রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

ম স্বদেশ ডেস্ক
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
১ অক্টোবর পঞ্চমী তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। শিশির ভেজা দূর্বাঘাসের ওপর ঝরে পড়া বকুল ফুল কুড়ানোর সময়টাতে মাতৃবন্দনায় মিলিত হবেন মাতৃভক্তবৃন্দ সবাই। ইতোমধ্যেই মন্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ। তাই ব্যস্ত সময় কাটছে মৃৎশিল্পীদের। পূজা আনন্দঘন এবং শান্তির্পূণ করতে পুলিশসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তত্মুতি নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জানান, এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলায় ২২টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজা উপলক্ষে গত বুধবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চন্দন কুমার ঘোষ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দীপক কুমার ঘোষ, সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহার মিয়া মালদার, শ্রী শ্রী রাঁধা মাধব আখড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলক কুমার চক্রবর্তী প্রমুখ। সভায় প্রতিটি পূজামন্ডপে সিসি টিভি লাগানো ও সূর্যাস্তের আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের মাধবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা ১২৪টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে শিল্পীদের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় পূর্ণরূপে ফুটে উঠছে দৃষ্টিনন্দন অধিকাংশ প্রতিমা। এ কাজে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা। উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন রায় জানান-সরকারি নির্দেশনা মেনে উপজেলায় এবার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে ১২৪টি মন্ডপে পূজা উদ্‌যাপন করা হবে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এ উৎসব সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের কাটিয়ারার প্রতিমা শিল্পী রিপন পাল জানান, প্রতি বছর তিনি ২৫ থেকে ৩০ সেট প্রতিমা তৈরির ফরমাশ নেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ইতোমধ্যে ৭ সেট প্রতিমা বিক্রি করেছেন। প্রতি সেট প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। বিক্রি করেন ২৫ হাজার টাকায়। থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দুর্গোৎসব উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো। আইনশৃঙ্খলার যেন কোনো অবনতি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছেন। চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে বাগেরহাটের চিতলমারীতে মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আর মাত্র কয়েকদিন বাদে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসব ঘিরে চারদিকে এখন সাজ সাজ রব। পাশাপাশি কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় মোট ১৪৯টি মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সময় ঘনিয়ে আসায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। অনেক মন্দিরে ঘুরে দেখা গেছে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন তারা। উপজেলার ডুমুরিয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের ভাস্কর তপন রায় জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন রংতুলির কাজ চলছে। দুই থেকে চার দিনের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে। এ বিষয়ে চিতলমারী থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্গাপূজা সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিটি মন্দির কমিটিকে সার্বক্ষণিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চন্দনাইশে এ উৎসব ঘিরে প্রতিমা সাজিয়ে তুলতে বিভিন্ন মন্ডপে চলছে প্রতিযোগিতা। ইতোমধ্যে খড় আর কাদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছেন মৃৎশিল্পীরা। দু-এক দিনের মধ্যে শুরু হবে রংতুলির কাজ। অপরূপ সাজে সাজানো হবে পূজামন্ডপ। উপজেলার হাশিমপুর, গাছবাড়ীয়া, বরমাসহ বিভিন্ন পূজামন্ডপে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৃৎশিল্পীরা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। তারা বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ করে যা আয় হবে তা দিয়ে সংসার চলানো কঠিন। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি। সে হিসাবে মজুরি পাওয়া যাচ্ছে না। চন্দনাইশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বলরাম চক্রবর্তী বলেন, 'বিগত দুই বছর করোনার কারণে ঢিলাঢালাভাবে দায় সেরেছিল পূজামন্ডপ কমিটি। এ বছর আশায় বুক বেঁধেছেন। কিন্তু বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবারও লোকসান গনতে হতে পারে। পূজামন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলার ১২৫টি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক সদস্য কাজ করবে। এবং পুলিশ, আনসার বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে বলে জানিয়েছেন চন্দনাইশ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে