সব নৌযানের নিবন্ধন থাকা উচিত :প্রধানমন্ত্রী

সব নৌযানের নিবন্ধন থাকা উচিত :প্রধানমন্ত্রী
বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নৌযানে যাতায়াতকারী এবং পরিচালনাকারী সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা নৌযানগুলো চালান বা পরিচালনা করেন বা যারা ব্যবসা করেন, যাত্রীদের সুরক্ষা যেমন তাদের দেখতে হবে আবার নিজেদের সুরক্ষার কথাও চিন্তা করতে হবে। প্রত্যেকটা নৌযানের রেজিস্ট্রেশনের সিস্টেথাকা উচিত। এই রেজিস্ট্রেশন না থাকার কারণে অনেক সময় কে, কার ক্ষতি করে; ক্ষতিপূরণের কি ব্যবস্থা সেগুলো করা যায় না।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যনেতুন চারটি মেরিন একাডেমি, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার অবকাঠামো ও শতাধিক জলযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সচিবালয়ের নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় প্রান্ত থেকে সময় নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। হ

শেখ হাসিনা বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদ উপলক্ষে সবাই ছুটোছুটি না করে যে যেখানে আছেন, সেভাবেই ঈদ উদ্‌যাপন করুন। তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরতে গিয়ে যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, যেই মানুষগুলোর জীবন হারায় আর যারা আপনজন হারিয়ে বেঁচে থাকেন তাদের কষ্টের কথাটাও সবাইকে একবার চিন্তা করার অনুরোধ জানাই। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তো বেঁচে থাকলে দেখা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা নৌযানে কতজন মানুষ উঠতে পারে, চলতে পারে সেটা বিবেচনায় না রেখে ঠেলাঠেলি করে একসঙ্গে বেশি লোক উঠতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেখানে নিজেদের জীবনটা চলে যেতে পারে, সেই কথাটা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে নৌপথে চলাচলের নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। যেখানে প্রতি দুই মাস পর পর ঋতুর পরিবর্তন হয়। এখন কালবৈশাখীর সময়। নৌপথে চলাচলকারী সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এই যাতায়াতটা করতে গেলেই কে যে সংক্রমিত আপনি জানেন না। কিন্তু সে যখন অন্য জায়গায় যাবে অনেক লোককে এই করোনা সংক্রমিত করবে এবং তাদের জীবন নিয়ে সংশয় দেখা দেবে।

মহামারির সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার যাতায়াতটা সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে উলেস্নখ করে তিনি বলেন, সময় দেশের মানুষের আর্থসামাজিক কর্মকান্ড যেন অব্যাহত থাকে এবং সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সরকার সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। এসময় দুস্থ মানুষের সহযোগিতায় সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে, সমুদ্রগামী জাহাজে দেশের নাবিকদের চাকরির বিশাল সুযোগকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেটে নতুন এই চার মেরিন একাডেগিড়ে তোলা হয়েছে। তাতে ব্যয় হয়েছে ৫২১ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা। বছরে ৪০০ ক্যাডেটের পাশাপাশি সমুদ্রগামী মেরিনাররা বিভিন্ন ধাপে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন এসব একাডেমিতে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ-বিআইডবিস্নউটিএর ২০টি কাটার সাকশন ড্রেজার; ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান এবং নারায়ণগঞ্জের ড্রেজার বেইজেরও উদ্বোধন করেন। নতুন ২০টি ড্রেজার নিয়ে বিআইডবিস্নউটিএর বহরে ড্রেজারের সংখ্যা হলো ৪৫টি। ছাড়া প্রশিক্ষণ জাহাজ 'টিএস ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই), বিশেষ পরিদর্শন জাহাজ 'পরিদর্শী' এবং বিআইডবিস্নউটিসির উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ 'এমভি তাজউদ্দীন আহমদ' ও 'এমভি আইভি রহমান'র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পায়রায় দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের পুনর্বাসনে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০০টি বাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন। পর্যায়ক্র৩ে হাজার ৪২৩টি পরিবারকে সেখানে পুনর্বাসন করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে