সুপার স্প্রেডের শঙ্কা বাড়াচ্ছে ঈদে ঘরমুখো মানুষ

সুপার স্প্রেডের শঙ্কা বাড়াচ্ছে ঈদে ঘরমুখো মানুষ

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই আসন্ন রোজার ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটার জন্য শপিংমল ও দোকানপাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে জনসমাগম বাড়ছে। একইভাবে বিধি-নিষেধ সত্ত্বেও নজরদারি এড়িয়ে চলা পরিবহণগুলোতে ঘরমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের পরে এই মানুষগুলোই আবার কর্মস্থলে ফিরবে। এভাবে উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে অনেকেই ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হবে। যা সামাল দিতে না পারলে ভারতের মতো সুপার স্প্রেড (নিয়ন্ত্রণহীন সংক্রমণ ও মৃতু্য) আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যায়যায়দিনকে বলছেন, গত বছর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফিরেছিলেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের লাগাম টানতে ঈদের ছুটি কমিয়ে, দূরপালস্নার পরিবহণ বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে মানুষের গ্রামে যাওয়া আটকে দেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছিল, তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিকল্প পথে মানুষ গ্রামে ছুটছেন।

পাশাপাশি ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শপিংমল ও বিপণিবিতানে উপচেপড়া ভিড় বাড়ছে।

এদিকে এর মধ্যেই শনিবার সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগ দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্তের তথ্য দিয়েছে। ভারতের এই ভয়ংকর ধরন বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনই বাড়ি ফেরা মানুষের ঠেকাতে না পারলে তাদের মাধ্যমে দেশব্যাপী সুপার স্প্রেড আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

নাম না প্রকাশের শর্তে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নেতা যায়যায়দিনকে অভিযোগ করে বলেন, মানুষের বাড়ি ফেরা ঠেকাতে সরকারি পদক্ষেপ যথাযথ ছিল না বলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি পদক্ষেপ একটি অন্যটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ দূরপালস্নার গণপরিবহণ বন্ধ রেখে শহর বা জেলার মধ্যে গণপরিবহণ চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার অন্যান্য পরিবহণের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। এতে করে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যানে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ মিলছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। দেখা যাবে ঈদ শেষে এই মানুষগুলোই আবার জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফিরবে। এভাবে তাদের মাধ্যমে যে কোনো মুহূর্তে ভাইরাসটি সুপার স্প্রেড আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব যায়যায়দিনকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করার তা করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এদিকে কয়েকজন মানুষের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের একটি থ্রেড (ভারতীয় ধরন) বাংলাদেশে আসছে। যতটুকু সম্ভব হয়েছে সরকার তাদের আইসোলেট করছে। সীমান্ত এলাকাও বন্ধ আছে। পরবর্তীতে সুপার স্প্রেড হবে কিনা সেটা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর নির্ভর করছে। তবে মানুষ যেভাবে বেখেয়ালি চলাফেরা করছে তাতে যে কোনো মুহূর্তে সুপার স্প্রেড হতে পারে। কতটুকু মাত্রায় হবে সেটা বলা যাচ্ছে না। সরকারের উচিত হবে কোনো জায়গায় এমন রোগী পাওয়া গেলে দ্রম্নততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া। কনট্রাক্ট ট্রেসিং করে রোগী চিহ্নিত ও চিকিৎসা আওতায় আনা।

আরেকটি বিষয় হলো সুপার স্প্রেডের মতো ওয়েব বা ঢেউ আসলে দ্রম্নত ব্যবস্থা নিতে এখনই একটা লেআউট প্রস্তুত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, তাদের প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ ও সেবা অবকাঠামো প্রস্তুত করে রাখতে হবে। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন ছাড়াও কোভিডের চিকিৎসায় জরুরি ওষুধের জোগান নিশ্চিতে প্রয়োজনে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। এভাবে সুপার স্প্রেড প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে