সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নাদিয়ার মৃতু্য

সড়ক নিরাপদ হবে কবে?
নতুনধারা
  ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০
একের পর এক সড়কে লাশের সংখ্যা বাড়ছে। আর যে হারে শিক্ষার্থীরা সড়কে নিহত হচ্ছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। প্রসঙ্গত বলা দরকার, রাজধানীর ভাটারা এলাকায় রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহণের একটি বাসচাপায় নাদিয়া নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হন তার বন্ধু মেহেদী হাসান। নিহত নাদিয়া নর্দান ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়- রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাদিয়ার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতু্যতে সোমবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো দক্ষিণ কাওলায় সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে পুলিশের আশ্বাস পেয়ে চার দফা দাবি ঘোষণা করে সড়ক থেকে অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেন তারা। উলেস্নখ্য, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) মো. মোর্শেদ আলম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের একটি দাবি ছিল বাসচালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা। তাদের সোমবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া ভিক্টর ক্লাসিক বাসের রুট পারমিট বাতিল ও এই পরিবহণের বাস যেন সড়কে না চলে- সেই দাবির বিষয়ে জানিয়েছেন, ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহণের বাস যেন সড়কে না চলে সে বিষয়ে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। আর রুট পারমিট বাতিলের বিষয়টি একটু সময়ের ব্যাপার বলেও জানান। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা আরও দাবি জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নাদিয়ার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও কাওলা এলাকায় নাদিয়ার নামে একটি বাস স্টপেজ করা। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন আর স্টপেজ নির্মাণের বিষয়টি সিটি করপোরেশন দেখবে বলেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) জানিয়েছেন। আমরা বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের দাবি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। যেভাবে সড়ক অনিরাপদ হয়ে উঠছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বলা দরকার, এটা কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না যে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে যত মানুষ মারা যায়, তাদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি- এমন তথ্যও উঠে এসেছে। গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ শতাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী। দিনে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থীর মৃতু্য হচ্ছে সড়কে- এমনটিও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়। প্রসঙ্গত, সবার জন্য সড়ক নিরাপদ করতে চার বছর আগে ২০১৮ সালে দেশ কাঁপানো আন্দোলন করেছিল শিক্ষার্থীরা। তখন দুর্ঘটনা কমানো নিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রম্নতি দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরেছিল। কিন্তু সড়ক নিরাপদ হয়নি। ফলে নাদিয়ার মৃতু্যসহ দেশে যেভাবে শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন তা আমলে নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সড়কে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থীর মৃতু্য হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪২ শিক্ষার্থীর মৃতু্য হয়েছে ডিসেম্বরে। বিদায়ী ২০২২ সালের মে, জুলাই, অক্টোবর ও ডিসেম্বর- এই চার মাসের প্রতি মাসেই শতাধিক শিক্ষার্থীর মৃতু্য হয়েছে সড়কে। এর মধ্যে মে মাসে ১০৭ জন, জুলাইতে ১০৪ জন এবং অক্টোবরে ১২৩ শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। আর গত বছর দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৭ হাজার ৭১৩ জন। অর্থাৎ মোট নিহতের ১৬ শতাংশের বেশি ছিল শিক্ষার্থী। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাদিয়ার সড়কে মৃতু্যর দুর্ঘটনাটিকে সহজ করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটিকে আমলে নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি যেভাবে শিক্ষার্থীরা প্রাণ হারাচ্ছে সড়কে ঘাতক চাকায় পিষ্ট হয়ে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সঙ্গত কারণেই শিক্ষার্থীদের সড়কে মৃতু্যর ঘটনা যেমন আমলে নিতে হবে, তেমনিভাবে সারাদেশে যেভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ সেটিও এড়ানো যাবে না। সামগ্রিক চিত্র পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সড়ক নিরাপদ করতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে