বিশ্বজুড়ে ওমিক্রন আতঙ্ক ঠেকাতে চায় বাংলাদেশ

হ ছড়িয়ে পড়া দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধের সুপারিশ হ সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হ দেশের পোর্টগুলোতে সতর্ক বার্তা জারি হ নিউ ইয়র্কের মেয়র জরুরি অবস্থা জারি করেছেন
বিশ্বজুড়ে ওমিক্রন আতঙ্ক ঠেকাতে চায় বাংলাদেশ

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃতু্য নিম্নমুখী। এ অবস্থায় সরকার ও জনগণের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও হঠাৎ করে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। আমেরিকার দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। নিউ ইয়র্কের মেয়র জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রাষ্ট্রীয় সফরে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা করেও দুবাই থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। সারা বিশ্বে যখন এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তখন দেশেও এক অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে, বিশ্বের যেসব দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ছে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় কারিগরি কমিটি। কোভিড ১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৪৮তম সভায় এই সুপারিশ করা হয়।

কারিগরি কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, 'করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টকে

'ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন' হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর বিস্তার রোধ করার জন্য এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক দেশ, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ সে অঞ্চলের কয়েকটি দেশ (জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, বোতসোয়ানা, সোয়াজিল্যান্ড) হতে যাত্রী আগমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।'

'এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও এ সমস্ত দেশ এবং যে সমস্ত দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, সে সমস্ত দেশ হতে যাত্রী আগমণ বন্ধের সুপারিশ করা হলো। কোনো ব্যক্তি এ সমস্ত দেশে ভ্রমণের সাম্প্রতিক (বিগত ১৪ দিন) ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে তাদের বাংলাদেশে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। কোভিড ১৯ পজিটিভ হলে আইসোলেশন করতে হবে।'

'এ ছাড়া দেশের প্রতিটি প্রবেশমুখে স্ক্রিনিং পরীক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা-সংক্রান্ত ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে পালন করা (স্কুল-কলেজসহ), চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও বিভিন্ন (রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়) সমাবেশে জনসমাগম সীমিত করার সুপারিশ করা হয়।'

সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, জনগণকে কোভিড ১৯ পরীক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য বিনামূল্যে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন সংবাদ বুলেটিনে মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা জানি, ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে করোনার নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে 'ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এটি প্রতিকারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, 'আমরা দেশের পোর্ট অব এন্ট্রি বন্ধ করে দিয়েছি। সতর্ক বার্তা দিয়েছি প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও পোর্টগুলোকে। জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি সভা করছেন। দেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি।'

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, 'এখন করোনার সংক্রমণ কম বলে আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না। যেকোনো সময় সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সবাইকে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। নাক-মুখ ভালোভাবে ঢেকে সঠিক নিয়মে মাস্ক পরতে হবে। নিজে সুরক্ষিত থাকলে অন্যজনও সুরক্ষিত থাকবে।'

এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য 'ওয়ার্ল্ড হেল্‌থ অ্যাসেম্বিলি সেকেন্ড স্পেশাল সিজন' এ অংশ নিতে শনিবার যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু তিনি মাঝপথ দুবাই থেকে তার সফর বাতিল করে দেশে ফিরে এসেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করে দেশে ফিরে এসেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, ওমিক্রনের গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং এ বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা ও করণীয় ঠিক করতে গতকালই দুবাই থেকে দেশে ফিরে এসেছেন মন্ত্রী। তিনি খুব দ্রম্নত সময়ের মধ্যে দেশের জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সংবাদ সম্মেলন করে স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতির বিষয়টি দেশবাসীর কাছে তুলে ধরবেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ওমিক্রনে আক্রান্ত দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কিছু দেশের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে অনেক দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোছুল জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকবে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ বিষয়ে প্রতিবেদন করেছে।

ক্যাথি হোছুল বলেন, করোনার উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিউ ইয়র্কে এখনো শনাক্ত হয়নি। তবে সংক্রমণ এড়াতেই আগাম ব্যবস্থা হিসেবে এই কঠিন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। নতুন স্ট্রেইন ইতোমধ্যে বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে পৌঁছে গেছে।

নিউ ইয়র্কের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি গুরুতর অসুস্থ রোগী নয়- এমন রোগীদের বাসায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে আফ্রিকার সাতটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমান যোগাযোগ বন্ধ করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে