লকডাউনে শিথিলতা, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

লকডাউনে শিথিলতা, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোরতম বিধিনিষেধ (লকডাউন) অনেকটা শিথিল হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও কমে এসেছে। এতে আগের তুলনায় মানুষের চলাচল বেড়েছে। যানবাহন বাড়ায় কোনো কোনো সড়কে যানজটেও পড়তে হয়েছে রাজধানীবাসীকে। অলিগলিতে প্রায় সবধরনেরর দোকানই ছিল খোলা। ছিল স্বাস্থ্যবিধিতে উদাসীনতাও। খাবার হোটেল ও চায়ের দোকানে লোকজনকে বসে খেতেও দেখা গেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে সরকার। পরে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহণ, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রয়েছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহণ-সংরক্ষণ, ওষুধ খাত ও রপ্তানিমুখী সব শিল্পকারখানা খোলা ছিল।

সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর সব সড়কে অন্যদিনের তুলনায় ব্যস্ততা বেড়েছে। রিকশা ও অটোরিকশার দখলে ছিল ভিআইপি রাস্তাসহ সব রাস্তা। কাকরাইল-মগবাজার ভিআইপি রাস্তা, কাকরাইল, মগবাজার, মালিবাগ, শান্তিনগর, বিজয়নগর, ফকিরাপুল, রামপুরা, আজিমপুর, নিউমার্কেট, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি এলাকায় মানুষের ব্যস্ততা আগের চেয়ে ছিল বেশি। পাশাপাশি প্রধান সড়কগুলোতে বেশি ছিল ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল। সড়কের যানবাহন বাড়ার পাশাপাশি ফুটপাতেও মানুষের চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো।

পুলিশ বলেছে, পোশাক শ্রমিকদের জন্য রোববার বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল,

তার প্রভাব সোমবারও কিছুটা ছিল। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল এসেছে। তাই তাদের চলাচলের রাস্তার ওপর থেকে জিকজ্যাক ব্যারিকেডগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগে যেভাবে তলস্নাশি করা হতো, সোমবারও তাই করা হয়েছে।

রোববার কারখানা খোলার পর রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের চলাচলে যে শিথিলতা ছিল, সোমবারও একই চিত্র ছিল মিরপুরে। সেখানে পুলিশের চেকপোস্ট কমিয়ে আনা হয়েছে। এই সুযোগে কিছু অটোরিকশাও চলাচল করেছে। দু-একটা মিনিবাসও চলাচল করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া লোকজন বিধিনিষেধ ভেঙে ছোট ছোট হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে সকালের নাশতাও খেয়েছে।

কালশী সড়কেও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল ছিল আগের চেয়ে বেশি। কালশী মোড়ে মোটরবাইকের পাশাপাশি ভাড়ায় যাত্রী নিয়েছে প্রাইভেট কার চালকরা। মিরপুরের রূপনগর, পলস্নবী, আরামবাগ এলাকায় প্রায় সব ধরনের দোকানপাট খুলতে দেখা গেছে। নিত্যপণ্যের দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁ ছাড়া অন্যান্য দোকানের শাটারের এক অংশ খোলা রেখে কেনাবেচা করেছেন। পুলিশের গাড়ি এলে দোকান বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলেই আবার খুলেছেন।

ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, সাত মসজিদ রোড এলাকায়ও রিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন বেশি ছিল। অলিগলিতে দোকানপাট খোলা ছিল। গ্রিনরোড এলাকায় সড়কের পাশেই ফল ও সবজির দোকানে কিনতে ভিড় করেছিল মানুষ। সেখানে অনেকেই মানেনি স্বাস্থ্যবিধি।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান অফিসগামী মানুষের ভিড় ছিল। কিন্তু কোনো গণপরিবহণ চলেনি। তাই অসহায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিকআপ ভ্যান, ট্রাকে করে অফিস-কারখানায় যেতে দেখা গেছে। কেউ গাদাগাদি করে ভ্যানগাড়িতে করেও গেছেন। যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো তারা গেছেন রিকশায় বা মোটরবাইকে। তবে সবাইকেই কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিস্নউটিএ) তথ্য অনুযায়ী সদরঘাটে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ৩৮টি লঞ্চ এসেছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে ১১টি লঞ্চ।

এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইফতেখারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদের পর নতুন করে শুরু হওয়া বিধিনিষেধের একাদশতম দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাস্তায় বের হওয়ার অভিযোগে ৩৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৩৫ জনকে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেন। আর সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় ৩৬৬টি গাড়িকে ৮ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ট্রাফিক বিভাগ।

উলেস্নখ্য, বিধিনিষেধের দশম দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাস্তায় বের হওয়ার অভিযোগে ৩০৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০৩ জনকে জরিমানা করেছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ১০০ টাকা। আর সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় ১৮৩টি গাড়িকে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ট্রাফিক বিভাগ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে