বড়পুকুরিয়া তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সংকট

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সংকট

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট, এতে লোডশেডিং আরও একধাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের আট জেলায়।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে সরবরাহ করা কয়লার উপর ভিত্তি করে, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রে বিদু্যৎ উৎপাদন হয়ে থাকে, খনির ভূ-গর্ভের কাজের জন্য গত মে মাস থেকে কয়লা উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। মজুত কয়লা দিয়ে আগস্ট মাস পর্যন্ত একটি ইউনিট

সচল রাখার কথা ছিল। কিন্তু সারা দেশে গ্যাসচালিত বিদু্যৎ কেন্দ্রে বিদু্যৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায়, গত সপ্তাহ থেকে বিদু্যৎ উৎপাদন বাড়ানোতে মজুত জ্বালানি জুলাই মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। অন্যদিকে কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে আগস্ট মাস পর্যন্ত কয়লা উৎপাদন বন্ধ থাকে। ফলে জুলাই মাসের পর থেকে বিদু্যৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রে।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রের উৎপাদন তালিকায় দেখা যায়, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রটি প্রথম দুটি ইউনিটে ২৫০ মেগাওয়াট ছিল, ২০১৭ সালে ৩৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট স্থাপনের পর এটি ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্র হলেও এখন পর্যন্ত ৫২৫ মেগাওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদন হয়নি। ২৫০ মেগাওয়াটের স্থলে উৎপাদন হয়েছে ১০০ থেকে ১৭৫ মেগাওয়াট। ৩৭৫ মেগাওয়াটের স্থলে উৎপাদন হয়েছে ১৭৫ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট।

বিদু্যৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপস্নাই কোম্পানি লি. (নেসকো) রংপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) শাহাদৎ হোসেন সরকার যায়যায়দিনকে বলেন রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদু্যতের প্রয়োজন। যা জাতীয় গ্রিড থেকে নিয়ে সরবরাহ করা হয়। সেখানে বিদু্যৎ উৎপাদন কমে গেলে, বিদু্যৎ সরবরাহ কমে যায়, বিদু্যৎ সরবরাহ কমে গেলে লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী ওয়াজেদ আলী যায়যায়দিনকে বলেন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রটি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার উপর নির্ভরশীল। কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট চালু রাখতে প্রতিদিন ৫২০০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন, কিন্তু বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে প্রতিদিন গড়ে ২৫০০ মেট্রিক টন থেকে তিন হাজার মেট্রিক টন কয়লা। এই কারণে তিনটি ইউনিট থেকে বিদু্যৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী যায়যায়দিনকে আরও বলেন বর্তমানে যে কয়লা মজুত রয়েছে তা দিয়ে চলতি জুলাই মাস পর্যন্ত বিদু্যৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, এরপর কয়লা সরবরাহর উপর নির্ভর করে বিদু্যৎ উৎপাদন করা হবে।

এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিঃ (বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী কামরুজ্জামান যায়যায়দিনকে বলেন খনির ভূ-গর্ভেও কাজের জন্য কয়লা উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রয়েছে, কাজ শেষ হলেই আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আবারও কয়লা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে