বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

মুক্তিপণ দিয়েও মা ফিরে পেলেন সন্তানের লাশ

মাসুম পারভেজ, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)
  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

অপহরণকারীদের কথামতো ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও সন্তানকে জীবিত ফেরত পেলেন না বাবা-মা। দুইদিন আগে অপহৃত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তাওহীদের মরদেহ সোমবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুলস্নাহপুর থেকে আধা কিলোমিটার দূরে বনের ভেতর একটি আবর্জনার পাশ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় মুক্তিপণের টাকা আদায়ের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী মো. মকবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার ও মুক্তিপণের তিন লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছের্ যাব-১০। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাওহীদ নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১০ ফেব্রম্নয়ারি শনিবার তাওহীদ প্রতিদিনের মতো ক্লাসে যায়। কিন্তু মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় তার মা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর তার মোবাইলে

তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি কল আসে। ফোনে বলা হয়, 'আসসালামু আলাইকুম। আপনার ছেলে ভালো আছে। কেরানীগঞ্জেই আছে, আজকের মধ্যে তিন লাখ টাকা দিলে ছেলে পাবেন। বিষয়টি পুলিশ ও এলাকার কাউকে জানাবেন না। জানালে আপনার ছেলে তাওহীদের ক্ষতি হবে।'

অপহরণকারীদের চাহিদামতো নিহতের মা তাসলিমা বেগম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ফুটওভার ব্রিজের নিচে পিলারের গোড়ায় ৩ লাখ টাকা রেখে আসেন। কিন্তু অপহরণকারীরা মুক্তিপণ পেয়েও তাওহীদকে হত্যা করে।

নিহত তাওহীদ কেরানীগঞ্জ উপজেলার আব্দুলস্নাহপুর রসুলপুর জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। তার পিতা উজ্জ্বল হোসেন (প্রবাসী) ও মা তাসলিমা বেগম গৃহিণী। এ ঘটনায় তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, 'মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তাওহীদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃতু্যর কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।'

এদিকে, মুক্তিপণের টাকা আদায়ের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র?্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান,র্ যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তাওহীদকে অপহরণ ও হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুমের পরও মুক্তিপণের টাকা আদায়ের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী মকবুল হোসেনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মুক্তিপণের তিন লাখের মধ্যে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।'

তিনি জানান, গ্রেপ্তার মকবুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। ভিকটিমের পরিবার ও গ্রেপ্তারকৃত মকবুল একই এলাকায় বসবাস করতেন এবং কিছুদিন আগে গ্রেপ্তার মকবুল ভিকটিমের বাসায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেছেন বলে জানা যায়। একই এলাকায় বসবাস এবং বাসায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার সুবাদে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। ভিকটিম তাওহীদের বাবা প্রবাসী বলে জানান র্?যাবের এ কর্মকর্তা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে