বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৫৮, আহত ৫৪০০

ম যাযাদি রিপোর্ট
  ০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার ৩৮৭টি ঘটনায় ৫৮ জন নিহত এবং প্রায় ৫ হাজার ৪০০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সহিংসতার সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে কুমিলস্নায়। এই জেলায় গত ৯ মাসে ২৫টি সহিংসতার ঘটনায় দুইজনের মৃতু্যসহ ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামে ২৩টি ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৩০২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রকাশিত গত ৯ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির পরিসংখ্যান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বছরের প্রথম ৯ মাসের রাজনৈতিক সহিংসতার তথ্য বিশ্লেষণ করে আসক জানায়, স্থানীয় নির্বাচনসহ রাজনৈতিক কারণে দেশের ৬৪টি জেলার প্রায় সবক'টিতেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃতু্য, অপহরণ ও রহস্যজনক নিখোঁজ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে হয়রানি, সীমান্তে নির্যাতন ও হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে বলে উলেস্নখ করেছে সংগঠনটি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আসক জানায়, গত ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ জন পুলিশ কর্তৃক এবং পাঁচজনর্ যাব কর্তৃক এবং একজন ডিবি পুলিশ কর্তৃক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন, শারীরিক নির্যাতনে সাতজন, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে একজন, অসুস্থ হয়ে তিনজন মারা যান। এছাড়া হেফাজতে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে একটি। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে চারজনকে অপহরণের কথা উলেস্নখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন ফেরত এসেছেন এবং একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুইজন এখনো নিখোঁজ আছেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ সময়ের মধ্যে দু'টি ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের চারটি বাড়িঘরসহ ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে নড়াইল জেলায় হামলার ঘটনা ছিল উলেস্নখযোগ্য। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৯ মাসে ১৭৯ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি, মামলা ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন অন্তত ৬৬ জন সংবাদকর্মী। দুর্বৃত্তদের গুলিতে কুমিলস্নায় নিহত হয়েছেন একজন সাংবাদিক। গত ৯ মাসে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২০৯ জন নারী-পুরুষ। তাদের মধ্যে হামলার শিকার হয়েছেন ১৩৬ জন নারী ও ৭৩ জন পুরুষ। বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ১২০ জন, বখাটেদের সঙ্গে সংঘাতে আহত হয়েছেন ৭৪ জন। যৌন হয়রানির কারণে সাতজন নারী আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৭৩৪ নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৪ নারীকে। এছাড়া ১২৮ জন নারী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন। এ সময়ে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৩৬৭ জন নারী। তাদের মধ্যে ২২৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৬৭ জন নারী। এছাড়া শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৭২ জন নারী। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪৮ জন নারী। যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৬৯ জনকে এবং যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ছয়জন নারী। তাদের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬২ জন। এ সময়কালে মোট ১৯ জন গৃহকর্মী বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের মৃতু্য হয়েছে। এছাড়া এসিড হামলার শিকার হয়েছেন মোট ১১ জন নারী। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের প্রায় সবক'টি জেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ঢাকায় ৬৪, নারায়ণগঞ্জে ৫৯টি ঘটনা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গত ৯ মাসে মোট ১ হাজার ২৭৮ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে উলেস্নখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছে ২৪০ জন শিশু, আত্মহত্যা করেছে ৪৪ শিশু, বিভিন্ন সময়ে মোট ৯১ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ সময় ঢাকায় ৫৪, নারায়ণগঞ্জে ২৪, গাজীপুরে ২১, কুমিলস্নায় ১৬ এবং চট্টগ্রামে ১৫ শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নির্যাতন ও ধাওয়ায় নিহত হয়েছেন ১২ বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া আহত হয়েছেন সাতজন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন আটজন। কারা হেফাজতে ৯ মাসে মারা গেছেন ৫৪ জন। এর মধ্যে কয়েদি ২০ জন এবং হাজতি ৩৪ জন। একই সময়ে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন মোট ২৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে নিহতের সংখ্যা ১৫ জন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে