বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পদক্ষেপ নিন

নতুনধারা
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সংকট। ফলে এই সংকটের ভয়াবহতা যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি এই সংকট নিরসনে সর্বাত্মক উদ্যোগ জারি রাখাও অপরিহার্য বলেই প্রতীয়মান হয়। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, নতুন জঙ্গি সংগঠন 'জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া'র ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এলিট ফোর্র্সর্ যাব। তথ্য মতে, এই জঙ্গি সদস্যরা রাজধানীর গুলিস্তানে সংগঠনের অর্থায়নে 'ট্রাস্ট টেলিকম' নামে একটি মোবাইল এক্সেসরিজের দোকান পরিচালনা করে ব্যবসার লভ্যাংশ সংগঠনের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যয় করতেন। আবার কেউ দাওয়াতি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থেকে সংগঠনের নতুন সদস্য সংগ্রহ করতেন। সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারর্ যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেনর্ যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক খন্দকার আল মঈন। আমরা মনে করি, যখন নতুন জঙ্গি সংগঠনের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানা যাচ্ছে, তখন পরিস্থিতি কতটা ভীতিপ্রদ তা আমলে নেওয়া এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। স্মর্তব্য, এর আগেও এই বিষয়টি সামনে এসেছে যে, জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। কেননা, বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি সদস্যদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় এটা স্পষ্ট হয়, জঙ্গিদের মূলোৎপাটন হয়নি। ফলে জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জঙ্গি তৎপরতা চালানোর অভিযোগে জঙ্গি সদস্যদের গ্রেপ্তারের খবর আসে। এর মধ্য দিয়েও তাদের সক্রিয়তা প্রকাশ পায়- যা এড়ানোর সুযোগ নেই। জঙ্গিদের মূলোৎপাটনে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা। তথ্য মতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতের্ যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ওর্ যাব-১১ এর অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে 'জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া'র ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে এটা জানা যায় যে, এই জঙ্গিরা 'জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া'র দাওয়াতি, হিজরতকৃত সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধান, পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহসহ অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা ২-৪ বছর আগে নিকটাত্মীয়, বন্ধু ও স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে উগ্রবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মাধ্যমে তাত্ত্বিক, শারীরিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন বলেও জানা যাচ্ছে। আমরা বলতে চাই, সংশ্লিষ্টদের এটা মনে রাখা জরুরি- এর আগে এটা আলোচনায় এসেছিল, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের তৎপরতায় পদ্ধতিগত পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে একত্রিত করা বা একই পস্ন্যাটফর্মে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানা গিয়েছিল। এছাড়া নানা সময়েই জঙ্গিদের অনলাইন তৎপরতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জঙ্গিরা নতুন নতুন সদস্য রিক্রুট করতে অনলাইনে প্রচারণা চালায় বলে এর আগেও জানা গিয়েছিল। যদিও সাইবার পেট্রোলিং এবং সাইবার সার্ভিলেন্সের কারণে তারা ধরাও পড়েছে। আমরা মনে করি, জঙ্গিবাদকে রুখতে সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। আরও বেশি সতর্কতামূলক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এটাও স্মর্তব্য, নানা সময়ে এমন খবর সামনে এসেছে- বিভিন্নভাবেই জঙ্গিরা সদস্য বৃদ্ধির চেষ্টা করে, সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায়। ফলে এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিংবা যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে যারা তৎপর তাদের রুখে দিতে হবে। জঙ্গিবাদ নিমূর্লে করণীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। ভুলে যাওয়া যাবে না এটা সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে। জঙ্গিরা সদস্য সংগ্রহে যেভাবেই উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করুক তা রুখতে হবে। জঙ্গিদের রুখতে তৎপর থাকতে হবে। বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিকভাবে জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সদা-সতর্ক থাকা ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এমনটি কাম্য। রিকল্পিত উদ্যোগই কেবল পারে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে