ষোড়শ সংশোধনী

নিয়মিত আদালত খুললে রিভিউ শুনানির উদ্যোগ

নিয়মিত আদালত খুললে রিভিউ শুনানির উদ্যোগ

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগের ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদন শুনানির উদ্যোগ দ্রম্নততম সময়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, 'নিয়মিত আদালত খুললেই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা দ্রম্নত শুনানির জন্য নিয়মিত আদালতে আবেদন করব।'

২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে হাইকোর্টের এই রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও। আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধেও রিভিউ আবেদন দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষ ৯০৮ পৃষ্ঠার এ রিভিউ আবেদন দাখিল করে।

২০১৭ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের বিচারপতির আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন।

এর আগে ওই বছরের ৮ মে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি হয়। ধারাবাহিকতায় আপিল শুনানিতে আদালতে মতামত উপস্থাপনকারী ১০ অ্যামিকাস কিউরি বা আদালতের বন্ধের মধ্যে শুধু ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর ৯ অ্যামিকাস কিউরি বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধানপ্রণেতা ডক্টর কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এমআই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফএম হাসান আরিফ, সংবিধানপ্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমির উল ইসলাম, বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এর আগে ওই বছরের ৮ ফেব্রম্নয়ারি ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ।

২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে