্রতি পিস ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। সাধারণ ক্যালকুলেটর ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জ্যামিতি বক্স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পস্নাস্টিক ও স্টিলের স্কেল ডজনপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। রাবার ডজনপ্রতি ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। কথা হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী মাসুদের সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে তাই নিজের খরচ চালাতেই হিমশিম খাই। সেই সঙ্গে শিক্ষা উপকরণ মূল্য বৃদ্ধি পড়ালেখা অসহনীয় হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা উপকরণ মূল্য বৃদ্ধি রোধে সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা অন্তত পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে। শেখপাড়ার জুনায়েদ ফটোশপের এক বিক্রেতা জানান, কাগজের দাম এখন বেশি ২৮০ টাকার কাগজ এখন ৩৫০ টাকায় কেনা লাগে তাই পেজ ফটোকপি করায় দাম বেশি। তিনি আরও জানান প্রায় প্রতিটি শিক্ষা উপকরণের দাম বেশি তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একজন অবিভাবক জানান, মাঠে চাষ করে সন্তানকে লেখাপড়া করাই। জিনিসের এত দাম সংসারের খরচ চালানো কষ্ট। তার উপর বাচ্চাডা পড়াই খরচ দিতে হিমশিম খাই। আবার শিক্ষা খরচ বাড়ছে, এত খরচ কেমনে দিমু এভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকলে মনে হয় বাচ্চাডা আর পড়াইতে পারুম না। সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলেছে যার প্রভাব এসেছে শিক্ষা উপকরণ মূল্যের উপরেও। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড সেই শিক্ষা অর্জন যদি ব্যয়বহুল হয় তাহলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ পড়াশোনা চালাতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এমনকি পড়াশোনা বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারেন অনেকে। এ ছাড়া এসব শিক্ষা সহায়ক পণ্যের ভ্যাট বা ট্যাক্স কমিয়েও যদি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে। মো. হাসান উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ কী হতে পারে? ২০১৩ সালের পরে আবারও আন্দোলন-সংগ্রামে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। মাঝেমধ্যে ঝিমিয়ে কর্মসূচি পালিত হলেও এবার বেশ জোরেশোরেই মাঠে নেমেছে তারা। তৃণমূল পর্যায় থেকে দলটির চেয়ারপার্সন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে এখন বিভাগীয় গণসমাবেশের আয়োজন করছে তারা। ইতিমধ্যে প্রায় অধিকাংশ বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণসঞ্চারের বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। সড়কপথে পরিবহণ ধর্মঘট থাকলেও সমাবেশের দুই-তিনদিন আগে থেকেই সভাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করে নেতাকর্মীরা। সঙ্গে রান্না-বান্নার প্রয়োজনীয় উপকরণও রাখে। একটি মুহূর্তও যেন ছত্রভঙ্গ না হয়, সে জন্য খাবার-দাবারের বন্দোবস্ত নিজেরাই সভাস্থলে করে রাখছে। যা রাজনৈতিক মাঠে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। বিএনপি'র সিনিয়র নেতাদের বিগত কয়েকদিনের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট তারা তাদের দাবি আদায়ে অটল। যেন তারা আটঘাট বেঁধেই এবার রাজপথে নেমেছে। মামলা-হামলা, গ্রেপ্তারে ভয় না পেয়ে মাঠের আন্দোলনেই তারা স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠান্ডা মেজাজের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত হলেও তিনিও উত্তপ্ত বক্তব্য অব্যাহত রেখেছেন। নেতাকর্মীদের সাহস সঞ্চার করতে কেন্দ্রীয় নেতারা বেশ জোর দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথমদিকে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে আন্দোলন ভিন্নপথে যাচ্ছে যা সহজেই অনুমেয়। বর্তমান সময়ে আন্দোলনে বেশ কজন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা আন্দোলনকে আরও গতিশীল করেছে। নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় সারা দেশ তৎক্ষণাৎ বিক্ষোভ মিছিলের মতো কর্মসূচি নিমিষেই বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা বিগত দুই বছর আগেও সেভাবে সম্ভব ছিল না। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও রাজপথে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। সম্প্রতি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আগমন ঘটিয়ে তাদের শক্তির প্রমাণ দিচ্ছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে জনসমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো নেতারা বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে সাবধানতার কথাও বলছে। সব মিলিয়ে তারাও বিএনপি'র আন্দোলনকে রুখে দিতে প্রস্তুত এ বিষয়টি স্পষ্টভাবেই বোঝাচ্ছে। হঠাৎই বিএনপি'র ঘুরে দাঁড়ানোয় সবাই বিস্মিত। মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যে আত্ম-কোন্দল থাকলেও বর্তমানে সবকিছু ছাপিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিই যেন মুখ্য। নেতাকর্মীদের চোখেমুখেও যেন আত্মপ্রত্যয়ের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনবান্ধব বিষয়গুলোর ওপর কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি জনসমর্থন পাচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা নিয়ে কর্মসূচি থাকায় একদম সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা খুব ভালোভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি'র ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে হাস্যরসের সুরে কটাক্ষমূলক বক্তব্যে আওয়ামী লীগকে বেশ অস্বস্তি পোহাতে হয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বিএনপি'র নেতারা তাদের বক্তব্যে জাপানি রাষ্ট্রদূতের উদ্ধৃতি টেনে বিভিন্ন মুখরোচক কথা বলায় ঘটনাটি বেশ আলোচিত হয়েছে। যার বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরালও হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভের বিষয়টি জনমনে বেশ প্রভাব ফেলেছে। অতীতে এমন আলোচনা না হলেও প্রায়ই রিজার্ভ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের বক্তব্যে বলছেন, রিজার্ভের অর্থ ব্যবহারে সরকার অনেক সাশ্রয়ী এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে, এর মাধ্যমে দেশের মুদ্রা সাশ্রয় করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে যে রিজার্ভ, তা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনন্য উচ্চতায় রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি'র নেতারা সমাবেশ ও গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলছেন, চুরি, অপব্যবহার ও লুটপাটের কারণে রিজার্ভের অর্থ কমে বর্তমানে দেশ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ জনগণের কপালে চিন্তার ভাঁজ খুব ভালোভাবেই খেয়াল করা যায়। এ বিষয়গুলো বিএনপি'র কর্মসূচিগুলোতে বিশেষভাবে স্থান পাচ্ছে, যা প্রতিনিয়তই সরকারকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপি'র ঢাকা মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী কথা শোনা যাচ্ছে। একদিকে বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ারি অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কঠোর বার্তা। বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন সময়ে বলছেন আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলবে। এতদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া'র মুক্তি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি'র আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচি থাকলেও ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে বর্তমান সরকার পতনের একদফা দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা আসবে বলে মনে ধারণা করা যাচ্ছে। বিএনপি নেতাদের দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্টত ধরে নেওয়াই যাচ্ছে সেদিন বিএনপি'র পক্ষ থেকে চলমান আন্দোলনের একটি চূড়ান্ত রূপরেখা আসবে। তবে বিএনপি'র উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্যে বলছেন ১০ ডিসেম্বর বিএনপির আন্দোলনের পতন ঘণ্টা বাজবে। সবকিছু মিলিয়ে ধারণা করা যায় ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে যাচ্ছে। শেখ রিফাদ মাহমুদ কানাইখালী, নাটোর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে