বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

বিএনপির হাবিব উন নবীসহ ৪৯ নেতাকর্মীর সাজা

যাযাদি ডেস্ক
  ২১ নভেম্বর ২০২৩, ০০:০০
বিএনপির হাবিব উন নবীসহ ৪৯ নেতাকর্মীর সাজা

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবসহ ৪৯ জন নেতাকর্মীকে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) ম্যাজিস্ট্রেট আতাউলস্নাহ ও মোহাম্মদ শেখ সাদী এই রায় দেন। চারটি মামলায় তাদের এই কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান (হাবীব), ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিম (নকি), বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের সাজা হয়েছে।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, 'একের পর এক বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে এবং নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের অযোগ্য করার জন্যই এই সাজা হচ্ছে।'

মামলার এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যার সময় নিউমার্কেটের চার নম্বর গেটে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির ১৩ নেতাকর্মীর নাম উলেস্নখ করে পুলিশ নিউমার্কেট থানায় মামলা করে। পরে তদন্ত করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

তাতে বলা হয়, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য সেদিন বিএনপি নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেল, আজিজুল বারী হেলাল ও মীর সরাফাত আলী সফুর জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশের দেওয়া ওই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত ২০২১ সালের ১৫ মার্চ বিএনপি নেতা হাবিবুর নবী খান সোহেলসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এই মামলায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাক্ষী করা হয়েছিল ২০ জনকে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সাক্ষী হাজির করেছেন পাঁচজন। আর ওই পাঁচজনই ছিলেন পুলিশ বাহিনীর সদস্য। প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত ১৭ জুলাই।

আর পঞ্চম নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয় গত ৯ নভেম্বর। রোববার ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আতাউলস্নাহ এই রায় দেন। দন্ডবিধির ১৪৩ (বেআইনি সমাবেশ) ধারার অপরাধে হাবীব উন নবী খান সোহেলসহ ১৪ জনের ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আর দন্ডবিধির ৩২৩ (আঘাত) ধারায় সোহেলদের এক বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৫ সালে মে মাসে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেওয়ার মামলায় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবসহ সাতজনকে দুই বছর কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। দন্ডবিধির ৪৩৫ (বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে আগুন দেওয়া) ধারায় সাইফুল ইসলামদের সাজা দিয়েছেন আদালত। ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদী আজ এই রায় দেন। এই মামলায় পুলিশ চারজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দু'জন পুলিশ বাহিনীর সদস্য।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে করা আরেকটি মামলায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলামসহ ১৪ জনকে দুই বছর তিন মাস করে সাজা দিয়েছেন আদালত। দন্ডবিধির ১৪৩ (বেআইনি সমাবেশ) ধারার অপরাধে রফিকুলসহ ১৪ জনের ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আর দন্ডবিধির ৩৩২ (সরকারি কাজে বাধা দেওয়া) ধারায় তাদের প্রত্যেকের দুই বছর কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় করা অপর একটি মামলায় বিএনপির ১৪ জন নেতাকর্মীর দুই বছর তিন মাস করে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আতাউলস্নাহ এ রায় দেন।

রায়ের সময় আসামিদের কেউ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বিএনপি নেতাদের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, নীহার হোসেন ও তাহেরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অনেক নেতাকর্মীর মামলার বিচার শেষপর্যায়ে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে