মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

বেড়েছে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি

১১ মাসে প্রায় ১১ লাখ কর্মী বিদেশ গেছেন অর্ধেকেরও বেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষকর্মী রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা
রেজা মাহমুদ
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
চলিত বছরে রেকর্ড পরিমাণ জনশক্তি রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বু্যরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তবে বেড়েছে দক্ষকর্মী প্রেরণের সংখ্যা; সংস্থাটির দাবি এবার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কর্মী দক্ষ ও আধা-দক্ষ। এদিকে প্রতি মাসের হিসাবে গড়ে প্রায় ৯৩ হাজারেরও বেশি কর্মী বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। যা এর আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ হাজার বেশি। সংস্থাটির ধারণা, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ১১ থেকে ১২ লাখ হতে পারে। এদিকে এবারই প্রথম দক্ষ শ্রমিক রপ্তানির পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বিগত বছরগুলোয় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দক্ষ শ্রমিক রপ্তানিতে ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে বিএমইটি পরিচালিত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলো থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় দক্ষকর্মী নেওয়ার নীতি গ্রহণ করায় এই সংখ্যা বেড়েছে। অতীতে মাত্র ১০ শতাংশ দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক রপ্তানি করা হলেও এ বছর ৫০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ দক্ষ ও আধা-দক্ষকর্মী বিভিন্ন শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন। বিএমইটি কর্মকর্তারা যায়যায়দিনকে বলেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর প্রায় ১২ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানো যাবে। যার বেশিরভাগই হবে দক্ষকর্মী। সংশ্লিষ্টরা বলেন, মূলত বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ কর্মী রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। এর বাইরেও কূটনৈতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও কর্মীদের দক্ষতা তৈরির ফলে বিদেশে এত কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। বিএমইটি'র সহকারী পরিচালক মো. রাহেনুর যায়যায়দিনকে বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধির ফলে রেকর্ড পরিমাণ জনশক্তি রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের কোম্পানিগুলোয় বাংলাদেশি কর্মীর কোটা ২৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীতকরণ, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ব্যাপক সুযোগ তৈরি হওয়ায় তা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতায় দেশে রোমানিয়ার কনসু্যলেট চালুর ফলে এ বছর প্রায় ৫ হাজার কর্মী দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া গ্রিস ও ইতালিসহ কয়েক হাজার কর্মী গিয়েছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। পাইপলাইনেও রয়েছেন আরও কয়েক হাজার কর্মী। অন্যদিকে সরকারের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন আরও কয়েক হাজার দক্ষকর্মী। যারা প্রত্যেকেই দক্ষ হওয়ায় কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নিয়ে দেশগুলোয় প্রবেশ করেছেন। এদিকে প্রায় ৫ বছর পর এ বছর ফের চালু হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সরকারি হিসাবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩১ হাজার ৭৪৫ জন দেশটিতে প্রবেশ করেছেন। বিএমইটি বলছে, বেশকিছু নীতি গ্রহণ ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে তা সম্ভব হয়েছে। জানা গেছে, অনেক কর্মী যারা অদক্ষ হিসেবে এর আগে বিদেশ গিয়েছেন। কিন্তু সেখানে কাজ করে অনেকেই দক্ষ হয়েছেন ও পরে দেশে ফেরত এসেছেন। তাদের আরপিএল টেস্টের মধ্যমে দক্ষতা যাচাই করে সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে আবার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া টিটিসির (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের) ডাটা বেজ থেকে প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মী রপ্তানি নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সংখ্যায় কর্মী পাঠানো হবে এখান থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে যারা প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ যেতে পারছে না তারাও ফলোআপের মধ্যে থাকবে। মূলত বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তায় দক্ষতা যাচাই-বাছাই করে কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া করোনা পরবর্তী সময়ে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও গার্মেন্টস শ্রমিকের চাহিদাও ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে গৃহ পরিচারিকা হিসেবে বিদেশ যাওয়া কর্মীদের আগে মাসব্যপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো যা এখন বাড়িয়ে দু-মাস করা হয়েছে। ফলে অদক্ষ কর্মীরাও আধা-দক্ষ হিসেবে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষ শ্রমিক রপ্তানির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও স্থিতিশীল হবে যা দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে ২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন। তবে করোনায় ২০২০ সালে মাত্র ২.১৭ লাখ কর্মী প্রবেশ করতে পেরেছিল বিভিন্ন শ্রমবাজারে। সবকিছু ঠিক থাকলে জনশক্তি রপ্তানিতে রেকর্ড করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এমনটা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে